in , ,

ধামাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করলো বাংলাদেশ ব্যাংক

জুমবাংলা ডেস্ক: গত বছর নভেম্বর থেকে অনলাইনে ব্যবসা করে আসছে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধামাকা। কিন্তু এখন পর্যন্ত তাদের কোনো প্রাতিষ্ঠানিক ব্যাংক অ্যাকাউন্ট নেই। বিভিন্ন নামে খোলা ১৪টি অ্যাকাউন্টে লেনদেন করত তারা।

পরবর্তীতে ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ধাকামা শপিং ডটকমের বিরুদ্ধে গ্রাহকদের কাছ থেকে নেওয়া অর্থ পাচারের তথ্য পাওয়ার পর কোম্পানিটির ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) জসিম উদ্দিন চিশতির ব্যক্তিগত ব্যাংক অ্যাকাউন্টসহ ধামাকা সংশ্লিষ্ট ১৪টি ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

এর মধ্যে জসিম উদ্দিন চিশতির পাঁচটি এবং তার মালিকানাধীন ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের সাতটি এবং মাইক্রো ট্রেড ও মাইক্রো ফুড অ্যান্ড বেভারেজের একটি করে অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) তদন্তে জানা গেছে, নভেম্বর থেকে এখন পর্যন্ত ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকের থেকে নেওয়া প্রায় ৫০ কোটি টাকা পাচার করে। এমন তথ্যের ভিত্তিতে সিআইডি বাংলাদেশ ব্যাংককে সংশ্লিষ্ট একাউন্টগুলি ফ্রিজ করে দেওয়ার অনুরোধ জানায়।

এছাড়াও সোমবার (২৬ জুলাই) প্রতিষ্ঠানটির চিফ অপারেটিং অফিসার সিরাজুল ইসলাম রানাসহ পাঁচ কর্মকর্তার জাতীয় পরিচয়পত্র নাম্বার ব্লক করে দেওয়া হয় এবং তাদের ওপর বিদেশ ভ্রমণের নিষেধাজ্ঞাও আরোপিত হয়। এ পাঁচ কর্মকর্তার ব্যাংক অ্যাকাউন্ট জব্দ করতেও কেন্দ্রীয় ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে সিআইডি। তবে কোম্পানিটির এমডি জসিম উদ্দিন আগে থেকেই বিদেশে রয়েছেন।

আপাতত আগামী ৩০ দিনের জন্য ব্যাংক একাউন্টগুলো জব্দ করা হয়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট সিআইডিকে জানিয়েছে, আরও লম্বা সময়ের জন্য অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করে রাখার দরকার হলে আদালতের রায়ের মাধ্যমে তা কার্যকর করা হবে।

এ ব্যাপারে সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের বিশেষ পুলিশ সুপার হুমায়ুন কবির সংবাদমাধ্যমকে বলেন, প্রাথমিক তদন্তে অর্থপাচারের তথ্য পাওয়ার পর ধামাকার ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলো জব্দ করার জন্য আমরা বাংলাদেশ ব্যাংককে অনুরোধ করে চিঠি দিয়েছিলাম। তার পরিপ্রেক্ষিতেই প্রতিষ্ঠানটির ১৪টি অ্যাকাউন্ট জব্দ করেছে বাংলাদেশ ফাইন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিট।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, জব্দ করা ব্যাংক অ্যাকাউন্টগুলোর মধ্যে ব্র্যাক ব্যাংকের তিনটি, ডাচ বাংলা ব্যাংকের তিনটি, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেডের একটি, দ্য সিটি ব্যাংকের পাঁচটি, সাউথ-ইস্ট ব্যাংকের একটি ও প্রাইম ব্যাংকের একটি করে অ্যাকাউন্ট রয়েছে।

সিআইডির কর্মকর্তারা জানান, ধামাকা শপিংয়ের নামে ই-কমার্স ব্যবসার কোনো লাইসেন্স নেই। ইনভেরিয়েন্ট টেলিকম বাংলাদেশ লিমিটেডের নামে অবৈধভাবে গ্রাহকদের কাছ থেকে টাকা আদায় করে চলছিল প্রতিষ্ঠানটি। ইনভেরিয়েন্ট টেলিকমের লাইসেন্সে ই-কমার্স ব্যবসার অনুমতি নেই বলে নিশ্চিত হয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা।

ই-কমার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ই-ক্যাব) সাধারণ সম্পাদক আব্দুল ওয়াহেদ তমাল সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ইভ্যালির মতো বিজনেস মডেল ও নানা অভিযোগ থাকায় আমরা ইতোমধ্যেই ধামাকার বিরুদ্ধে কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়েছি। অর্থপাচারের বিষয়ে নিশ্চিত হলে ধামাকার মেম্বারশিপ বাতিল করা হবে।

গত বছরের নভেম্বর মাসে যাত্রা শুরু করে ধামাকা। ইভ্যালির মতো গাড়ি, বাইকসহ বিভিন্ন পণ্যে ধামাকা ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ পর্যন্ত অফার দিয়ে গ্রাহকদের থেকে মোটা অংকের টাকা অগ্রিম হিসেবে তুলে নিয়েছে। পরে প্রতিষ্ঠানটি মার্সিডিজ বেঞ্জসহ নামীদামি বিভিন্ন ব্যান্ডের গাড়িতে ৩৫ শতাংশ অফার দিয়ে চমক সৃষ্টি করে।

অনলাইনে খুব সহজে টাকা ইনকাম করার উপায়