সরকারি চাকরিজীবীদের জন্য প্রস্তাবিত নবম জাতীয় পে স্কেল আগামী ১ জুলাই থেকে কার্যকরের ঘোষণা দিয়েছে সরকার। তবে জানা গেছে, প্রাথমিকভাবে সব স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য বেসিকের ৫০ শতাংশ বৃদ্ধির পরিকল্পনা থাকলেও সরকার সে পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে।

নতুন পরিলকল্পনা অনুযায়ী, নিম্ন ও মধ্যম স্তরের কর্মচারীদের বেসিক বেশি বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এ ক্ষেত্রে ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। প্রথম থেকে নবম গ্রেডের কর্মকর্তাদের বেতন তুলনামূলকভাবে কম বৃদ্ধি পেতে পারে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে নবম পে স্কেল নিয়ে আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির সম্ভাব্য কাঠামো নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের মতবিনিময় করা হয়।
জানা গেছে, আলোচনায় প্রথম থেকে নবম গ্রেড পর্যন্ত কর্মকর্তাদের মূল বেতন যত বৃদ্ধি করা হবে, তার ৪০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে কার্যকর করার সম্ভাবনা রয়েছে। এছাড়া ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের মূল বেতন বৃদ্ধির ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত বাড়তির ৬০ শতাংশ আগামী অর্থবছরে প্রদানের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে সরকারের নীতিনির্ধারণী পর্যায়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপ বিবেচনায় নিম্ন আয়ের সরকারি কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির ওপর বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
ফলে নতুন পে স্কেলে গ্রেডভিত্তিক বৈষম্য কিছুটা কমিয়ে আনার চেষ্টা করা হচ্ছে। নবম পে স্কেলের চূড়ান্ত কাঠামো, বেতন বৃদ্ধির হার এখনো চূড়ান্ত হয়নি। বিষয়টি নিয়ে সরকারের উচ্চপর্যায়ে আরো আলোচনা হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় ও সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের মতামত নেওয়ার পর চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
এদিকে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত নবম পে স্কেলের গেজেট এখনো জারি হয়নি।
বর্তমানে জনপ্রশাসনে ২০টি গ্রেডে কর্মচারীরা কাজ করছেন। তাদের মধ্যে প্রথম শ্রেণির কর্মচারীরা বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে ৯ম গ্রেডে নিয়োগ পান। আর ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডে অন্যান্য শ্রেণির কর্মচারীরা নিয়োগ পেয়ে থাকেন।
চলতি বছরের ২ এপ্রিল জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী আবদুল বারী জাতীয় সংসদে সরকারি কর্মচারীদের জনবল সংক্রান্ত সর্বশেষ তথ্যের ভিত্তিতে জানান, দেশে সরকারি চাকরিতে ১৪ লাখ ৫০ হাজার ৮৯১ জন কর্মরত আছেন। এর মধ্যে গ্রেড-১ থেকে গ্রেড-৯ পর্যন্ত, অর্থাৎ প্রথম শ্রেণিতে কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা ১ লাখ ৯০ হাজার ৭৭৩ জন। বাকি ১২ লাখ ৬০ হাজার ১১৮ জন ১০ম থেকে ২০তম গ্রেডের পদগুলোতে কর্মরত।
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
তিনি আরো জানান, দ্বিতীয় শ্রেণিতে কর্মরত ২ লাখ ৩৩ হাজার ৭২৬ জন, তৃতীয় শ্রেণিতে ৬ লাখ ১৩ হাজার ৮৩৫ জন, চতুর্থ শ্রেণিতে ৪ লাখ ৪ হাজার ৫৫৭ ও অন্যান্য শ্রেণিতে কর্মরত কর্মচারীর সংখ্যা ৭ হাজার ৯৮০।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



