
এদিকে প্রতি মুহূর্তে সন্তানের কথা চিন্তা করে কেঁদে বুক ভাসাচ্ছেন মা ঝর্ণা বেগম (৫০)। কোনো অবস্থাতেই তিনি নয়নকে ভুলতে পারছেন না। এমনকি স্বজনরাও নয়নের জন্যে হাহাকার করছেন।
গত ৫ আগস্ট সকালে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে হবিগঞ্জের বানিয়াচং উপজেলায় পুলিশের গুলিতে শহীদ হন নয়ন হোসেন। তিনি বানিয়াচং উপজেলার কামালখানী মহল্লার মৃত আলী হোসেনের (৫৫) ছেলে।
নয়ন বন্ধুদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে প্রতিদিনই আন্দোলনে যেতেন। মারা যাওয়ার দিনেও এক বন্ধুর ফোন পেয়ে আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।
অল্প বয়সেই নয়ন বাবাকে হারান। এরপর থেকেই ছয় বোন ও মায়ের দায়িত্ব তুলে নেন নিজের কাঁধে। একটি মিশুক চালিয়ে সংসারের সকল খরচ মেটাতেন তিনি।
গত ৫ আগস্ট দুপুরে ছাত্র-জনতার আন্দোলনে বন্ধুদের সাথে বিজয় মিছিলে যোগ দিয়েছিলেন নয়ন। হঠাৎ মিছিলে হামলা চালায় পুলিশ। সেখানে পুলিশের গুলিতে ঘটনাস্থলেই শহীদ হন নয়ন।
তার মৃত্যুতে পরিবারে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। চরম দুর্ভোগে পড়ে পরিবারের সদস্যরা। কারণ পরিবারের একমাত্র অবলম্বন ছিলেন তিনি। তাই তার পরিবার চলে এখন অন্যের দয়া ও সহযোগিতায়।
নয়ন ছিল পরিবারের ছয় বোনের মাঝে চতুর্থ। তিনি মারা যাওয়ার পর সংসারের ঘানি টানছেন তার মা।
শহীদ নয়নের মা ঝর্ণা বেগম জানান, আমার পরিবারের একমাত্র ছেলে নয়ন মিশুক (ইজিবাইক) চালিয়ে কষ্ট করে সংসার চালাতো। তিনি মারা যাওয়ার পর বিএনপি ও জামায়াতের কাছ থেকে কিছু অনুদান ও সহযোগিতা পেয়েছি। এখন আমাদের সংসার চলে অন্যের দয়ায়। পরিবারে কোনো উপার্জনকারী ব্যক্তি নেই। ভীষণ কষ্ট করে আমাদের চলতে হচ্ছে। সরকার সাহায্য না করলে আমাদের আর বাঁচার উপায় থাকবে না।
নিহত নয়নের বড়বোন সোহেনা বেগম জানান, ‘আমাদের পরিবারে একমাত্র পুরুষ সদস্য ছিল নয়ন। আমার ভাই নয়ন আমাদের দেখাশুনা করত। এখনো আমার তিন বোন অবিবাহিত রয়েছে। তাদের বিয়ের ব্যবস্থা কে করবে, কে আমাদের খাওয়াবে এই চিন্তায় ঘুম নেই। নয়ন ছিল আমাদের নয়নমণি।’
তিনি বলেন, সরকারের কাছে দাবি আমাদের একটু সহযোগিতা করুন। তাহলে আমরা কোনো রকম বেঁচে থাকতে পারব। আমাদের সবশেষ হয়ে গেছে। দেখার কেউ নেই।
তিনি আরো বলেন, আমরা চাই সুষ্ঠ তদন্ত করে ভাইয়ের হত্যার বিচার হোক। বিচার পেলে কিছুটা হলেও নিজেকে সান্ত্বনা দিতে পারব।
প্রতিবেশী নূরজাহান বেগম জানান, নয়ন মারা যাওয়ার পর, এখন তাদের আর দেখার কেউ নেই। প্রতিবেশীরা মাঝেমধ্যে পরিবারটিকে সাহায্য-সহযোগিতা করে থাকে। তবে এই সহযোগিতা খুবই নগন্য। দরকার সরকারি সাহায্য, সহযোগিতা। সরকার পরিবারটির পাশে দাঁড়ালে তারা বেঁচে যেত।
সূত্র : বাসস
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



