আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সৌদি প্রবাসী কর্মীরা নির্দিষ্ট আকামা ব্যতীত অন্য কোন জায়গায় কাজ করলে সৌদি সরকারের প্রচলিত আইন অনুযায়ী সেই কর্মী অবৈধ ঘোষিত হবে। এছাড়াও সৌদি সরকার কর্তৃক নির্দিষ্ট কিছু পেশা বা সেক্টরে ননসৌদিদের কাজ করা নিষিদ্ধ ঘোষণা করায় ওই সকল পেশায় যদি কোনো প্রবাসী নিযুক্ত থাকেন তিনিও অবৈধ হিসেবে বিবেচিত হবেন।
সম্প্রতি সৌদি আরবে বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক সৌদি প্রবাসী বাংলাদেশীদের অবগতির জন্য এক প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ দূতাবাস বলছে, সৌদি আরবে অবস্থিত প্রবাসী কর্মীদের জন্য সৌদি সরকার ঘোষিত সাধারণ ক্ষমার সুযোগ সর্বশেষ ২০১৭ সালের নভেম্বর মাসে শেষ হয়ে গেছে। উক্ত কর্মসূচি শেষ হওয়ার পর সৌদি সরকার ঘোষিত ‘Nation without violation’ প্রোগ্রামের আওতায় সৌদি আরবের বর্ডার ও শ্রম আইন ভঙ্গকারি প্রবাসী কর্মীদের সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা সৌদি সরকারের অর্থায়নে ডিপোর্টেশন সেন্টারের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দেয়।
সেখানে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রবাসী বাংলাদেশী অনেক কর্মী স্পন্সরের নিকট হতে আকামা নিয়ে তথাকথিত ফ্রি ভিসায় বাইরে কাজ করে অথবা ব্যবসা করে এবং তারা মনে করে আকামা থাকায় তাদের বৈধতার জন্য যথেষ্ট। কিন্তু কোন কর্মীর কাছে শুধু এটাই তার বৈধতার প্রমাণ হিসেবে যথেষ্ট নয়। যদি কেউ স্পন্সরের বাইরে কাজ করে অথবা স্পন্সর হতে পালিয়ে যায় কিংবা আকামা, বর্ডার ও শ্রম আইনের কোন ধারা ভঙ্গ করে তাহলে সৌদি আইন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এসব সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে তাকে আটক করে সৌদি সরকারের অর্থায়নে ডিপোর্টেশন সেন্টারের মাধ্যমে নিজ নিজ দেশে ফেরত পাঠিয়ে দিতে পারে।
দূতাবাস বলছে, নিয়ম অনুযায়ী কোন কর্মী ডিপ্রেশনে আটক থাকা অবস্থায় উক্ত নিয়োগকারী যদি মনে করেন যে, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা নিয়মবহির্ভূতভাবে তার কর্মীকে আটক করেছে। তাহলে তিনি সংশ্লিষ্ট অঞ্চলের আমিরের অফিসে (গভর্নরের কার্যালয়) আবেদন করে উক্ত কর্মীকে ছাড়িয়ে নিতে পারেন।
বাংলাদেশ দূতাবাস আরো বলছে, দূতাবাসের একজন প্রতিনিধি প্রতি কর্মদিবসে রিয়াদস্থ ডিপোর্টেশন সেন্টারে সৌদি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক আটক বাংলাদেশিদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে তাদের বক্তব্য শ্রবণ, তথ্য সংগ্রহসহ অন্যান্য কার্যাবলী সম্পাদন করে থাকেন। আটক বাংলাদেশি কর্মী যদি সাক্ষাৎকালে দূতাবাসের উক্ত প্রতিনিধিকে জানান যে, তিনি নির্দোষ। তাহলে দূতাবাসের তরফ হতে নিয়ম মোতাবেক সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে এ বিষয়ে অবগত করা হয়। এবং দূতাবাসের অবগতির পরিপ্রেক্ষিতে সৌদি কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে থাকে।
এছাড়াও বাংলাদেশ প্রত্যাগত কোন কর্মী থেকে এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট অভিযোগ লিখিতভাবে কিংবা ইমেইলের মাধ্যমে পাওয়া যায় তাহলে দূতাবাসের তরফ থেকে উক্ত অভিযোগ খতিয়ে দেখার জন্য নিয়ম অনুযায়ী সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমে অনুরোধ জানানো হয়ে থাকে।
সৌদি আরবের রিয়াদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস কর্তৃক অনুরোধ জানানো হয়েছে, যদি কারো নিকট প্রতীয়মান হয় যে, সৌদি আইন প্রয়োগকারী সংস্থা কর্তৃক সৌদি প্রবাসী কোন বাংলাদেশীকে নিয়মবহির্ভূতভাবে আটক করা হয়েছে তাহলে এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট তথ্য দিয়ে দূতাবাসের শ্রমকল্যাণ উইংয়ের নিকট লিখিত অভিযোগ দাখিল করা কিংবা ইমেইল করার জন্য।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


