Close Menu
iNews Zoombangla
  • Bangladesh
  • World
  • Tech
  • Business
  • Sports
  • Entertainment
  • Bangla
Facebook X (Twitter) Instagram
iNews Zoombangla
  • Bangladesh
  • World
  • Tech
  • Business
  • Sports
  • Entertainment
  • Bangla
iNews Zoombangla
Home জাতীয় নিষিদ্ধ কবিতা এবং একটি সংবাদ সম্মেলন
জাতীয়

নিষিদ্ধ কবিতা এবং একটি সংবাদ সম্মেলন

By Sazzad Hossainজুলাই 14, 201910 Mins Read

নিষিদ্ধ কবিতা এবং একটি সংবাদ সম্মেলন

Advertisement

জুমবাংলা ডেস্ক: ‌‘আপনার কবিতা পত্রিকার প্রথম পাতায় ছাপানোর জন্য কী কোন নির্দেশ আছে?’ নয় বছরের শাসনামলে সেনাশাসক জেনারেল এরশাদকে কোন সংবাদ সম্মেলনে এরকম বিব্রতকর প্রশ্নের মুখোমুখি সম্ভবত আর হতে হয়নি।

১৯৮৩ সালের অক্টোবর মাস। জেনারেল এরশাদ তখন বাংলাদেশের প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক। মাত্র তিনি যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে দেশে ফিরেছেন। সংসদ ভবনে তখন প্রধান সামরিক আইন প্রশাসকের দপ্তর (সিএমএলএ)। সেখানে রীতি অনুযায়ী এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়েছে। জেনারেল এরশাদ কথা বলবেন তার যুক্তরাষ্ট্র সফর নিয়ে।

জাহাঙ্গীর হোসেন তখন সরকারি বার্তা সংস্থা বাসস এর কূটনৈতিক সংবাদদাতা। এখন তিনি ঢাকায় অবসর জীবনযাপন করছেন। বিবিসি বাংলার সঙ্গে টেলিফোনে তিনি বর্ণনা করছিলেন ৩৬ বছর আগের সেই সংবাদ সম্মেলনটির কথা।

‘সংবাদ সম্মেলনটি হচ্ছিল পার্লামেন্ট ভবনের দোতলায় এক নম্বর কমিটি রুমে। জেনারেল এরশাদকে প্রচুর রাজনৈতিক প্রশ্ন করা হচ্ছিল, কারণ তিনি রাজনৈতিক দলগুলোকে সংলাপে ডেকেছিলেন। কিন্তু কোন দল তার ডাকে সাড়া দিচ্ছিল না। কেউ তার সঙ্গে কথা বলতে আসছিল না। বিরক্ত হয়ে জেনারেল এরশাদ বলেছিলেন, আমি কি রেড লাইট এলাকায় থাকি যে আমার সঙ্গে কেউ কথা বলবে না?’

সংবাদ সম্মেলনের এই পর্যায়ে জাহাঙ্গীর হোসেন উঠে দাঁড়িয়ে জেনারেল এরশাদকে বললেন, ‘মে আই আস্ক ইউ এ নন-পলিটিক্যাল কোয়েশ্চেন’- অর্থাৎ আমি কি আপনাকে একটি অরাজনৈতিক প্রশ্ন করতে পারি?

জেনারেল এরশাদ বেশ খুশি হয়ে গেলেন। কিন্তু জাহাঙ্গীর হোসেন যে প্রশ্নটি তাকে ছুঁড়ে দিলেন, সেটির জন্য তিনি প্রস্তুত ছিলেন না। একজন প্রবল ক্ষমতাধর সামরিক শাসক আর এক সাংবাদিকের মধ্যে এই প্রশ্নোত্তর পর্ব বাংলাদেশের সাংবাদিকতায় প্রবাদতুল্য হয়ে আছে।

ইংরেজীতে তিনি যে প্রশ্নটি ছুঁড়ে দিয়েছিলেন তার বাংলা অর্থ এরকম:

‘আপনি ক্ষমতায় আসার আগে কেউ জানতো না আপনি একজন কবি। এখন সব পত্রিকার প্রথম পাতায় আপনার কবিতা ছাপা হয়। পত্রিকার প্রথম পাতা তো খবরের জন্য, কবিতার জন্য নয়। বাংলাদেশের প্রধানতম কবি শামসুর রাহমানেরও তো এই ভাগ্য হয়নি। আমার প্রশ্ন হচ্ছে আপনার কবিতা প্রথম পাতায় ছাপানোর জন্য কি কোন নির্দেশ জারি করা হয়েছে?’

সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত সবাই হতচকিত। জেনারেল এরশাদের পাশে বসা তার পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ আর এস দোহা বললেন, ‘শামসুর রাহমান ইজ নট দ্য সিএমএলএ (শামসুর রাহমান প্রধান সামরিক আইন প্রশাসক নন)।’

জেনারেল এরশাদ অবশ্য তার পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে থামিয়ে দিলেন। তিনি প্রশ্নকারী সাংবাদিককে বললেন, আমি দেশের জন্য এত করি, এটুকু কি আপনি দেবেন না আমাকে?

‘তখন আমি বললাম, ওয়েল জেনারেল, আস্কিং কোয়েশ্চেন ইজ মাই প্রিরোগেটিভ, আনসারিং ইজ ইয়োর্স। ইউ হ্যাভ নট আনসার্ড মাই কোয়েশ্চেন। মাই কোয়েশ্চেন ইজ….(প্রশ্ন করার অধিকার আমার, উত্তর দেয়ার অধিকার আপনার। কিন্তু আপনি আমার প্রশ্নের উত্তর দেননি। আমার প্রশ্নটি হচ্ছে..)

জাহাঙ্গীর হোসেন এরপর তার প্রশ্নটি আবার করলেন।

এবার জেনারেল এরশাদ বললেন, ‘আপনি যদি চান, আর ছাপা হবে না।’

এরপর পত্রিকার প্রথম পাতায় জেনারেল এরশাদের কবিতা ছাপা অনেকটাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। তার কবিতা প্রথম পাতা থেকে চলে গিয়েছিল ভেতরের পাতায়। তবে এর পরিণাম ভোগ করতে হয়েছিল জাহাঙ্গীর হোসেনকে।

জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘এ ঘটনার পর আমাকে বদলি করে দেয়া হয় চট্টগ্রামে। আমি যেতে চাইনি। আমার ইচ্ছে ছিল না। কিন্তু আমাকে ব্যুরো এডিটর করে পাঠিয়ে দেয়া হলো। আমি দুবছর ছিলাম। দুবছর পর আমি পদত্যাগ করে সেখান থেকে চলে আসি।’

এটি ছিল এমন এক সময়, যখন কবিতাকে ঘিরেই চলছিল বাংলাদেশে রাজনীতির লড়াই। একদিকে অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখল করা সেনাশাসক জেনারেল এরশাদ, যিনি কবিখ্যাতি পাওয়ার জন্য আকুল। অন্যদিকে বিদ্রোহী একদল তরুণ কবি, যারা কবিতাকে পরিণত করেছেন তাদের সামরিক শাসন বিরোধী আন্দোলনের প্রধান অস্ত্রে।

প্রতিটি পত্রিকার প্রথম পাতায় তখন হঠাৎ হঠাৎ ছাপা হচ্ছে জেনারেল এরশাদের কবিতা। ক্ষমতায় আসার কিছুদিনের মধ্যে বেরিয়ে গেছে তার প্রথম কবিতাগ্রন্থ, ‘কনক প্রদীপ জ্বালো।’ বঙ্গভবনে নিয়মিত বসছে কবিতার আসর। ঢাকার সেসময়কার প্রথম সারির নামকরা কিছু কবি তাকে ঘিরে থাকেন এসব অনুষ্ঠানে।

কবি এবং অবসরপ্রাপ্ত সরকারি আমলা মোফাজ্জল করিম তখন যুগ্ম সচিব পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা। ক্ষমতা গ্রহণের আগে পর্যন্ত এরশাদের কবিতানুরাগের কথা তিনি শোনেননি, স্বীকার করলেন তিনি।

মোফাজ্জল করিম ছিলেন এরশাদকে ঘিরে থাকা কবিগোষ্ঠীর সঙ্গে বেশ ঘনিষ্ঠ। এর কিছুটা সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে, কিছুটা তার কবিতা চর্চার সুবাদে। একারণে এরশাদের বঙ্গভবনের কবিসভায় তিনিও আমন্ত্রণ পেয়েছিলেন।

‘কবিতার প্রতি তার অনুরাগের কথা আমরা প্রথম জানতে পারি ক্ষমতা নেয়ার মাসখানেক পরে এক অনুষ্ঠানে’, স্মৃতি হাতড়ে জানালেন তিনি। সেই অনুষ্ঠানে তিনি এসেছিলেন সরকারি কর্মকর্তাদের সামনে বক্তৃতা দিতে। শিল্পকলা একাডেমীর মিলনায়তনে এটা হয়েছিল। উনি বক্তৃতা করলেন। আমরা সবাই সামনে বসে শুনছি। তারপর বক্তৃতার শেষে তিনি হঠাৎ করে বললেন, কাল রাতে আমি একটি কবিতা লিখেছি।’

এরপর কবিতাটি তিনি পড়ে শোনালেন। সেই প্রথম আমরা তার কবিতা শুনলাম।

সরকারি ট্রাস্ট থেকে তখন প্রকাশিত হতো দৈনিক বাংলা এবং সাপ্তাহিক বিচিত্রা। দৈনিক বাংলার সম্পাদক তখন শামসুর রাহমান। দুটি কাগজেই নিয়মিত ছাপা হতে লাগলো জেনারেল এরশাদের কবিতা। বঙ্গভবনে তখন যে কবিতার আসর বসতো তাতে একদিন যোগ দিলেন মোফাজ্জল করিম।

‘আমাকে সেখানে নিয়ে গিয়েছিল আমার এক কবিবন্ধু এবং সহকর্মী মনজুরে মাওলা। আমি অনেক অগ্রপশ্চাৎ বিবেচনা করে সেখানে গিয়েছিলাম। প্রেসিডেন্টের আমন্ত্রণ বা অনুরোধ, এখানে না গেলে আবার কি না কি হয়, তাই গেলাম, কবিতাও পাঠ করেছিলাম। তো সেখানে আমি লক্ষ্য করেছিলাম, অনেক খ্যাতনামা কবি সেখানে ছিলেন।’

সেই কবিকুলের মধ্যে প্রধান দুই ব্যক্তি ছিলেন কবি ফজল শাহাবুদ্দীন এবং কবি ইমরান নুর, (এটি তার ছদ্মনাম, তার আসল নাম মনজুরুল করিম, সরকারের ডাকসাইটে আমলা ছিলেন)।

মোফাজ্জল করিম মনে করতে পারেন এরা দুজন বিভিন্নভাবে এরশাদ সাহেবের নৈকট্য লাভ করেছিলেন। তখন কবিদের দুটি সংগঠন ছিল। একটির নাম কবিকন্ঠ। এর নেতৃত্বে ছিলেন ফজল শাহাবুদ্দীন। তার সঙ্গে ছিলেন আল মাহমুদ, সৈয়দ আলী আহসানের মতো কবিরা। এরশাদ ছিলেন এই সংগঠনের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। কবিকন্ঠ বেশ সক্রিয় ছিল। তারা জেনারেল এরশাদকে বলে ধানমন্ডিতে একটি পরিত্যক্ত বাড়ি এই সংগঠনের নামে বরাদ্দ নেন। সেখানে প্রতি মাসে কবিতার আসর বসতো। সেখানে এরশাদ থাকতেন প্রধান অতিথি। তিনি নিজে কবিতাও পড়তেন।

শামসুর রাহমান এবং আবু জাফর ওবায়দুল্লাহ মিলে কবিদের আরেকটি সংগঠন গড়ে তোলেন। সেটার নাম ছিল পদাবলী। তাদের ঘিরে জড়ো হন আরেকদল কবি। বাংলাদেশের কবিদের জন্য এটি ছিল এক অভূতপূর্ব সময়। দেশের রাষ্ট্রক্ষমতার শীর্ষ ব্যক্তি কবিতার অনুরাগী, কবিযশপ্রার্থী। কাজেই কবিদের মধ্যে শুরু হলো একধরণের প্রতিযোগিতা, কিভাবে কবিতার মাধ্যমে তার নৈকট্য এবং আশীর্বাদ পাওয়া যায়।

দেশে সংবাদপত্রগুলোর ওপর তখন জারি রয়েছে কঠোর সেন্সরশীপ। কিন্তু তার মধ্যে নানা কথা, নানা গুজব ভেসে বেড়ায়। একটি গুজব ছিল, জেনারেল এরশাদের নামে ছাপা হওয়া এসব কবিতা আসলে লিখে দেন নামকরা কজন কবি।

মোফাজ্জল করিম স্বীকার করলেন, এরকম কথা তাদের কানেও এসেছিল তখন। তখন বাংলাদেশের বেশ নামকরা কজন কবির নামই তারা শুনেছিলেন, যারা একাজ করতেন।

‘আমরা শুনতাম, কিন্তু এর বেশি আমরা জানতাম না আর কিছু। তবে আমি এটা বিচার করতে যাইনি। এসব কবিতা এরশাদ সাহেবের নামে ছাপা হচ্ছে, আমি সেভাবেই দেখেছি। কে লিখে দিচ্ছে, কেন লিখে দিচ্ছে, সেটা নিয়ে আমি মাথা ঘামাইনি।’

নিষিদ্ধ কবিতা: পত্রিকার প্রথম পাতায় সামরিক শাসকের কবিতা নিয়ে যখন এত আলোচনা, তখন বাংলাদেশে গোপনে হটকেকের মতো বিক্রি হচ্ছে এক নিষিদ্ধ কবিতা। ‘খোলা কবিতা’ নামে সেই কবিতা কেউ প্রকাশ করতে সাহসই করছিল না। কবির নাম মোহাম্মদ রফিক। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজী সাহিত্যের শিক্ষক।

নিষিদ্ধ কবিতাটির কয়েকটি পংক্তি এরকম:

‘সব শালা কবি হবে, পিঁপড়ে গোঁ ধরেছে উড়বেই, দাঁতাল শুয়োর এসে রাজাসনে বসবেই।’

পুরো কবিতাটি ছিল অনেক দীর্ঘ, প্রায় ১৬ পৃষ্ঠা। এটি গোপনে ছাপানো হয় এক ছাপাখানায়। নিউজপ্রিন্টে এক ফর্মায় ছাপানো সেই কবিতা গোপনে বিলি করেন মোহাম্মদ রফিকের ছাত্র-ছাত্রীরা। হাতে হাতে সেই কবিতা ছড়িয়ে পড়ে সারাদেশে। কিভাবে রচিত হয়েছিল সেই কবিতা, সেই কাহিনী শোনালেন মোহাম্মদ রফিক, যিনি এখন ঢাকায় অবসর জীবনযাপন করছেন।

‘কবিতাটি আমি লিখেছিলাম জুন মাসের এক রাতে, এক বসাতেই। আমার মনে একটা প্রচন্ড ক্ষোভ তৈরি হয়েছিল, মনে হচ্ছিল একজন ভুঁইফোড় জেনারেল এসে আমাদের কবিতার অপমান করছে।’

তার মানে তার এই কবিতার লক্ষ্য তাহলে ছিলেন জেনারেল এরশাদই? ‘এটা শুধু এরশাদকে নিয়ে লেখা কবিতা নয়। এরশাদের মার্শাল ল জারি আমার কাছে একটা ঘটনা। কিন্তু একজন লোক, যে কোনদিন লেখালেখির মধ্যে ছিল না, ভূঁইফোড় – সে আজ সামরিক শাসন জারির বদৌলতে কবিখ্যাতি অর্জন করবে, এটা তো মেনে নেয়া যায় না।’

মোহাম্মদ রফিক ছিলেন ষাটের দশকে আইয়ুব খানের সামরিক শাসন বিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সক্রিয় কর্মী। এজন্যে জেলও খেটেছেন। জেনারেল এরশাদের সামরিক শাসনের মধ্যে তিনি পাকিস্তানি আমলের সামরিক শাসনের ছায়া দেখতে পেয়েছিলেন। তার কবিতায় তিনি এর প্রতিবাদ জানালেন।

নিষিদ্ধ খোলা কবিতা তখন নানাভাবে কপি হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে সারাদেশে। টনক নড়লো নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর। একদিন মোহাম্মদ রফিকের ডাক পড়লো সাভারে সেনাবাহিনীর নবম পদাতিক ডিভিশনের দপ্তরে।

‘সেখানে তিনজন সেনা কর্মকর্তার মুখোমুখি আমি। তাদের প্রথম প্রশ্ন, এটা কি আপনার লেখা। আমি বললাম হ্যাঁ, আমার লেখা। আমি তাদের বললাম, আমি আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর দেব, কিন্তু একটা প্রশ্নের উত্তর দেব না। সেটা হচ্ছে, এটি কে ছেপে দিয়েছে। কারণ আমি তাকে বিপদে ফেলতে চাই না।’ এর কিছুদিন পর মোহাম্মদ রফিকের নামে হুলিয়া জারি হয়। তাকে কিছুদিন আত্মগোপন করে থাকতে হয়।

কবিদের বিদ্রোহ: এরশাদ বিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে তখন চলছে নানা জোয়ার-ভাটা। আন্দোলন কখনো তীব্র রূপ নিচ্ছে, আবার কখনো ঝিমিয়ে পড়ছে। ১৯৮৭ সাল। গণতান্ত্রিক আন্দোলনে বড় দলগুলোর মধ্যে যখন চলছে নানা টানাপোড়েন, তখন তরুণ কবিরা এক বিরাট কাণ্ড করে ফেললেন। ঢাকায় তারা এক বিরাট কবিতা উৎসবের আয়োজন করলেন, যার নাম দেয়া হলো ‘জাতীয় কবিতা উৎসব।’

এই বিদ্রোহী কবিদের নেতৃত্বে আছেন শামসুর রাহমান। তিনি জাতীয় কবিতা পরিষদের সভাপতি। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে মূল সংগঠকের দায়িত্বে সেই রাগী বিদ্রোহী কবি মোহাম্মদ রফিক। কিভাবে এই কবিতা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছিল, সেটি বলতে গিয়ে স্মৃতিকাতর হয়ে পড়লেন তিনি।

‘তখন অনেক তরুণ কবির সঙ্গে আমার ঘনিষ্ঠতা ছিল। বিশেষ করে রুদ্র, কামাল, এরা অনেকে আমার কাছাকাছি ছিল। আমরা তখন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে বা আশে-পাশে আড্ডা দেই। আমাদের মধ্যে তখন আলাপ চলছিল, এরকম কিছু করা যায় কীনা। সেখান থেকেই এর শুরু। তরুণ কবিরাই এর উদ্যোগ নেন। আর সাধারণ সম্পাদক হিসেবে আমার নাম প্রস্তাব করেন রফিক আজাদ।’

১৯৮৭ সালের ফেব্রুয়ারী ১ এবং ২ তারিখে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় টিএসসির মোড়ে প্রথম জাতীয় কবিতা উৎসব শুরু হলো। সারা বাংলাদেশের কবিরা জড়ো হলেন সেখানে।

এই উৎসব কার্যত পরিণত হলো এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের এক বিরাট মঞ্চে। প্রথম উৎসবের শ্লোগানটাই ছিল, ‘শৃঙ্খল মুক্তির জন্য কবিতা।’ উৎসবে যত কবিতা পড়া হতো, তাতে রাজনৈতিক কবিতার সংখ্যাই বেশি।

একদিকে সরকার বিরোধী কবিরা যখন রাজপথ গরম করছেন, তখন বঙ্গভবন-কেন্দ্রিক কবিরাও এশিয় কবিতা উৎসব নামে আরেকটি উৎসব করছেন সরকারী আনুকুল্যে। এরশাদ তাদের প্রধান পৃষ্ঠপোষক। তাতে বিভিন্ন দেশের নামকরা কবিদেরও আমন্ত্রণ জানানো হলো। ১৯৮৯ সালে তাদের একটি উৎসবে যোগ দিতে এসেছিলেন ইংল্যান্ডের সেসময়ের সবচেয়ে খ্যাতিমান কবি টেড হিউজ।

কিন্তু বিদ্রোহী কবিরা যেভাবে সরকার বিরোধী আন্দোলনে উত্তাপ ছড়িয়ে যাচ্ছিলেন, তা জেনারেল এরশাদের জন্য বড় উদ্বেগের কারণ হয়ে দাঁড়ালো।

১৯৮৮ সালে দ্বিতীয় বারের মতো ঢাকায় জাতীয় কবিতা উৎসবে ঘটলো এক অভাবিত ঘটনা। সেবারের উৎসবের শ্লোগান ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে কবিতা।’ উৎসব মঞ্চে অতিথি হিসেবে ছিলেন বাংলাদেশের একজন নামকরা শিল্পী, কামরুল হাসান। হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে তিনি সেখানেই ঢলে পড়েছিলেন। তবে মৃত্যুর আগের মুহূর্তে তিনি এঁকেছিলেন একটি স্কেচ, যার নীচে তিনি লিখেছিলেন, ‘দেশ আজ বিশ্ববেহায়ার খপ্পরে।’

উৎসবের কর্মীরা রাতারাতি সেই স্কেচ দিয়ে পোস্টার ছাপিয়ে ফেলেন, কিন্তু বিলি করার আগেই পুলিশ হানা দিয়ে জব্দ করে অনেক পোস্টার। একজন শিল্পীর আঁকা একটি স্কেচ যেন একজন সেনাশাসকের ক্ষমতার জন্য এক বিরাট হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

একটি গণঅভ্যুত্থান: ১৯৯০ সালের ডিসেম্বরে এক ব্যাপক ছাত্রগণ অভ্যুত্থানের মুখে পতন ঘটে এরশাদের। পদত্যাগে বাধ্য হন তিনি। কিন্তু তারপর যেভাবে একদিন ধুমকেতুর মতো বাংলাদেশের কাব্যজগতে তার আত্মপ্রকাশ ঘটেছিল, সেভাবেই হঠাৎ করে তার কবিতা যেন হারিয়ে যায়। ক্ষমতার অপব্যবহার এবং দুর্নীতির কারণে তাকে কারাবাসে যেতে হয়। তবে সেখানে অখন্ড অবসর সত্ত্বেও তিনি কবিতার চর্চা করেছেন এমন খবর পাওয়া যায়নি। আর পত্রিকার প্রথম পাতা শুধু নয়, ভেতরের পাতাতেও তার কোন কবিতা আর ছাপা হতে দেখা যায়নি। কিন্তু যেসব কবিতা হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের নামে প্রকাশিত হয়েছিল, তাতে তার কাব্য প্রতিভা সম্পর্কে কী ধারণা পাওয়া যায়?

মোফাজ্জল করিম বলছেন, এরশাদের মধ্যে একটা কবি মন ছিল বলেই তার মনে হয়েছে। ‘আমার একটা জিনিস মনে হয়, তার একটা কাব্যপ্রীতি ছিল। কবিতা তিনি ভালোবাসতেন, কবিদের সাহচর্য পছন্দ করতেন। এ কারণেই তিনি কবিতা পাঠের আসর করতেন, কবিদের সঙ্গে মেলামেশা করতেন। কবিদের জন্য তার একটা সফট কর্ণার ছিল। কেউ কেউ তার কাছ থেকে সুযোগ-সুবিধেও নিয়েছেন এটাকে কাজে লাগিয়ে, শোনা যায়।’

মোহাম্মদ রফিক অবশ্য জেনারেল এরশাদকে এখনো কবি স্বীকৃতি দিতে রাজী নন। ‘সে তো কবি নয়। বাঙ্গালির সবচেয়ে বড় গর্বের জায়গা হচ্ছে কবিতা। কারণ কবিতা চিরকাল বাঙ্গালিকে উদ্বুদ্ধ করেছে। কিন্তু এই কবিতাকে আসলে এরশাদ ধ্বংস করতে চেয়েছে। আমার দেশের একটা চরিত্র আছে। যখন সে জাগে, তখন সে গান শোনে আর কবিতা পড়ে। আর যখন তার অবক্ষয় শুরু হয়, তখন সে কবিতা থেকেও দূরে সরে যায়।’

মোহাম্মদ রফিক মনে করেন, প্রবল পরাক্রমশালী সেনাশাসক জেনারেল এরশাদকে যে শেষ পর্যন্ত ক্ষমতা ছাড়তে হয়েছিল, তার পেছনে কবিতা এক বড় শক্তি হিসেবে কাজ করেছিল। সূত্র: বিবিসি

fXinmwalink@tg
Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow iNews Zoombangla On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from iNews Zoombangla in your Google news feed.

Follow iNews Zoombangla On Google
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।
Sazzad Hossain
  • Facebook
  • X (Twitter)

Related Posts
Hasnat Abdullah

লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা

জুন 20, 2026
ছোট্ট বাংলাদেশে

‘ছোট্ট বাংলাদেশে’ একই পরিবারের ৪৩ জনের বসবাস

জুন 20, 2026
Govt Office

আবার টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

জুন 20, 2026

Latest News

Hasnat Abdullah

লন্ডনে হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে মামলা

ছোট্ট বাংলাদেশে

‘ছোট্ট বাংলাদেশে’ একই পরিবারের ৪৩ জনের বসবাস

Govt Office

আবার টানা ৪ দিনের ছুটির সুযোগ

তারেক রহমান

জাতি গঠনে শিশুদের শিক্ষা ও স্বাস্থ্যে বিনিয়োগ গুরুত্বপূর্ণ : প্রধানমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ

শিগগিরই বেনজীরকে ফেরত দেবে আমিরাত, প্রত্যাশা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর

Havy-Rain

সারাদেশে টানা ভারী বর্ষণের আভাস

Padma

পদ্মা ব্যারাজ প্রকল্পে বদলে যাবে ২৪ জেলার দৃশ্যপট

আবহাওয়া অধিদপ্তর

ভারি বর্ষণ নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের নতুন বার্তা

ফ্যামিলি

ফ্যামিলি কার্ডে অনিয়ম সহ্য করা হবে না: সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী

সেতুমন্ত্রী

জনগণকে কেন্দ্র করে দেশের জন্য কাজ করতে হবে: সেতুমন্ত্রী

 

Inews

ZoomBangla iNews is your trusted destination for fast, accurate, and relevant Bangla News. We bring you the latest Bengali news from Bangladesh, India, and around the world. From breaking Bangla news to in-depth coverage of politics, sports, entertainment, lifestyle, and technology—ZoomBangla iNews delivers the stories that truly matter to Bangla news readers.

  • About Us
  • Contact Us
  • Career
  • Advertise
  • DMCA
  • Privacy Policy
  • Feed
  • Authors
  • Editorial Team Info
  • Ethics Policy
  • Correction Policy
  • Fact-Checking Policy
  • Funding Information
© 2026 ZoomBangla Pvt Ltd. - Powered by ZoomBangla

Type above and press Enter to search. Press Esc to cancel.

tgXwa