নৌপথে ঘরমুখো যাত্রীদের উপচেপড়া ভিড়

জুমবাংলা ডেস্ক : সরকারের কঠোর বিধিনিষেধ শিথিলের দ্বিতীয় দিন শুক্রবার সকাল থেকেই নেৌপথে ছিল ঘরমুখো মানুষের উপচে পড়া ভিড়। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে লঞ্চ ও ফেরিঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ তীব্র হতে শুরু করে। মুন্সীগঞ্জের শিমুলিয়া ঘাটে যাত্রীদের বেশ চাপ ছিল। দেৌলতদিয়ায় দীর্ঘ যানজট তৈরি হয়। পশুবাহী ট্রাকগুলো ৬-১০ ঘণ্টায়ও ফেরির নাগাল পায়নি। পাটুরিয়ায় যাত্রীর চাপ বেড়েছে।

লৌহজং (মুন্সীগঞ্জ) : মুন্সীগঞ্জের লেৌহজংয়ে শিমুলিয়া ঘাটে সকাল থেকেই যাত্রী, পণ্য ও পশুবাহী যানবাহনের চাপ বাড়তে থাকে। গণপরিবহণ ও ব্যক্তিগত গাড়ির চাপ বাড়ায় ফেরিতে যানবাহন পারাপারে বেগ পেতে হয়। এতে ঘাটে ছয় শতাধিক যানের জট লাগে। যাত্রীদের নদী পারাপারে অপেক্ষা করতে হয় দীর্ঘক্ষণ। বিকাল নাগাদ শিমুলিয়া-বাংলাবাজার নেৌরুটে লঞ্চ সচল থাকায় ফেরিতে যাত্রী চাপ ও গাদাগাদি কমে আসে। তবে লঞ্চগুলোতে স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। অর্ধেক যাত্রী ধারণের কথা থাকলেও অধিক যাত্রী নিয়ে চলাচল করছে। ঘাট কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানা গেছে, এ নেৌরুটে ১৩টি ফেরি ও ৮২টি লঞ্চ সচল রয়েছে।

গোয়ালন্দ (রাজবাড়ী) : সকাল থেকেই দেৌলতদিয়া ঘাটে কুরবানির পশুবাহী ট্রাক ও যাত্রীবাহী যানবাহনের দীর্ঘ সারি সৃষ্টি হয়। আটকে থাকা যাত্রী, গরুর মালিক ও বেপারিদের সীমাহীন ভোগানি্তর শিকার হতে হয়। ঘাটে দীর্ঘ সময় পারাপারের অপেক্ষা করে ভ্যাপসা গরমে যাত্রী ও পশুগুলোকে হঁাসফঁাস করতে দেখা যায়। বেলা ৩টা পর্যন্ত দৌলতদিয়া ফেরিঘাটের জিরো পয়েন্ট থেকে প্রায় ৩ কিমি. পর্যন্ত যানবাহনের দুটি সারি সৃষ্টি হয়। ফেরি কর্তৃপক্ষ বলছে এ নৌরুটে ছোট-বড় ১৫টি ফেরি চলাচল করছে। বিআইডবি্লউটিসি দেৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন বলেন, যানবাহনের চাপ বেড়ে যাওয়ায় এবং নদীতে তীব্র স্রোতে ফেরি চলাচল ব্যাহত হওয়ায় অনেক গাড়ি ঘাটে আটকা পড়ছে।

মানিকগঞ্জ : পাটুরিয়া ফেরি ঘাটে যাত্রী ও যানবাহনের চাপ বাড়লেও ভোগানি্ত কম ছিল। বিআইডবি্লউটিসি আরিচা কার্যালয়ের উপ-মহাব্যবস্থাপক জিল্লুর রহমান জানান, ১৫টি ফেরি সচল রয়েছে। নাব্য সংকট না থাকায় ফেরি পারাপারেও অল্প সময় লাগছে। পাটুরিয়া ঘাট এলাকায় তিন শতাধিক পণ্যবাহী ট্রাক আটকা পড়ে। পাটুরিয়া-দেৌলতদিয়া ও আরিচা কাজীরহাট নেৌরুটে ৩৪টি লঞ্চ চলাচল করছে। লঞ্চঘাটেও যাত্রী পারাপার স্বাভাবিক রয়েছে। তবে সরকারের নির্দেশনা উপেক্ষা করে অতিরিক্ত যাত্রী পরিবহণের পাশাপাশি ভাড়াও বেশি নেওয়ার অভিযোগে পাওয়া গেছে। করোনা সংক্রমণরোধে গণপরিবহণে ধারণক্ষমতার অর্ধেক যাত্রী নেওয়ার কথা থাকলেও লঞ্চে তা মানা হচ্ছে না। কিন্তু বর্ধিত ৬০ শতাংশ ভাড়া ঠিকই আদায় করা হচ্ছে। মানিকগঞ্জের পাটুরিয়া ও আরিচা লঞ্চ ঘাটে এমন চিত্র দেখা গেছে।

শিবচর (মাদারীপুর) : বাংলাবাজার-শিমুলিয়া নেৌরুটে ধারণ ক্ষমতার বেশি যাত্রী বহন করায় চার লঞ্চ মালিককে ৫ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড দিয়েছেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। দুপুরে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আসাদুজ্জামান এ দণ্ড প্রদান করেন। ঘাট এলাকায় পশুবাহী ট্রাকের দীর্ঘ সারি তৈরি হয়। মাদারীপুর জেলা প্রশাসক ড. রহিমা খাতুন জানান, ঈদ পর্যন্ত ঘাট এলাকায় সার্বক্ষণিক মোবাইল কোর্ট থাকবে। আইন না মানলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।


জুমবাংলানিউজ/এসআর