Views: 57

মুক্তমত/ফিচার/সাক্ষাৎকার

পিঁপড়ার কাছে শিক্ষা নিলে কমতে পারে যানজট

জুমবাংলা ডেস্ক: ঢাকা-কলকাতাসহ বিশ্বজুড়ে অনেক শহরেই যানজট বড় সমস্যা৷ বিশেষজ্ঞরা যানজটের নানা কারণ বিশ্লেষণ করে সমাধানসূত্র তুলে ধরার চেষ্টা করছেন৷ কিন্তু এখনো আমরা তার সুফল দেখতে পাচ্ছি না৷

মানুষের তৈরি রাজপথের চারিদিকে শুধু যানজট৷ অথচ পিঁপড়া হাইওয়ে কখনোই থমকে যায় না৷ সেখানে অনেক ভিড় থাকলেও কখনো কোনো যানজট হয় না৷ আমাদের হাইওয়েতে যানজট শুধু স্বাভাবিক হয়ে উঠছে না, মানুষ একের পর এক যানজটের রেকর্ডও ভেঙে চলেছে৷

২০০৫ সালে রিটা নামের ঘুর্ণিঝড় থেকে বাঁচতে প্রায় ২৫ লাখ মানুষ অ্যামেরিকার হিউস্টন শহর থেকে পালানোর চেষ্টা করেছিলেন৷ ফলে গোটা পরিবহণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়ে৷ প্রায় ৪৮ ঘণ্টা ধরে ১৬০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজট সৃষ্টি হয়েছিল৷

২০১৪ সালে ব্রাজিলে বিশ্বকাপ ফুটবলের ফাইনালের সময়ও এমন সংকট ঘটেছিল৷ সাও পাওলো শহর থেকে শুরু হয়ে যানজট ৩৪৪ কিলোমিটার দীর্ঘ হয়ে উঠেছিল, যা প্রায় রিও ডি জেনেইরো পর্যন্ত দূরত্বের সমান৷

২০১২ সালে মস্কো শহর প্রচণ্ড শীতের কবলে পড়েছিল৷ প্রবল তুষারপাতের কারণে মস্কো ও সেন্ট পিটার্সবার্গ শহরের মধ্যে হাইওয়ে টানা তিন দিন, তিন রাত বন্ধ ছিল৷

কিন্তু যানজটের প্রধান কারণগুলি কী কী? পরিবহণ বিশেষজ্ঞ হিসেবে প্রো. পেটার ভাগনার মনে করেন, ‘‘মূল কারণ অবশ্যই ধারণক্ষমতার অভাব৷ অন্য কারণও রয়েছে বটে, তবে সেগুলি তেমন ঘনঘন দেখা যায় না৷ কখনো কিছু মানুষ গাড়ি চালানোর সময় ভুল করে৷ অসতর্ক থাকার কারণে জোরে ব্রেক কষতে হয়৷”

যানজট বিশেষজ্ঞ মিশায়েল শ্রেকেনব্যার্গ এমন প্রবণতা আরও বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘‘পথে মেরামতির কাজ, দুর্ঘটনা, খারাপ আবহাওয়া যানজটের কারণ হতে পারে৷ তবে ষাট থেকে সত্তর শতাংশের জন্য পথে ওভারলোড বা মাত্রাতিরিক্ত সংখ্যার গাড়িঘোড়া দায়ী৷ অঞ্চল অনুযায়ী কিছু হেরফের হয়৷ একই সময়, একই রুটে, একই দিকে খুব বেশি যানবাহন চললে বিশ্বের প্রায় যে কোনো প্রান্তেই যানজট প্রায় অনিবার্য৷”

পিঁপড়া কীভাবে ভিড় সামলায়? বার্লিনের ‘অ্যান্টস্টোর’ দোকানের মালিক মার্টিন সেবাস্টা বলেন, ‘‘পিঁপড়াদের ক্ষেত্রে পারস্পরিক সংহতির বিষয়টি যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ৷ গাড়িচালকদের ক্ষেত্রে হয়তো সেটা খুব বেশি দেখা যায় না৷ সবাই দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছতে ব্যস্ত থাকেন৷ অন্যদের অবস্থা বিবেচনা না করে সবাই শুধু নিজের স্বার্থ দেখেন৷ এমন আগ্রাসী গাড়িচালকরা কিছুটা সংযত হলে ভালো হয়৷”

মানুষের আচরণ বিশ্লেষণ করে যানজট বিশেষজ্ঞ মিশায়েল শ্রেকেনব্যার্গ বলেন, ‘‘পথে ড্রাইভাররা সহযোগিতা করতে চান না৷ তাদের স্বার্থপরতার কারণে গোটা প্রণালী কার্যকর হতে পারে না৷ গণিতের ভাষায় একে ম্যাক্সিমা বলা হয়৷ অর্থাৎ ইউজার অপ্টিমাম এবং সিস্টেম অপ্টিমামের মাঝে চালককে নিজের জন্য সেরা পরিস্থিতি বেছে নিতে হয়৷ ব্যবহারকারী হিসেবে তার সুবিধা হলেও পরিবহণ ব্যবস্থার জন্য সেটা মোটেই সেরা পথ নয়৷ চালকেরা পরস্পরের বিরুদ্ধে লড়ে গেলে সিস্টেম মোটেই কার্ষকর হতে পারে না৷”

অন্যদিকে পিঁপড়া সহযোগিতায় বিশ্বাস করে এবং একই লক্ষ্যের জন্য কাজ করে৷ মানুষও আসলে গন্তব্যে পৌঁছতে চায়৷ কিন্তু শুধু নিজের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেবার কারণে অনেকটা সময় যানজটেই কেটে যায়৷ তথ্যসূত্র: ডয়চে ভেলে

আরও পড়ুন

এবার নিখোঁজ বক্তা আদনানকে নিয়ে মুখ খুললেন মিজানুর রহমান আজহারীর

globalgeek

নিখোঁজ বক্তা আদনানকে নিয়ে যা বললেন রাব্বানী

globalgeek

প্রদীপের ফাঁসি হলে হত্যা করার আগে সৌমেন ১০০বার চিন্তা করতো : রুমিন ফারহানা

globalgeek

বাংলা ছবির কাহিনীর মতো তিন প্রাণের বিনিময়ে ত্রিভুজ প্রেমের সমাপ্তি

globalgeek

সৎ ব্যবসায়ীদের জন্য কিয়ামতের দিন রয়েছে সুসংবাদ

mdhmajor

চাকরিতে যোগ দেয়ার বয়স বাড়ানো এবং প্রতিদ্বন্দ্বিতায় বৈষম্য কমানো দরকার

mdhmajor