জাহিদ ইকবাল: রাজধানী ঢাকার দীর্ঘদিনের যানজট সমস্যা নিরসনে নতুন একটি বিকল্প সড়ক চালুর পরিকল্পনা হাতে নেওয়া হয়েছে। পূর্বাচল থেকে বনশ্রী পর্যন্ত সরাসরি সংযোগ স্থাপনের লক্ষ্যে প্রস্তাবিত এই রুট বাস্তবায়িত হলে শহরের পূর্বাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থায় উল্লেখযোগ্য গতি আসবে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।

প্রস্তাবিত পরিকল্পনা অনুযায়ী, ৩০০ ফিট সড়ক থেকে বসুন্ধরা আবাসিক এলাকার এল ব্লকের অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহার করে ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির পাশ দিয়ে স্বদেশ প্রপার্টির ভেতর দিয়ে আফতাবনগর হয়ে বনশ্রী পর্যন্ত একটি কার্যকর বিকল্প সড়ক সংযোগ স্থাপনের সম্ভাব্যতা যাচাই করা হচ্ছে। এই রুটটি চালু হলে কুড়িল বিশ্বরোড, প্রগতি সরণি এবং রামপুরা-বনশ্রী করিডোরে যানবাহনের চাপ অনেকাংশে কমে আসতে পারে।
এ লক্ষ্যে গুলশান ট্রাফিক বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) জনাব মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে সংশ্লিষ্ট ট্রাফিক কর্মকর্তাবৃন্দ এবং রাজউকের প্রকৌশলী দল যৌথভাবে সরেজমিনে পরিদর্শন কার্যক্রম পরিচালনা করেন। পরিদর্শনকালে সড়কের বর্তমান অবস্থা, যানবাহনের চাপ, রাস্তাগুলোর প্রস্থ ও ধারণক্ষমতা, সংযোগ সক্ষমতা, সম্ভাব্য ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোগত উন্নয়ন নিয়ে বিস্তারিত মূল্যায়ন করা হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে দ্রুত বর্ধনশীল আবাসিক এলাকা—বিশেষ করে পূর্বাচল, বসুন্ধরা, আফতাবনগর ও বনশ্রী—এ প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক যানবাহন চলাচল করে। কিন্তু পর্যাপ্ত বিকল্প সড়ক না থাকায় প্রধান সড়কগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। ফলে প্রতিদিন দীর্ঘ সময় যানজটে আটকে থাকতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে, যার ফলে কর্মঘণ্টা নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি অর্থনৈতিক ক্ষতিও হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই ধরনের বিকল্প সড়ক চালু করা গেলে যানবাহনের চাপ একাধিক রুটে ভাগ হয়ে যাবে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও কার্যকর করবে। পাশাপাশি জরুরি সেবা যেমন অ্যাম্বুলেন্স, ফায়ার সার্ভিস এবং আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর চলাচলও সহজ হবে।
তবে পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা উল্লেখ করেছেন। বিশেষ করে অভ্যন্তরীণ সড়ক ব্যবহারের ক্ষেত্রে জমি মালিকানা, নিরাপত্তা ব্যবস্থা, রাস্তার প্রশস্ততা বৃদ্ধি, সঠিক ট্রাফিক সাইনেজ স্থাপন এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো উন্নয়ন নিশ্চিত করতে হবে। এ ছাড়া আবাসিক এলাকার বাসিন্দাদের স্বার্থ ও নিরাপত্তা বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।
রাজউকের প্রকৌশলীরা জানিয়েছেন, সম্ভাব্যতা যাচাই শেষে প্রয়োজনীয় সুপারিশমালা প্রণয়ন করা হবে। এরপর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে ধাপে ধাপে বাস্তবায়ন কাজ শুরু হতে পারে।
আরও পড়ুনঃ জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ আজ
পরিকল্পনাটি বাস্তবায়িত হলে পূর্বাচল থেকে বনশ্রী পর্যন্ত যাতায়াত সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসবে এবং রাজধানীর পূর্বাঞ্চলে একটি নতুন ট্রাফিক করিডোর তৈরি হবে। এতে করে নগরবাসীর দৈনন্দিন যাতায়াত আরও সহজ, দ্রুত ও স্বস্তিদায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


