ঢাকা বিভাগীয় সংবাদ

প্রেমিককে নিয়ে প্রেমিকা উধাও

জুমবাংলা ডেস্ক : টাঙ্গাইলের কালিহাতীতে এক কলেজ পড়ুয়া ছাত্রী সালমা আক্তার (১৭) তার প্রেমিক ডিগ্রিতে পড়ূয়া নাজমুল হাসান নামের এক ছাত্রকে নিয়ে উধাও হয়েছে। সালমা উপজেলার কুরুয়া গ্রামের অটো-ভ্যান চালক মো. সাইম উদ্দিনের মেয়ে। সে লুৎফর রহমান মতিন মহিলা কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। নাজমুল ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের কয়েড়া গ্রামের দিনমজুর মিনহাজ উদ্দিনের ছেলে। সে নিকরাইল শমশের ফকির ডিগ্রি কলেজের ডিগ্রি ২য় বর্ষের ছাত্র।

জানা গেছে, নাজমুলের বাবা উপজেলার কয়েড়া গ্রামে বসবাস করে আসছেন। নাজমুল তার নানার বাড়িতে না থেকে ছোট বেলা থেকেই দাদার বাড়িতে পড়াশোনা করেছেন। ৭ম শ্রেণিতে পড়া সময়ে নাজমুল নানার বাড়িতে চলে এসে লেখা পড়া করে আসছেন। সম্প্রতি, ১০ শ্রেণিতে থেকে নাজমুল আত্মীয়তার সুবাদে সালমাদের বাড়িতে মাঝে মাঝে আসা যাওয়া করতেন। এর মধ্যেই দুজনের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে উঠে। এ সম্পর্ক দু’পরিবারের কেউও মেনে নিতে রাজি হয় নি। এদিকে, সালমার পরিবার থেকে সালমাকে অন্যত্র বিয়ে দেয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করে। কিন্তু সালমা রাজি না হলে তার মা বকাঝকা করে মারধর করে সালমাকে। এ ক্ষোভে রাগ করে গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে স্বেচ্ছায় বাড়ি থেকে বের হয়ে নাজমুলের খোঁজে নিকরাইল বাজারে আসে। সালমা নাজমুলের বাড়ি না চিনলে তাকে ফোন করে এগিয়ে আসতে বলে। পরে নাজমুল নিকরাইল বাজারে গেলে প্রেমিকা সালমা তাকে নানা রকম ভয়ভীতি দেখিয়ে উভয়ই আত্মগোপন করেন।

সম্প্রতি গত মঙ্গলবার (২৬ নভেম্বর) সকালে সালমা তার প্রেমিক নাজমুলকে মোবাইল ফোন করে তাদের বাড়িতে আসার কথা বলে ভয়ভীতি দেখিয়ে নাজমুলকে নিকরাইল বাজারে ডেকে নিয়ে উধাও হয়ে যায়। এ ঘটনার পরপরই সন্ধ্যায় মেয়ের মা-বাবা ও স্থানীয় মেম্বারসহ মাতব্বরদের নিয়ে নাজমুলদের বাড়িতে আতঙ্ক ও হয়রানি করে। পরে সন্ধ্যা রাতেই ছেলে পক্ষ থেকে স্থানীয় মেম্বার ও এলাকার মাতব্বররা এসে মীমাংসার চেষ্টা করে ছেলেমেয়েকে ৭ দিনের মধ্যে বের করার প্রস্তাব উঠে আসে। সালিশ বৈঠকে ৩ দিনের সময় বেঁধে ছেলের বাবাকে। অনেক খোঁজাখুজি করে ছেলে পক্ষের লোকজন গত শুক্রবার (২৯ নভেম্বর) রাতে উভয়কেই খুঁজে বের করে নিয়ে আসে।

এ ঘটনায় বেঁধে দেয়া সময়ে ৪ দিন পর রবিবার (২ নভেম্বর) দুপুরে গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান তালুকদার বাবলু, নারান্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ শুকুর মাহমুদ ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিসহ এলাকার মাতব্বরদের উপস্থিতে উভয় পক্ষকে নিয়ে গ্রাম্য সালিশ হয়। সেখানে মেয়েপক্ষ সালিশকে প্রত্যাখান করে উঠে যায়।

সালিশ প্রত্যাখান করে গত রবিবার (০২ নভেম্বর) মেয়ের মা আসমানী বেগম বাদী হয়ে কালিহাতী থানায় অপহৃরণের অভিযোগ দায়ের করেন। হতদরিদ্র নাজমুলের বাবা মিনহাজ উদ্দিন বলেন, গত নভেম্বর মাসের ২৬ তারিখ মঙ্গলবার সকালে সালমা মোবাইল ফোনে ডেকে নিয়ে পালিয়ে যায়। কিছুদিন আত্মগোপনে থাকেন। এসব কিছুর জন্য মেয়ের মা দায়ী। এমন ঘটনার পরে জনপ্রতিনিধিদের মতামতে গ্রাম্য সালিশকেও মানছেন না তারা। মেয়েপক্ষের পরিবারের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে কালিহাতী উপজেলার নারান্দিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. শুকুর মাহমুদ মুঠোফোনে বলেন, কয়েড়ার নাজমুল ও কুরুয়া গ্রামের সালমার বিষয়টি নিয়ে গত রবিবার (০২ ডিসেম্বর) সকালে গ্রাম্য হয়েছে। এ সালিশে মেয়ে ছেলের পক্ষে থাকায় কোনো সমাধান হয়নি। পরে সালিশ শেষে মেয়ের মা বাদী হয়ে থানায় নাজমুল কে অভিযুক্ত করে অপহৃরণের অভিযোগ দায়ের করেন। ভূঞাপুর উপজেলার গোবিন্দাসী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মোস্তাফিজুর রহমান এ ঘটনার বিষয়টি সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, নাজমুল ও সালমার বিষয়টির ব্যাপারে আমি অবগত আছি। গত রবিবার সকালে আমিসহ অন্যান্য চেয়ারম্যান ও স্থানীয় মাতাব্বদের উপস্থিতিতে সুষ্ঠ সমাধানের জন্য গ্রাম্য সালিশ হয়েছে।

এ ঘটনায় কালিহাতী থানার অফিসার ইনচার্জ হাসান আল মামুন বলেন, অপহরণের অভিযোগ এনে মেয়ের মা আসমানী বেগম বাদী হয়ে থানায় একটি অভিযোগ দায়ের করেছে। মেয়ের বয়স ১৮ না হওয়ায় বিয়ে আইন সম্মত নয়। সুষ্ঠু সমাধানের জন্য তাদের উভয়কে উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে।


জুমবাংলানিউজ/এসআর




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


rocket

সর্বশেষ সংবাদ