ইংল্যান্ডকে ২-১ গোলে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল জয়ের পর বিতর্কিত একটি ব্যানার প্রদর্শন করে আলোচনায় আসে আর্জেন্টিনা। দেশটির মালভিনাস দ্বীপপুঞ্জের দাবিসংবলিত সেই পতাকা কীভাবে স্টেডিয়ামের ভেতরে পৌঁছেছিল, সে বিষয়ে নতুন তথ্য প্রকাশিত হয়েছে।

আর্জেন্টিনার বিভিন্ন গণমাধ্যমের দাবি, একজন সমর্থক হোটেলের বিছানার চাদরে স্লোগান লিখে সেটি গোপনে স্টেডিয়ামে নিয়ে যান। পরে সেটিই খেলোয়াড়দের হাতে পৌঁছে যায় এবং তারা মাঠে উদযাপনের সময় সবার সামনে সেটি প্রদর্শন করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রথমে দর্শক গ্যালারিতে থাকা ব্যানারটি দেখতে পান জিওভানি লো সেলসো। এরপর তিনি বিজ্ঞাপন বোর্ড টপকে সমর্থকের কাছ থেকে সেটি নেন। পরে লিসান্দ্রো মার্তিনেসের সঙ্গে আলোচনা করে মাঠে পতাকাটি প্রদর্শনের সিদ্ধান্ত হয় বলে দাবি করা হয়েছে।
এরপর ক্রিস্তিয়ান রোমেরোসহ আরও কয়েকজন খেলোয়াড় পতাকাটি হাতে নিয়ে উদযাপনে অংশ নেন। সে সময় গ্যালারিতে ইংল্যান্ডবিরোধী বিভিন্ন স্লোগানও শোনা যায়।
ফিফার নিয়ম অনুযায়ী, স্টেডিয়ামের ভেতরে খেলোয়াড় বা সমর্থকদের রাজনৈতিক বার্তা প্রদর্শন নিষিদ্ধ। তাই এই ঘটনার জেরে ফিফা আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে পারে। স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপ ফাইনালের আগেই এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে আলোচনা চলছে।
আরও জানা গেছে, ম্যাচ শেষে ব্যানারটি আর্জেন্টিনা দলের শিবিরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে। দলের একজন কর্মকর্তা হোটেলে রাখা সেই পতাকার ছবি প্রকাশ করে লিখেছেন, ‘যাদের জানার প্রয়োজন, তাদের জন্য বলছি—এটি নিরাপদ হাতেই রয়েছে।’
এদিকে আর্জেন্টিনার একটি সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, দলটি মালভিনাস (ফকল্যান্ড) যুদ্ধের প্রবীণ যোদ্ধাদের জন্য স্বাক্ষর করা একটি জার্সিও পাঠিয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক ব্যক্তি দাবি করেছেন, তার আত্মীয়ই হোটেলের চাদরে ওই পতাকাটি এঁকেছিলেন। তবে সম্ভাব্য শাস্তির আশঙ্কায় ওই ব্যক্তির পরিচয় প্রকাশ করা হয়নি।
যুক্তরাজ্যের ব্যবসা ও বাণিজ্যবিষয়ক মন্ত্রী পিটার কাইল এই ঘটনাকে ‘সম্পূর্ণ অনুচিত’ বলে মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, ইংল্যান্ডের খেলোয়াড়রা মর্যাদাপূর্ণ আচরণ করেছে, যা আর্জেন্টিনার আচরণের সম্পূর্ণ বিপরীত।
বিরোধী দলের নেতা অ্যান্ড্রু গ্রিফিথও কঠোর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বলেন, এই কর্মকাণ্ড স্পষ্টভাবে বিশ্ব ফুটবলের নিয়ম লঙ্ঘন করেছে এবং এর জন্য সংশ্লিষ্টদের শাস্তি হওয়া উচিত।
ফিফা এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। তবে সংগঠনটির ওপর আর্জেন্টিনার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার চাপ বাড়ছে। একই সঙ্গে রোমেরো ও মার্তিনেসের ক্লাবগুলোকেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এর আগে ১২ বছর আগে একটি প্রীতি ম্যাচেও একই ধরনের পতাকা প্রদর্শনের কারণে আর্জেন্টিনাকে জরিমানা করা হয়েছিল। তবে এবার বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে এমন ঘটনা ঘটায় আরও কঠোর শাস্তির দাবি উঠেছে।
এর সাম্প্রতিক নজিরও রয়েছে। ২০২৪ সালে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ের পর ‘জিব্রাল্টার স্পেনের’ স্লোগান দেওয়ায় স্পেনের দুই খেলোয়াড় রদ্রি ও আলভারো মোরাতাকে এক ম্যাচের জন্য নিষিদ্ধ করেছিল ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা।
১৯৮২ সালের মালভিনাস যুদ্ধে মোট ৯০৭ জন নিহত হন, যার মধ্যে ২৫৫ জন ছিলেন ব্রিটিশ সেনাসদস্য। ওই দ্বীপপুঞ্জের মালিকানা নিয়ে যুক্তরাজ্য ও আর্জেন্টিনার বিরোধ আজও অব্যাহত রয়েছে।
বিশ্বকাপের সেমিফাইনালের আগে থেকেই এই ইস্যু নিয়ে উত্তেজনা তৈরি হয়েছিল। শেষ ষোলোতে মিসরকে হারানোর পরও আর্জেন্টিনার খেলোয়াড়দের মালভিনাস নিয়ে স্লোগান দিতে দেখা যায়।
আর্জেন্টিনার উপ-রাষ্ট্রপতি ভিক্টোরিয়া ভিয়াররুয়েল সেমিফাইনাল জয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘এটি শুধু আরেকটি ম্যাচ ছিল না।’ তিনি আরও বলেন, ‘মালভিনাস আর্জেন্টিনার। স্টেডিয়ামে পতাকা নিতে বাধা দেওয়া গেলেও আমাদের রক্ত আর হৃদয় থেকে তা কেউ মুছে ফেলতে পারবে না।’
আরও পড়ুন : ২০২৬ সালে যে ৮ দক্ষতা আপনাকে সফলতা এনে দেবে
উল্লেখ্য, ২০১৩ সালে অনুষ্ঠিত এক গণভোটে দ্বীপপুঞ্জের ৯৯ দশমিক ৮ শতাংশ বাসিন্দা যুক্তরাজ্যের অধীনেই থাকার পক্ষে মত দিয়েছিলেন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



