কিশোরগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য বীর মুক্তিযোদ্ধা ফজলুর রহমানের বক্তব্য ঘিরে আজ মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) উত্তপ্ত হয়ে ওঠে জাতীয় সংসদ। প্রায় ১০ মিনিট অচল থাকে সংসদ অধিবেশন। ফজলুর রহমান বলেন, ‘কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা শহীদ পরিবারের সদস্য জামায়াত করতে পারে না, করলে তা দ্বিগুণ অপরাধ।’

ফজলুর রহমান

Advertisement

জামায়াতের সদস্যরা এসময় প্রতিবাদ জানান। অন্যদিকে এসময় বিএনপি দলীয় সদস্যদের কেউ কেউ ফজলুর রহমানের পক্ষে টেবিল চাপড়ালেও অনেককে আবার উত্তেজনা প্রশমনে ভূমিকা রাখতে দেখা যায়।

জুলাই অভ্যুত্থানের সঙ্গে মুক্তিযুদ্ধের তুলনা এবং যুদ্ধাপরাধীদের বিষয়ে শোকপ্রস্তাবের বিরোধিতা করেন ফজলুর রহমান। এসময় বিরোধী দলের হইচই ও প্রতিবাদের মুখে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ সবাইকে শান্ত থাকতে বলেন এবং বিধিমোতাবেক না চললে সংসদ না থাকার হুঁশিয়ারি দেন।

আজ সংসদ অধিবেশনে সভাপতিত্ব করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীরবিক্রম)।

ফজলুর রহমান বলেন, ‘৫ আগস্টের পরে যে থানা লুট হয়েছে, পুলিশ হত্যা হয়েছে, তারা তো তখন যুদ্ধ করেনি, তারা তো নিরপরাধ। এত অস্ত্র গেল কোথায়? ৫ আগস্টের পরে যে ঘটনাগুলো হয়েছে সেগুলো তো কোনো আইনে ইনডেমনিটি পাওয়ার কথা না। সেটার জন্য তদন্ত হওয়া উচিত।’

তিনি বলেন, ‘স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিশ্চয়ই আমার নেতা, তিনিও শুনছেন। আমি কথাগুলো বলছি ৫ আগস্টের পরে যে ঘটনাগুলো হয়েছে সেগুলো নিয়ে। ৫ আগস্টের পরবর্তীতে তো কোনো আইনে ইনডেমনিটি পাওয়ার কথা না।’

বিএনপির এই সংসদ সদস্য বলেন, ‘৫ আগস্টের আগে পুলিশ যা করেছে তারা রাষ্ট্রীয় বাহিনী। তারা যদি অন্যায় করে থাকে তাদের বিচার হোক। কিন্তু আমি মনে করি তারা তো দেশের নাগরিক। পুলিশের মা, বাবা ও সন্তান রয়েছে। অন্তত রাষ্ট্রের তাদের কাছে গিয়ে বলা উচিত, তোমার সন্তান যদি নিহত হয়ে থাকে আমরা তোমাদের দেখব।’

ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমি কমান্ডার ছিলাম, আপনি (স্পিকার) বীরবিক্রম ছিলেন। ১৬ ডিসেম্বরের (১৯৭১ সালের) পরে শত শত রাজাকার আমার কাছে আত্মসমর্পণ করছে। আমি কাউকে হত্যা করিনি। সবাইকে জেলে পাঠিয়েছি। তার বিচার হবে।’

পরে সংসদে নিজের বক্তৃতায় কড়া জবাব দেন বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্য (ফজলুর রহমান) বয়সে আমার বড়। তিনি মুক্তিযুদ্ধে তার অবদানের সবকিছুই বলেছেন। কিন্তু নিজের অবদান বলতে গিয়ে আরেকজনের অবদানের উপরে হাতুড়িপেটার অধিকার কাউকে দেওয়া হয়নি।’

বিরোধী দলীয় নেতা বলেন, ‘তিনি ব্যক্তিগতভাবে আমাকে আঘাত করেছেন। তিনি বলেছেন—যে আমি বলে থাকি, আমি শহীদ মুক্তিযোদ্ধা পরিবারের সদস্য। তিনি এটাকে চ্যালেঞ্জ করেছেন। এরপর তিনি বলেছেন—কোনো মুক্তিযোদ্ধা বা কোনো শহীদ মুক্তিযোদ্ধার পরিবারের কেউ জামায়াতে ইসলামী করতে পারেন না। তাহলে ওনাকে জিজ্ঞেস করে করা (জামায়াতে ইসলামীর রাজনীতি করা) লাগবে? এটি আমার নাগরিক অধিকার।

জামায়াত আমির বলেন, ‘আমি কোন দল করব, আমি কোন আদর্শ করব; এর উপর হস্তক্ষেপ করার নূন্যতম অধিকার রাষ্ট্র কিংবা সংবিধান কাউকে দেয়নি। আমি এটার তীব্র নিন্দা জানাই। আমার আইডেন্টিটি (পরিচয়) নিয়ে প্রশ্ন করা হয়েছে, এটা তিনি গুরুতর অপরাধ করেছেন। আবার তিনি আমার আদর্শ বাছাইয়ের বিষয়ে প্রশ্ন তোলে বাড়তি অপরাধ করেছেন।’

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন, কমবে দেশেও

‘আমি অনুরোধ করব মাননীয় স্পিকার, তার বক্তব্যের অসংশোধীয় অংশ বাদ দেওয়া হোক’—বক্তব্যে যোগ করেন ডা. শফিকুর রহমান।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Md Elias is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency across digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and reader-focused reporting.