
জাহিদ ইকবাল: রাজধানী ঢাকায় দীর্ঘদিনের যানজট ও পথচারীদের দুর্ভোগ নিরসনে অবশেষে কঠোর পদক্ষেপে যাচ্ছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। বুধবার (১ এপ্রিল) থেকে মহানগরজুড়ে ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করতে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে, যা পর্যায়ক্রমে শহরের গুরুত্বপূর্ণ ট্রাফিক জোনগুলোতে পরিচালিত হবে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, রাজধানীকে আটটি ট্রাফিক বিভাগে ভাগ করে এই অভিযান পরিচালনা করা হবে। প্রথম ধাপে রমনা বিভাগ থেকে অভিযান শুরু হয়ে ধাপে ধাপে গুলশান বিভাগ পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। প্রতিটি এলাকায় স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের সমন্বয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালিত হবে, যাতে আইন প্রয়োগ কার্যকর ও দৃশ্যমান হয়।
ডিএমপির তথ্যমতে, ঢাকা শহরের প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ ফুটপাত কোনো না কোনোভাবে দখল হয়ে আছে—যার বড় একটি অংশ নিয়ন্ত্রণ করছে প্রভাবশালী ব্যবসায়ী গোষ্ঠী। ফলে প্রতিদিন লক্ষাধিক পথচারী বাধ্য হয়ে মূল সড়কে নেমে চলাচল করছে, যা সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি বাড়ানোর পাশাপাশি কৃত্রিম যানজট সৃষ্টি করছে। নগর পরিকল্পনাবিদদের মতে, ফুটপাত দখলমুক্ত করা গেলে ঢাকার যানজট অন্তত ২০-৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানো সম্ভব।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান জানিয়েছেন, এই অভিযান সাধারণ ক্ষুদ্র হকারদের বিরুদ্ধে নয়। বরং যেসব বড় ও সামর্থ্যবান ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত সীমানা ছাড়িয়ে ফুটপাত ও সড়কের ওপর স্থায়ী বা অস্থায়ী স্থাপনা নির্মাণ করেছে—তাদেরই মূলত টার্গেট করা হচ্ছে। বিশেষ করে রেস্টুরেন্টের রান্নাঘর, গ্রিল বা কাবাব মেশিন, গাড়ির ওয়ার্কশপের যন্ত্রপাতি এবং আসবাবপত্র রাস্তার ওপর স্থাপন করে চলাচলে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হচ্ছে—এসব কার্যক্রমের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি গ্রহণ করা হয়েছে।
এর আগে গত ২৩ মার্চ ডিএমপির ভারপ্রাপ্ত কমিশনার মো. সরওয়ার স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে সতর্ক করে বলা হয়, যারা অবৈধভাবে ফুটপাত ও সড়ক দখল করে ব্যবসা পরিচালনা করছেন, তাদের অবিলম্বে মালামাল সরিয়ে নিতে হবে। অন্যথায় আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্টের মাধ্যমে জরিমানা, মালামাল জব্দসহ কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ঢাকায় প্রতিদিন প্রায় ১.৫ থেকে ২ কোটি মানুষ চলাচল করে, যার একটি বড় অংশ পথচারী। কিন্তু নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন হাঁটার জন্য প্রয়োজনীয় ফুটপাতের অভাব ও দখলদারিত্ব নগরবাসীর জীবনমানকে মারাত্মকভাবে প্রভাবিত করছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অভিযান ধারাবাহিকভাবে পরিচালিত হলে তা নগর ব্যবস্থাপনায় ইতিবাচক পরিবর্তন আনতে পারে।
ডিএমপি আরও জানিয়েছে, হকারদের সম্পূর্ণ উচ্ছেদ নয়, বরং তাদের জন্য বিকল্প ব্যবস্থা গড়ে তোলার পরিকল্পনাও রয়েছে। নির্ধারিত স্থানে ‘হলিডে মার্কেট’ ও ‘নাইট মার্কেট’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে, যাতে ক্ষুদ্র ব্যবসায়ীরা জীবিকা হারানো ছাড়াই সুশৃঙ্খলভাবে ব্যবসা পরিচালনা করতে পারে।
জনস্বার্থে গৃহীত এই উদ্যোগ সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে রাজধানীতে পথচারীদের নিরাপদ চলাচল নিশ্চিত হওয়ার পাশাপাশি যানজট কমে আসবে—এমন প্রত্যাশা নগরবাসীর। এখন দেখার বিষয়, এই অভিযান কতটা ধারাবাহিক ও কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করতে পারে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


