লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য

ফুসফুসের সুস্থতায় যে খাবারগুলো খাওয়া বেশি জরুরি

লাইফস্টাইল ডেস্ক : কোন খাবারগুলো হৃদযন্ত্র সুস্থ রাখবে, ভালো রাখবে পাকস্থলী সেটা নিয়ে সব সময় কথা বলা হয়।  জানানো হয় কোন প্রাকৃতিক খাদ্যের জোর দিলে সুস্থ থাকা যাবে, ঘুম ভালো হবে। কিন্তু বর্তমান সময়ের পরিপ্রেক্ষিতে সবচেয়ে বেশি জরুরি হয়ে উঠেছে ফুসফুসের সুস্থতা নিয়ে মাথা ঘামানো।

বায়ুদূষণ ও শহরের ক্ষতিকর ধুলাবালিতে প্রতি মুহূর্তে শ্বাস গ্রহণে দুর্বল ও অসুস্থ হয়ে পড়ছে ফুসফুস। ফলে বাড়ছে শ্বাসকষ্টর সমস্যা ও ফুসফুসজনিত রোগের প্রকোপ।

ঘরের বাইরে বের হলে অবশ্যই প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে হবে। কিন্তু এটাও যথেষ্ট নয় ফুসফুসের সুস্থতার জন্য। এর পাশপাশি ফুসফুসের জন্য উপকারী খাবার গ্রহণের দিকেও নজর দিতে হবে। যা নাসারন্ধ্র, শ্বাসনালিকা, ফুসফুসকে ভালো রাখতে কাজ করবে।

তৈলাক্ত মাছ

এই তালিকায় তৈলাক্ত মাছ থাকবে প্রথম দিকে। মাছের তেলে থাকা ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড ফুসফুসের সুস্থতার সাথে সরাসরি সম্পর্কিত।

আপেল

প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিনের খাদ্য তালিকায় একটি আপেল নানাবিধ রোগকে দূরে রাখার পাশপাশি ফুসফুসকে রাখবে স্বাস্থ্যকর ও কর্মক্ষম। লন্ডনের সেন্ট জর্জস হসপিটাল মেডিক্যাল স্কুলের গবেষণার তথ্য জানাচ্ছে, আপেলে থাকা ফেনলিক অ্যাসিড ও ফ্ল্যাভনয়েড বায়ু নির্গমন নালিকার (Air passageways) প্রদাহকে কমাতে কাজ করে। ফলে শ্বাসকষ্টের সমস্যা কমে যায়।

অলিভ অয়েল


মনো ও পলিআনস্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ফাইটোনিউট্রিয়েন্ট সমৃদ্ধ অলিভ অয়েল শুধু ত্বক, চুল ও হৃদযন্ত্রের জন্যেই নয়, ফুসফুসের সুস্থতাতেও অবদান রাখে। গবেষকদের মতে এতে থাকা অলিক অ্যাসিড শ্বাস গ্রহণের উপর ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই অ্যাসিডে থাকা প্রদাহ বিরোধী ধর্ম শ্বাসনালীকার প্রদাহ দেখা দেওয়া থেকে প্রতিরোধ করে।

কফি

ঘুমভাব তাড়ানোর পাশাপাশি শ্বাসকষ্টের প্রকোপ কমাতেও পান করতে পারেন কফি। কফিতে থাকা ক্যাফেইনকে বলা হচ্ছে হালকা ধরনের ব্রঙ্কোডাইলেটর (Bronchodilator), যা নিঃশ্বাস গ্রহণকে সহজ করে দেয়। প্রতিদিন সকালে কফি পানে শ্বাসপ্রশ্বাসের মানে উন্নতি ঘটবে।

গ্রিন টি

যারা কফি পান করতে পারেন না, তাদের জন্য রয়েছে গ্রিন টি। অ্যান্টি অক্সিডেন্টে পরিপূর্ণ এই পানীয় প্রদাহ কমাতে সবচেয়ে ভালো কাজ করে। গ্রিন টির বিশেষ একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হলো কোয়ারসেটিন (Quercetin), যা অ্যান্টিহিস্টামিন হিসেবে কাজ করে। যার অর্থ হলো, গ্রিন টি শরীরে হিস্টামিন ও অন্যান্য প্রদাহ তৈরিকারী উপাদানের কার্যকারিতাকে স্লথ করে দেয়।

কমলা বর্ণের ফল ও সবজি

কমলা বর্ণের ফল ও সবজি যেমন- কমলালেবু, মাল্টা, পেঁপে, মিষ্টিকুমড়া, গাজরে রয়েছে ফুসফুসের জন্য উপকারী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, বিশেষত ভিটামিন-সি। ভিটামিন-সি ইনফেকশন ও প্রদাহের বিরুদ্ধে কাজ করে বলে এই খাদ্য উপাদানগুলো ৫২ শতাংশ পর্যন্ত ফুসফুসকে ভালো রাখতে কাজ করে। এমনটাই জানাচ্ছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অ্যালার্জি, অ্যাজমা এন্ড ক্লিনিক্যাল ইমিউনলজি নামক জার্নাল।

দানাদার খাবার 

বেশিরভাগ দানাদার খাবার থেকেই পাওয়া যায় পর্যাপ্ত পরিমাণ আঁশ। এমন কিছু স্বাস্থ্যকর দানাদার খাবার হলো কুইনো ও ব্রাউন রাইস। এই দানাদার খাবারগুলো কার্বন-ডাই-অক্সাইড তৈরির মাত্রা বৃদ্ধিতে ও ফুসফুসের চাপ কমাতে কাজ করে।


জুমবাংলানিউজ/এসএস




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


rocket

সর্বশেষ সংবাদ