ফেনীতে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা বেড়েছে

ফেনী

আরিফুল আমীন রিজভী, বাসস: ফেনীতে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা উল্লে­খযোগ্য হারে বেড়েছে। জেলার বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিকের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের তথ্যমতে, স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা বাড়ায় চাহিদা অনুযায়ী সহজেই রোগীদের রক্তের যোগান দিতে স্বয়ংসম্পূর্ণ ফেনী। উল্লেখিত সূত্রগুলোর তথ্যমতে ফেনীতে প্রতিমাসে গড়ে ৭শ ব্যাগের অধিক রক্তের চাহিদা রয়েছে।

এ প্রসঙ্গে ফেনী জেনারেল হাসপাতালের রক্ত পরিসঞ্চালন বিভাগের ইনচার্জ মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সালেহ উদ্দিন পাটোয়ারী জানান, জেলার প্রায় অর্ধেকের বেশি রক্ত ফেনী জেনারেল হাসপাতালে পরিসঞ্চালন করা হয়। অত্র হাসপাতালে প্রতিমাসে গড়ে ৪ শতাধিক রক্ত পরিসঞ্চালন হয়ে থাকে। যার ৮০ শতাংশ আসে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন হতে। বাকী ২০ শতাংশ আসে আত্মীয় ও পেশাদার রক্তদাতাদের কাছ থেকে।

তিনি জানান, চলতি বছরের মে মাসে ৩৫৩ ব্যাগ রক্তের প্রয়োজন হয়েছে। এর আগে এপ্রিল মাসে ৪২৭ ব্যাগের চাহিদা ছিল।

ঈসমাইল হোসেন (১৫) নামে থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত এক কিশোরের অভিভাবক জানান, আমার ছেলের জন্য প্রতিমাসে রক্তের প্রয়োজন হয়। দুই বছর আগেও ১ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করতে অনেক হিমশিম খেতে হত। তবে সম্প্রতি খুব সহজেই রক্ত পাওয়া যাচ্ছে বলেন তিনি।

স্বেচ্ছায় রক্তদাতা সংগঠন রক্তকণিকা ফেনী জেলা সভাপতি খোন্দকার সুমন জানান, করোনাকালেও রোগীদের চাহিদামতো রক্তের যোগান দিতে স্বেচ্ছাসেবকরা নিরলস পরিশ্রম করে যাচ্ছে। এসময়ে সহজে রক্তের যোগান দিতে জেলার স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে নিয়ে রক্তমঞ্চ নামে একটি গ্রুপ খোলা হয়েছে। তাদের সংগঠন থেকে গতমাসে ১৩৭ ব্যাগ রক্তের যোগান দেয়া হয়েছে বলে জানান সুমন।

দিবসের উদ্দেশ্য উল্লেখ করে সরকার নিবন্ধিত রক্তদাতা সংগঠন ফ্রেন্ডস ইউনিটি ব্লাড ডোনার ক্লাবের সভাপতি আনোয়ার হোসেন জাহিদ বলেন, গতমাসে সংগঠনের পক্ষ থেকে ৬০ জন রোগীর জন্য রক্তের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

অরুপ বণিক নামে এক স্বেচ্ছায় রক্তদাতা বলেন, প্রতি ৪ মাস পরপর রক্ত দেয়ার চেষ্টা করি। এমন দানে অনেক আত্মতৃপ্তি পাওয়া যায়।

স্বেচ্ছায় রক্তদাতা জাহিদুল ইসলাম হৃদয় বলেন, প্রথমদিকে পরিবার থেকে নিষেধ করতো। তবে বিষয়টি বোঝানোর পর থেকে এখন আর সমস্যা হয় না।

মেডিকেল টেকনোলজিস্ট সালেহ উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, জেলার বেশির ভাগ থ্যালাসেমিয়া রোগীরা স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনের মাধ্যমে রক্ত গ্রহণ করে থাকে। এছাড়াও হাসপাতালের ডায়ালাইসিস ইউনিট, জরুরি সার্জারিসহ রক্তস্বল্পতা আক্রান্তরা পারিবারিক ও রক্তদাতা সংগঠনের মাধ্যমে রক্ত গ্রহণ করছে।

জয়নাল আবেদিন ব্লাড ব্যাংকের ল্যাব ইনচার্জ তুষার দেবনাথ জানান, ব্লাড ব্যাংকে মে মাসে ৪০ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিমাসে গড়ে ৬০ থেকে ৬৫ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ হয় বলে জানান তিনি।

ফেনী জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা (আরএমও) ডা. ইকবাল হোসেন ভূঁইয়া জানান, বর্তমানে স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলোকে উদ্বুদ্ধকরণের ফলে ফেনীতে স্বেচ্ছায় রক্তদাতার সংখ্যা অনেক বেড়েছে। বিষয়টি নিয়ে যদি জনপ্রতিনিধিসহ সব পর্যায়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে কাজ করেন, তাহলে সংকটাপন্ন রোগীর জীবন রক্ষায় আরও ভূমিকা রাখা যাবে।

উল্লেখ্য, কার্ল ল্যান্ডসটেইনার ট্রান্সফিউশন মেডিসিনের জনক। তার জন্মদিন হলো ১৪ জুন। ১৮৬৮ সালের ১৪ জুন তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তিনি ১৯০০ সালে মতান্তরে ১৯০১ সালে ব্লাড গ্রুপ সিস্টেম আবিষ্কার করেন। এর আগে রক্তদানের বিষয়টি মোটেও সহজ ছিল না। গ্রুপ নির্দিষ্ট ছিল না। তিনি ১৯৩০ সালে এবিও ব্লাড গ্রুপ আবিষ্কারের জন্য নোবেল পুরষ্কার পান। তার জন্মদিনকে স্মরণ করে প্রতিবছর ১৪ জুন রক্তদাতা দিবস পালন করা হয়।

আজকের জনপ্রিয়:
>> আয়ু কমে যাওয়ার ৭ কারণ
>> সন্তানদের যে আমলের অভ্যাস করানো জরুরি
>> ছেলেদের যে বিষয়গুলো মেয়েরা সবার আগে খেয়াল করে


Share:





জুমবাংলানিউজ/একেএ