in

ফেরি নয়, যেন মানুষের সমুদ্র

রোববার থেকে রপ্তানিমুখী শিল্প তথা পোশাক কারখানা খুলে দেওয়ার ঘোষণায় দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে শনিবার সকাল থেকে ঢাকামুখী যাত্রীদের উপচে পড়া ভিড় সৃষ্টি হয়েছে।

পাটুরিয়া ঘাট থেকে কোনো ফেরি দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে আসা মাত্রই তাতে উঠার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ছে অসংখ্য মানুষ। এ সময় ফেরিতে আসা যাত্রী ও যানবাহনগুলোকে নিচে নামানোই দুষ্কর হয়ে পড়ছে।

ফেরি ও ঘাট সংশ্লিষ্টদের ধারণা, দৌলতদিয়া ঘাট থেকে ছেড়ে যাওয়া প্রতিটি রোরো (বড়) ফেরি অন্তত ৩ থেকে সাড়ে ৩ হাজার যাত্রী বহন করছে। যাত্রীদের চাপে দু’একটি এ্যাম্বুলেন্স, কিছু ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেল বাদে অন্য কোনো যানবাহন ফেরিতে উঠার সুযোগ পাচ্ছিল না।

এ অবস্থায় বাধ্য হয়ে কঠোর লকডাউনের মধ্যেও কর্তৃপক্ষ ফেরির সংখ্যা বাড়িয়ে রুটের সবগুলো (১৬টি) ফেরিই চালু করেছে। সেই সঙ্গে খুলে দেয়া হয়েছে সব ফেরিঘাট (৫ টি)।

সরেজমিনে বেলা ১১টার দিকে দেখা যায়, পাটুরিয়া থেকে ছেড়ে আসা ভাষা শহীদ বরকত নামের রোরো ফেরিটি দৌলতদিয়ার ৫নং ঘাটে এসে ভেড়ামাত্রই পন্টুন ও আশপাশে অপেক্ষমাণ অসংখ্য যাত্রী ফেরিতে উঠার জন্য হুমড়ি খেয়ে পড়ে। এ সময় ওপার থেকে আসা যাত্রী ও যানবাহনগুলো ফেরি হতে ঠিকমতো নামতে পারছিল না।

উভয়মুখী যাত্রীদের ভিড়ে সেখানে অস্বস্তিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। স্বাস্থ্যবিধি মারাত্মকভাবে লঙ্ঘিত হয়। পরিস্থিতি মোকাবিলায় ঘাটে নিযুক্ত আইনশৃঙ্খলা বাহিনী চেষ্টা চালিয়ে গেলেও কর্মমুখী জনতার চাপে তাদের সব চেষ্টা ব্যর্থতায় পরিণত হয়।

এদিকে ঢাকা-খুলনা মহাসড়কে ছোট ছোট যানবাহনের চাপ ছিলে চোখে পড়ার মতো। দক্ষিণাঞ্চলের বিভিন্ন জেলা -উপজেলা হতে অসংখ্য মানুষ ব্যক্তিগত গাড়ি, রিকশা,অটোরিকশা, ভ্যান, মাহেন্দ্রযোগে ছুটে আসছেন দৌলতদিয়া ঘাটে। এতে দ্বিগুণ/তিনগুণ ভাড়া দেয়ার পাশাপাশি তাদের পোহাতে হচ্ছে সীমাহীন দুর্ভোগ। যাত্রীরা বলছেন,পরিস্থিতি বিবেচনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীও পথে আজকে কিছুটা ঢিলেঢালা ভাব দেখাচ্ছে।

চুয়াডাঙ্গা থেকে ২ হাজার টাকায় একটি অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে দৌলতদিয়া ঘাটে আসা যাত্রী আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন। চাকরি রক্ষার্থে তাকে যেতেই হবে। তবে স্ত্রী ও ছোট বাচ্চা নিয়ে যেতে খুবই কষ্ট হচ্ছে। গণপরিবহণ বন্ধ থাকায় রোদে পুড়ে, বৃষ্টিতে ভিজে গন্তব্যে যেতে হচ্ছে। গণপরিবহণ বন্ধ রেখে কল -কারখানা খোলার ঘোষণায় তাদের এ দুর্ভোগ হচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

মাগুরা হতে আসা অ্যাম্বুলেন্স চালক হাবিবুর রহমান বলেন, দৌলতদিয়ার ফেরিঘাটগুলোতে মানুষের প্রচুর চাপ। ঘাটে কোনো ফেরি আসার সঙ্গে সঙ্গেই যাত্রীরা হুড়মুড়িয়ে উঠে যাচ্ছে। আমি জরুরী রোগী নিয়ে ঘণ্টা খানেকের মতো দাঁড়িয়ে আছি। কিন্তু ফেরিতে উঠতেই পারছি না।

বিআইডব্লিউটিসির দৌলতদিয়া কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক শিহাব উদ্দিন বলেন, জরুরি যাত্রী ও যানবাহন পারাপারের জন্য গত কয়েকদিন ধরে এ নৌরুটে ছোট-বড় ৮টি ফেরি চলাচল করছিল। কিন্তু যাত্রীদের অত্যধিক চাপ বেড়ে যাওয়ায় শনিবার বেলা সাড়ে ১১টা থেকে রুটের সবগুলো ফেরিই (১৬টি) চালানো হচ্ছে। সেইসঙ্গে সবগুলো ফেরিঘাটও খুলে দেয়া হয়েছে।