ফেসবুকে ঢুঁ মারতেই মেয়ের আপত্তিকর ‘ভাইরাল’ ভিডিও দেখলেন মা

অবসর সময় পেলেই ফেসবুকে একটু-আধটু ঢুঁ মারতেন ১৮ বছরের তরুণী মিমের (ছদ্মনাম) মা। প্রতিদিন নিউজ ফিডে দেশ-বিদেশের বিভিন্ন খবর দেখতেন। কিন্তু সেদিন ফেসবুকে ঢুঁ মারতেই নিজ মেয়ের ভাইরাল হওয়া আপত্তিকর ছবি-ভিডিও দেখলেন তিনি। যা দেখে হতভম্ব হয়ে পড়েন এ তরুণীর মা।

ঘটনাটি ঘটেছে কক্সবাজারের চকরিয়া উপজেলায়। এ ঘটনায় চকরিয়া থানায় মামলা করেন ভুক্তভোগী তরুণীর মা।

ভুক্তভোগী তরুণী চকরিয়ার একটি কলেজের একাদশ শ্রেণির ছাত্রী। অভিযুক্ত যুবকের নাম মো. নাঈম উদ্দিন। তিনি বান্দরবানের লামা উপজেলার কেদারবাদ গ্রামের নাছির উদ্দিনের ছেলে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তিন বছর আগে কলেজপড়ুয়া ওই তরুণীর সঙ্গে নাঈমের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। প্রতিদিনই মোবাইল ফোনে দুজনের কথা হতো। প্রায়ই প্রেমিকের ছোটখাটো আবদার পূরণ করতেন প্রেমিকা।

এক সময় প্রেমিকার একান্ত ব্যক্তিগত ছবি ও ভিডিও ধারণ করতে চান প্রেমিক নাঈম। প্রথমে রাজি না হলেও বিশ্বাস এবং ভালোবাসার শপথ করলে ভিডিও কলে নাঈমের সামনে আসেন ওই তরুণী। আর সেই সুযোগে প্রেমিকার আপত্তিকর কিছু ছবি স্ক্রিনশট ও ভিডিওধারণ করে নেন নাঈম।

একপর্যায়ে প্রেমিকার সঙ্গে একান্তে দেখা করতে গত বছরের ৬ সেপ্টেম্বর রাত ১০টার দিকে বান্দরবনের লামা থেকে চকরিয়া আসেন প্রেমিক নাঈম। ওই সময় স্থানীয় লোকজনের চোখ ফাঁকি দিয়ে প্রেমিকার কক্ষে ঢোকেন তিনি।

পরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ওই তরুণীকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন নাঈম। একই সঙ্গে নিজের ব্যক্তিগত মোবাইলে রেকর্ড করে রাখেন। ভোর হওয়ার আগেই নাঈম কৌশলে তরুণীর ঘর থেকে সটকে পড়েন। এরপর থেকে নিজের ব্যবহৃত মোবাইল নম্বরে কল করলেও তরুণীর কল ধরতেন না প্রেমিক নাঈম।

একপর্যায়ে কল ধরলেও তরুণীকে মোবাইলে কল দিতে নিষেধ করেন নাঈম। কল দিলে তাদের একান্ত মুহূর্তের আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করে দেওয়ার হুমকি দেন।

এরই ধারাবাহিকতায় চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি তরুণীর নামে একটি ফেইক ফেসবুক আইডি খোলেন নাঈম। সেখানে তরুণীর আপত্তিকর ছবি ও ভিডিও পোস্ট করেন। তরুণীর মা বিষয়টি ফেসবুকে দেখে চকরিয়া থানায় মামলা করেন।

এরপর ১৭ জুন রাত ৮টার দিকে বরইতলী ইউনিয়নের বানিয়ারছড়া এলাকা থেকে অভিযুক্ত প্রতারক প্রেমিক মো. নাঈমকে গ্রেফতার করে পুলিশ। এছাড়া তার ব্যবহৃত মোবাইল সেটও উদ্ধার করা হয়।

চকরিয়া থানার ওসি শাকের মুহাম্মদ যুবায়ের বলেন, ভুক্তভোগীর মামলার পরিপ্রেক্ষিতে অভিযুক্ত মো. নাঈম উদ্দিনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ও পর্নোগ্রাফি নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা রুজু হয়েছে।


জুমবাংলানিউজ/ জিজি