in

ফেসবুকে ভাইরাল মাহফুজুর রহমানকে ছেড়ে ইভার দ্বিতীয় বিয়ের খবর

জুমবাংলা ডেস্ক : বেসরকারি টিভি চ্যানেল এটিএন বাংলার চেয়ারম্যান ড. মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে গায়িকা ইভা রহমানের বিবাহবিচ্ছেদের ঘটনা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে এখন হট টপিক্স। শুধু তাই নয়, মাহফুজুর রহমানকে ছেড়ে নতুন করে ঘরও বেঁধেছেন ইভা। তার এই বিবাহবিচ্ছেদ ও নতুন বিয়ে নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে মন্তব্যের ঝড় তোলেন নেটিজেনরা।

ইভা রহমান এটিএন বাংলায় সংবাদ পাঠক হিসেবে কাজ করতেন। সেই সুবাদেই পরিচয় চ্যানেলটির চেয়ারম্যান মাহফুজুর রহমানের সঙ্গে।গড়ে উঠে সখ্যতা। শুরু হয় মন দেয়া নেয়া। অত:পর বিয়েও করেন তারা। হাসি আনন্দ নিয়ে সুখেই সংসার করে আসছিলেন এই দম্পতি। বিভিন্ন সময় সে সুখের বহিঃপ্রকাশও দেখা গেছে। কিন্তু দীর্ঘ দিনের সেই সংসার ভেঙে যাওয়ায় নানা বিরূপ প্রতিক্রিয়া জানান নেটিজেনরা।

ইভা বর্তমানে নতুন স্বামীর সঙ্গে রাজধানীর গুলশানে বসবাস করছেন। তাদের বিয়ের খবরটি গণমাধ্যমকে নিশ্চিত করেছেন গায়ক রবি চৌধুরী।

ইভা রহমানের দ্বিতীয় বিয়ে প্রসঙ্গে জৈষ্ঠ্য সাংবাদিক, কলামিস্ট ও গবেষক মেহেদী হাসান পলাশ লিখেছেন, ‘‘একটা সময় দ্বিতীয় সংসার করাটা বাংলাদেশের সমাজে খুব নেতিবাচকভাবে দেখা হতো। বর্তমানে সেই ট্যবু ভেঙেছে বলে মনে হচ্ছে। মানুষ এখন খুব সহজেই দ্বিতীয় সংসার শুরুর সিদ্ধান্ত নিতে পারছে। পারিবারিক সংহতি ও শৃঙ্খলার জন্য এই ডেভলপমেন্টটা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যদিও সংসার ভাঙ্গা আমি কোনোভাবেই সমর্থন করিনা, তবুও নানা কারণে ভেঙে যায়। এটাই বাস্তবতা। সেখানে দাঁড়িয়ে দ্বিতীয় বিবাহ করার সিদ্ধান্ত সহজভাবে নিতে পারাটা সমাজের জন্য খুবই ইতিবাচক পরিবর্তন।

তবে আমাদের দেশীয় আইনে দ্বিতীয় বিবাহের ক্ষেত্রে স্ত্রীর অনুমতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। এটাকে যদি সঠিক ধরা হয়, তবে যথেষ্ট যুক্তিসঙ্গত কারণ থাকার পরও যদি স্ত্রী দ্বিতীয় বিবাহ করতে অনুমতি না দেয়, সে ক্ষেত্রে পুরুষকে সঙ্গত কারণ দেখিয়ে আইনগতভাবে দ্বিতীয় বিয়ের অনুমতি পাওয়ার সুযোগ রাখা উচিত। সমাজে সংক্রামক ব্যাধির মতো ছড়িয়ে পড়া ব্যভিচার রোধে এটা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।’’

আনোয়ার হোসাইন লিখেছেন, ‘‘কি না আছে মাহফুজুর রহমানের, তারপরও কেন বউ তাকে ছেড়ে অন্যজনকে বিয়ে করে। উত্তর হলো জানিনা। তবে এই টুকু বলব বিয়ের নামে শিক্ষিত অশিক্ষিত ধনী দরিদ্র সকল নারী পুরুষের মধ্যেই দেহ পরিবর্তন নতুন দেহের সাদ নিতে বিয়ে ভাংগার যেন উৎসব চলছে। এতে বহুল ব্যবহারিত হচ্ছে বিয়ে ভাংগা নামক শব্দটি। এই শব্দটিকে ব্যবহার করেই চলছে নতুন নতুন দেহের স্বাদ নেওয়ার মহোৎসব।’’

তাওহীন আফ্রিদি লিখেছেন, ‘‘জীবনে বিরহ না থাকলে, প্রকৃত গায়ক বা শিল্পী হওয়া যায় না। অভিনন্দন মাহফুজ স্যারের জন্য। বিরহের গানের অপেক্ষায় বাংলাদেশ।’’

মোঃ মুজাহিদুল ইসলাম লিখেছেন, ‘‘স্যার বুঝতে পেরেছিলেন যে কিছু একটা ঘটতে চলেছে ,, তাই তিনি তার নয়নাভিরাম,,কোকিলা কন্ঠে গেয়েছিলেন একবিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ গান “ঘুমাতে পারিনা সারারাত ধরে, বুকের ভেতরটা হাহাকার করে”।’’

সোহেল রানা বিজয় লিখেছেন, ‘‘মাহফুজ স্যার এত সুন্দর সুন্দর গান গেয়েও তাকে রাখতে পারলেন না! আহা! হাত নাড়িয়ে নাড়িয়ে গান বিফলে!
আশা করি আবার ছেঁকা খাওয়া গানের মধ্য দিয়ে তাকে ফিরিয়ে আনবেন!’’

সোহেল নাসেরের মন্তব্য, ‘‘একজন রিচম্যানকে খেয়ে দেয়ে স্বয়ংসম্পূর্ণ হয় জীবনে উপরে উঠার সিঁড়ির ধাপে পৌঁছে এখন নতুন জনকে বরণ করার পালা। তারপর তার চেয়ে অধিক উন্নত মানের। এভাবেই চলছে ধরিত্রীর নিয়ম কানুন এভাবেই চলবে মানব-মানবীদের আগ্রাসন। ধন্য হে ভোগকারী মানব ধন্য হে জীবন বিলাসী মানবী। তোমাদের সকলের অভিযাত্রা অভীষ্ট লক্ষ্যে অনৈতিক সফলতা অর্জন করুক।’’

আহমেদ মাহিম লিখেছেন, ‘‘এই কারণেই গুণিজনরা বলে গিয়েছিলেন ছোটলোকদের কখনো আসকারা দিয়ে মাথায় তুলতে নেই। মাহফুজুর রহমানের অফিসে কাজ করতো এই ইভা। সেখান থেকে তাকে বিয়ে করে নাম, যশ, খ্যাতি, সম্পদ সবই দিয়েছিলো। কিন্তু যখনই তার পায়ের নিচে মাটি শক্ত হলো, সেই মাহফুজুর রহমানের সাথে ও পল্টি নিতে দেরি করে নাই!!’’

মুবারক হোসাইন লিখেছেন, ‘‘বিনোদন প্রিয় লোকটাকে এই ভাবে ছেড়ে যাওয়া ঠিক হয় নি। আমাদের উচিত প্রিয় শিল্পীর পাশে দাঁড়ানো, এই কষ্টে যদি উনি গান ছেড়ে দেয় তাহলে বাঙালি জাতি অকালেই একজন প্রতিভাবান শিল্পীকে হারাবে।’’