‘ফেসবুক পোস্টে’ দুঃখ ঘুচল বৃদ্ধ শামছুল হকের

জুমবাংলা ডেস্ক : ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা সদর থেকে ২৭ কিলোমিটারের বেশি দূরে আখাউড়া উপজেলার মনিয়ন্দ ইউনিয়নের হরিপুর গ্রাম। এ গ্রামের বাসিন্দা শামসুল হক করোনা ও মেয়ের বিয়ে দিয়ে নিঃস্ব হয়ে গেছেন। পুঁজির অভাবে বন্ধ হয়ে যায় তার একমাত্র সম্বল ছোট দোকানটি।

তবে, শামসুল হক নতুন করে স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন। পুঁজির অভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া দোকানের জন্য পণ্যের ব্যবস্থা হয়েছে। একটি সংগঠনের যুবকরা শনিবার সকালে তাঁর দোকানের জন্য পণ্য নিয়ে এসেছেন।

হরিপুর গ্রামের শামসুল হকের পাঁচ মেয়ে ও এক ছেলে। করোনার কারণে বেশ কিছুদিন দোকান খুলতে পারেননি বলে আর্থিক অসঙ্গতিতে পড়েন। এরই মধ্যে তৃতীয় মেয়ের বিয়ে দেন ধার করে। এ অবস্থায় দোকান হয়ে যায় পণ্য শূন্য। দু’বেলা দু’মুঠো ভাত জোগানো দায় হয়ে পড়ে।

বিষয়টি নজরে আসে মনিয়ন্দের যুবক হৃদয় খন্দকারের। তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সমাজকর্মী জেবিন ইসলামকে বিষয়টি অবহিত করেন। জেবিন ইসলাম এ নিয়ে একটি ফেসবুক গ্রুপে পোস্ট দেন। পোস্ট নজরে এলে এগিয়ে আসে মাস্তুল ফাউন্ডেশন নামে একটি সংগঠন। ওই সংগঠনের প্রজেক্ট সাবলম্বী নামে ফান্ড থেকে শামসুল হককে সাহায্যের সিদ্ধান্ত হয়।

শনিবার সংগঠনের পক্ষে দোকানের জন্য বিস্কুট, চিপস, দুধের ডিবি, চা পাতাসহ বিভিন্ন পণ্য নিয়ে আসা হয়। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের টিম লিডার সাব্বির আহমেদ, স্বেচ্ছাসেবক নৌফেল রানা, মেহেদি হাসান, তানিম, রিমন, ইমাম হোসেন এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

হৃদয় খন্দকার নামে মনিয়ন্দের যুবক জানান, বৃদ্ধ শামসুল হক খুব কষ্টে দিন কাটাচ্ছেন। বিষয়টি দেখে জেবিন ইসলামকে জানালে তিনি ডিএসই নামে একটি গ্রুপে পোস্ট দেন। মাস্তুল ফাউন্ডেশনের সহযোগিতায় এখন শামসুল হকের দুঃখ ঘুচবে বলে আশা করা যাচ্ছে।
মাস্তুল ফাউন্ডশনের টিম লিডার সাব্বির আহমেদ জানান, জেবিন ইসলামের ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে জানতে পেরে শামসুল হকের সহযোগিতায় তারা এগিয়ে এসেছেন। এভাবে তাঁরা মানুষের পাশে থাকতে চান।

এ বিষয়ে কথা বলতে গেলেই কান্নায় ভেঙে পড়েন শামসুল হক। তিনি বলেন, ‘করোনার কারণে ও মেয়ে বিয়ে দিতে গিয়ে আমার সব শেষ হয়ে যায়। এত দ্রুত দোকানের জন্য মালামাল পাবো তা ভাবতেও পারি নি।’


জুমবাংলানিউজ/এসআই