বিশেষ প্রতিনিধি: স্বাধীন বাংলাদেশের শেখ মুজিবকে ‘ফ্যাসিবাদের আইকন’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের যুগ্ম আহ্বায়ক ও আমার দেশ সম্পাদক ড. মাহমুদুর রহমান। তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে আওয়ামী লীগের শাসনব্যবস্থা গণতন্ত্রের পরিবর্তে ফ্যাসিবাদ প্রতিষ্ঠার পথেই অগ্রসর হয়েছিল এবং সেই ধারারই ধারাবাহিকতা দেখা গেছে পরবর্তী সময়ে।

মঙ্গলবার রাজধানীর ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (ডিআরইউ) শফিকুল কবির মিলনায়তনে সংবাদপত্রের কালো দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব জার্নালিস্টস (বিএজে) আয়োজিত ‘আওয়ামী শাসনে গণমাধ্যম ও জুলাই অভ্যুত্থানের চেতনা’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান আলোচকের বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ড. মাহমুদুর রহমান বলেন, “শেখ মুজিবকে আমি দুই ভাগে দেখি—একজন পাকিস্তান আমলের শেখ মুজিব এবং অন্যজন স্বাধীন বাংলাদেশের শেখ মুজিব। আমার কাছে স্বাধীন বাংলাদেশের শেখ মুজিব ফ্যাসিবাদের আইকন।” তিনি দাবি করেন, ফ্যাসিবাদ নিজেদের বৈধতা দিতে একটি প্রতীক বা আইকন তৈরি করে এবং বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে সেই ভূমিকায় শেখ মুজিবকে প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর থেকে একটি মহল শেখ মুজিব ও শেখ হাসিনাকে আলাদা করে দেখানোর চেষ্টা করছে। কিন্তু বাস্তবে তাদের রাজনৈতিক দর্শন ও শাসনধারার মধ্যে মৌলিক কোনো পার্থক্য নেই বলে তিনি মনে করেন। আওয়ামী লীগের পুনর্বাসনের যে কোনো প্রচেষ্টার সমালোচনা করে তিনি বলেন, “ফ্যাসিবাদের আইকনকে পুনর্বাসনের কোনো সুযোগ নেই।”
সভার প্রধান অতিথি তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী বলেন, ফ্যাসিজমই আওয়ামী লীগের আদর্শ ও মূলনীতি। তিনি অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকাকালে বারবার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা হরণ করেছে এবং মতপ্রকাশের অধিকার সীমিত করেছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, ১৯৭৫ সালে চারটি সংবাদপত্র ছাড়া সব পত্রিকা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, “আওয়ামী লীগ ১৭ বছর ক্ষমতায় থেকে সংবাদপত্র ও সাংবাদিকদের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করেছে। বিরোধী মতকে দমন, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে হয়রানি এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা ছিল তাদের শাসনের অংশ।” তিনি দাবি করেন, বর্তমান সরকার সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতায় হস্তক্ষেপে বিশ্বাস করে না এবং সাংবাদিকদের স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিবেশ নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
সভায় মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট কলাম লেখক ও পটুয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক ড. আবদুল লতিফ মাসুম। তিনি বলেন, জুলাইয়ের শহীদদের আত্মত্যাগ প্রমাণ করেছে যে সত্যকে সাময়িকভাবে দমন করা গেলেও চিরদিন পরাজিত করা যায় না। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা, গণতন্ত্রের বিকাশ এবং দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে অতীতের ভুল থেকে শিক্ষা গ্রহণের ওপর।
বিএজের সভাপতি ও বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের (বিএফইউজে) সাবেক সভাপতি এম আবদুল্লাহর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান সম্পাদক কামাল উদ্দিন সবুজ, বিএফইউজের সাবেক মহাসচিব এম এ আজিজ, ডিআরইউর সাবেক সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ বাকের হোসাইন, জাহাঙ্গীর আলম প্রধান, সরদার ফরিদ আহমদ, রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ড. তারেক ফজল, সাংবাদিক কল্যাণ ট্রাস্টের ব্যবস্থাপনা পরিচালক বাছির জামাল, জাতীয় প্রেস ক্লাবের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ইলিয়াস খান, ডিআরইউ সভাপতি সালেহ আকন, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হাসান সোহেল, আমার দেশ–এর ব্যবস্থাপনা সম্পাদক জাহেদ চৌধুরী, বাংলাদেশ অনলাইন জার্নালিস্ট অ্যাসোসিয়েশনের (বিওজেএ) সভাপতি জাহিদ ইকবালসহ সাংবাদিক নেতারা।
আরও পড়ুনঃ
৪৪৬০ প্রাথমিক বিদ্যালয় সংস্কারে প্রায় ৬৭ কোটি টাকা দিল সরকার
বক্তারা সংবাদপত্রের স্বাধীনতা, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা এবং পেশাগত অধিকার রক্ষায় ঐক্যবদ্ধ ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তারা বলেন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, মামলা ও হয়রানির বিরুদ্ধে সোচ্চার হওয়ার পাশাপাশি স্বাধীন ও দায়িত্বশীল সাংবাদিকতা নিশ্চিত করতে সম্মিলিত উদ্যোগ প্রয়োজন।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



