২০২৬ সালের প্রথম সূর্যগ্রহণ হবে মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি)। মহাজাগতিক এ দৃশ্য দেখার অপেক্ষায় রয়েছে গোটা বিশ্বের মানুষ। বলয়াকার এ সূর্যগ্রহণ অনেকের কাছে ‘রিং অব ফায়ার’ বা আগুনের বলয় নামে পরিচিত।

জ্যোতির্বিজ্ঞানীদের ভাষায়, বলয়াকার সূর্যগ্রহণ ঘটে যখন চাঁদ সূর্য ও পৃথিবীর মাঝখানে অবস্থান নেয়, কিন্তু সে সময় চাঁদ পৃথিবী থেকে তুলনামূলক দূরে থাকে। ফলে চাঁদ পুরো সূর্যকে ঢাকতে পারে না।
সূর্যের চারপাশে উজ্জ্বল আগুনের বলয়ের মতো একটি অংশ দৃশ্যমান থাকে। এই মনোমুগ্ধকর দৃশ্যকেই বলা হয় ‘রিং অব ফায়ার’। নাসার দেয়া তথ্যানুযায়ী, পৃথিবী, সূর্য এবং চন্দ্র মহাকাশে নিজ কক্ষপথে অবিরত পরিভ্রমণকালে সূর্য, চন্দ্র এবং পৃথিবী এক সরলরেখায় অবস্থান করলে, অর্থাৎ চন্দ্র পৃথিবী এবং সূর্যের মধ্যে অবস্থানকালে কিছু সময়ের জন্য চন্দ্রের ছায়া পৃথিবীতে পড়লে সূর্যগ্রহণ ঘটে। সাধারণত চন্দ্র, পৃথিবী এবং সূর্যের অবস্থানের তারতম্যের কারণে বিভিন্ন প্রকার সূর্যগ্রহণ পরিলক্ষিত হয় (পূর্ণগ্রাস সূর্যগ্রহণ, আংশিকগ্রাস সূর্যগ্রহণ, বলয়াকারগ্রাস সূর্যগ্রহণ)। ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বছরের প্রথম সূর্যগ্রহণ শুরু হবে ১৭ ফেব্রুয়ারি সকাল ৭ টা ১ মিনিটে (ইউটিসি)।
স্পেস ডটকমের তথ্য বলছে, সর্বোচ্চ ২ মিনিট ২০ সেকেন্ড পর্যন্ত বলয়াকার সূর্যগ্রহণ স্থায়ী হতে পারে। এ সময় চাঁদ সূর্যের কেন্দ্রের প্রায় ৯৬ শতাংশ ঢেকে ফেলবে। বাংলাদেশ ও ভারতের আকাশ থেকে এই সূর্যগ্রহণ দেখা যাবে না। কারণ গ্রহণের সময় সূর্য এ দুই দেশের দিগন্তের নিচে অবস্থান করবে। এছাড়া ঘটনাটি মূলত দক্ষিণ গোলার্ধে সংঘটিত হওয়ায় দক্ষিণ এশিয়ার এই অঞ্চল থেকে তা দৃশ্যমান হবে না। সর্বোচ্চ গ্রহণ দেখা যাবে অ্যান্টার্কটিকায়, বিশেষ করে কনকর্ডিয়া ও মিরনি গবেষণা কেন্দ্র থেকে। দক্ষিণ আফ্রিকা অঞ্চলের দক্ষিণ আফ্রিকা, তানজানিয়া, জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ে আংশিকভাবে গ্রহণটি দেখতে পাবে।
আরও পড়ুনঃ
আবহাওয়াবিদ জে অ্যান্ডারসন তার ওয়েবসাইট ইকলিপস ফুল.কম-এ লিখেছেন, ‘সম্ভবত খুব অল্পসংখ্যক মানুষই বলয়াকার অঞ্চলের ভেতর থেকে এই গ্রহণটি দেখতে পারবেন। কারণ স্থানটি অত্যন্ত দুর্গম এবং বলয় ছায়ার ভেতরে মাত্র দুটি বসতিপূর্ণ স্থান রয়েছে, যেগুলো পর্যটকদের গ্রহণের জন্য উপযুক্ত নয়।’ এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকার আর্জেন্টিনা ও চিলির কিছু অংশ থেকেও গ্রহণটি দেখা যাবে। তথ্যসূত্র: এনডিটিভি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


