বাজার থেকে পুরাতন মোবাইল কিনে ‘খুনের আসামি’, হাজতবাস

জুমবাংলা ডেস্ক: বগুড়ার সোনাতলার হরিখালী বাজার থেকে পুরাতন মোবাইল ফোন কিনে খোকন সরকার (৩৬) নামে এক দই বিক্রেতা একটি হত্যা মামলায় ফেঁসে যান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

ফোন বিক্রেতা বহাল তবিয়তে থাকলেও ওই অসহায় ব্যক্তি গ্রেফতার হওয়ার পর পুলিশ তাকে তিন দফা রিমান্ডে নেয়। ১৩ মাস হাজত ভোগের পর সম্প্রতি জামিনে ছাড়া পেয়েছেন। বাড়িতে ফিরে পরিবার-পরিজন নিয়ে অন্ধকার দেখছেন তিনি।

তৎকালীন দই বিক্রেতা খোকন সরকার জানিয়েছেন, তিনি কোনোদিন জামালপুর জেলায় যাননি। পুরাতন ফোন কিনে খুনের মামলার আসামি হয়েছেন। পুলিশ ফোন বিক্রেতার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলেও তিনি গ্রেফতারের পর ১৩ মাস জেলভোগ করে জামিনে ছাড়া পেয়েছেন।

এ প্রসঙ্গে চার্জশিট প্রদানকারী জামালপুর জেলার নরুন্দী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর টিপু সুলতান জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নিশ্চিত হওয়ার পরই খোকনকে গ্রেফতার করেছিলেন। তদন্ত শেষে খোকনসহ চারজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট দিয়েছেন।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯ সালের ১২ মে রাতে জামালপুর জেলার টেবিরচর গ্রামের মাহমুদের ছেলে জাহাঙ্গীর আলম (২৫) খুন হন। দুর্বৃত্তরা গলা কেটে হত্যার পর তার মরদেহ মাটিতে পুঁতে রাখে। খুনিরা তার ব্যবহৃত ওয়েস্টার্ন কোম্পানির ফোনটি নিয়ে যায়। তিন দিন পর দুপুরে আনন্দবাজারের কাছে একটি জমিতে জাহাঙ্গীরের মরদেহ পাওয়া যায়। নিহতের বাবা জামালপুর সদর থানায় অজ্ঞাতদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেন।

তদন্তকারী কর্মকর্তা ইন্সপেক্টর টিপু সুলতান ঘটনার এক বছর পর নিহত জাহাঙ্গীরের ফোনের সন্ধান পান। তিনি বগুড়ার সোনাতলা উপজেলার পাকুল্লা গ্রামের মৃত কফের সরকারের ছেলে খোকনকে ফোনসহ গ্রেফতার করেন।

জিজ্ঞাসাবাদে খোকন পুলিশকে জানান, তিনি পার্শ্ববর্তী হরিখালী বাজারে মিঠুন টেলিকমের মালিক মাখন চন্দ্রের ছেলে শুভ কুমারের কাছ থেকে ১২৫০ টাকায় ফোনটি কেনেন। ব্যবসায়ী শুভ পরিচিত হওয়ায় তাকে ফোন কেনার রশিদ দেননি। পুলিশ ফোন বিক্রেতা শুভ কুমারকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও অজ্ঞাত কারণে তাকে গ্রেফতার করেনি।

তদন্তকারী কর্মকর্তা টিপু সুলতান গত বছরের ১১ জুলাই খোকন সরকারসহ চারজনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেন। ১৩ মাস হাজত ভোগের পর স্ত্রী ধারদেনা করে গত রোজার মধ্যে তাকে জামিন করেন।

শনিবার বিকালে খোকন সরকার জানান, সামর্থ্য না থাকায় তিনি ১২৫০ টাকায় হরিখালী বাজারে শুভ কুমারের দোকান থেকে পুরাতন মোবাইল ফোনটি কেনেন। পরিচিত হওয়ায় বিক্রেতা তাকে রশিদ দেননি। ওই ফোনে সিম তোলার পর সারাদিন ফোন আসতে শুরু করে। বেশি ফোন আসায় তিনি তার স্ত্রীকে সন্দেহ করেন এবং ফোনকারীকে গালিগালাজ করেন। পরবর্তীতে জানতে পারেন ফোনদাতা তদন্তকারী কর্মকর্তা টিপু সুলতান।

খোকনের ধারণা, গালিগালাজ করার কারণেই তাকে ওই মামলায় জড়িয়ে চার্জশিট দেওয়া হয়েছে। জীবনে কোনোদিন জামালপুর না গেলেও শুধু পুরাতন ফোন কেনার জন্য তাকে হত্যা মামলার আসামি হতে হলো।

পুরাতন মোবাইল ফোন বিক্রি প্রসঙ্গে মিঠুন টেলিকমের মালিক শুভ কুমার প্রথমে স্বীকার করলেও পরে জানান, তিনি পুরাতন ফোন বিক্রি করেন না। এছাড়া খোকন সরকারের কাছে কোনো ফোন বিক্রি করেননি তিনি।

এ প্রসঙ্গে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা জামালপুরের নরুন্দী পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইন্সপেক্টর টিপু সুলতান জানান, তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করে নিহত জাহাঙ্গীরের ব্যবহৃত ফোনটি প্রায় এক বছর পর বগুড়ার সোনাতলার খোকন সরকারের কাছে পাওয়া যায়। এছাড়া তদন্তে দেখা গেছে, খোকন দই বিক্রির জন্য অনেকবার জামালপুরে গেছেন। এ হত্যাকাণ্ডে তার জড়িত থাকার প্রমাণ পাওয়ায় চার্জশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, তার চার্জশিটের বিরুদ্ধে বাদী নারাজি দেওয়ায় আদালতের নির্দেশে বর্তমানে মামলাটি তদন্ত করছেন জামালপুর পিবিআই।


জুমবাংলানিউজ/এসওআর