বিচারকদের ভর্ৎসনার মুখে অভিনেত্রী

বিনোদন ডেস্ক : ভারতের পাঁচ রাজ‌্যে ‘তারক মেহতা কা উলটা চশমা’ খ্যাত টেলিভিশন অভিনেত্রী মুনমুন দত্তর বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার স্থগিতাদেশ দিয়েছেন ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। কিন্তু বিচারপতিদের চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয় তাকে। শুক্রবার (১৮ জুন) বিচারপতি হেমন্ত গুপ্ত ও বিচারপতি ভি রামাসুব্রহ্মণ্যমের এজলাসে এই মামলার শুনানি হয়।

হিন্দুস্তান টাইমস এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, মামলার উপর স্থগিতাদেশ দিলেও পর্দার ববিতাকে সুপ্রিম কোর্টের চরম ভর্ৎসনার মুখে পড়তে হয়েছে। যে কোনো পরিস্থিতিতে এই ধরণের জাতিবাদি মন্তব্য গ্রহণযোগ্য নয়, কারো অধিকার নেই কোনো নির্দিষ্ট জাতি বা সম্প্রদায়ের মানুষের বিরুদ্ধে কোনো অবমাননাকর মন্তব্য করার। পাশাপাশি নিজের আবেদনের কপিতে ‘মহিলা’ শব্দের উল্লেখ করাতেও বিচারপতিদের কাছ থেকে ভর্ত্সনা শুনতে হয় মুনমুন দত্তকে।

মুনমুন দত্তের আইনজীবী পুনিত বালিও বিচারকদের পাল্টা প্রশ্নের মুখে পড়েন। যা নিয়ে বেশ বিব্রত হন এই আইনজীবী। পুনিত বালির উদ্দেশে আদালত প্রশ্ন করেন—‘আপনি বলছেন আপনার (আবেদনকারী মুনমুন দত্ত) মক্কেল মহিলা। একজন মহিলার কি পুরুষের চেয়ে পৃথক কোনো অধিকার আছে, দুজনের কী সমধিকার নেই?’

এ সময় পুনিত বালি আদালতকে জানান, অভিনেত্রী ভুল করেছেন এবং সেই ভুলের জন্য তিনি আন্তরিকভাবে ক্ষমাপ্রার্থী। নিজের ভুল বুঝতে পারার সঙ্গে সঙ্গে, ওই ভিডিও পোস্টের দু-ঘণ্টার মধ্যেই তা মুছে ফেলেন।

এর আগেও সুপ্রিম কোর্ট একই ধরনের ঘটনা নিয়ে দায়ের করা একাধিক মামলা একত্রিত করে এক জায়গায় শুনানির সুযোগ দিয়েছেন। মুনমুন দত্ত সর্বোচ্চ আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে, যাতে তার বিরুদ্ধে পাঁচটি ভিন্ন রাজ্যে দায়ের করা মামলা মুম্বাইয়ে স্থানান্তরিত করা যায়। এই আবেদনের ভিত্তিতে শীর্ষ আদালত, মুনমুন দত্তর বিরুদ্ধে রাজস্থান, মহারাষ্ট্র, উত্তর প্রদেশ, গুজরাট এবং মধ্য প্রদেশে দায়ের ফৌজদারী মামলায় স্থগিতাদেশ দিয়েছে। পাশাপাশি দলিতদের অধিকার নিয়ে কাজ করা সমাজকর্মী রজত কালসানকে একটি নোটিশ পাঠিয়েছে।

গত ৯ মে ইউটিউবে একটি ভিডিও পোস্ট করেন মুনমুন দত্ত। তাতে এ অভিনেত্রী বলেন, ‘আমি এবার ইউটিউবে আসতে চলেছি তাই নিজেকে ভালো দেখাতে চাই, আমি একেবারেই নিজেকে ‘ভঙ্গি’-এর মতো দেখতে লাগুক তা চাই না।’ ‘ভঙ্গি’ শব্দ নিয়েই যত বিতর্ক। দলিত সম্প্রদায়ের মানুষদের জন্য এই শব্দটি শুধু অবমাননাকর তাই নয়, সুপ্রিম কোর্টের বিধান অনুযায়ী এটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ। এরপরই হরিয়ানার হিসারের হানসি থানায় মুনমুন দত্তর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন রজত কালসান।

আজকের জনপ্রিয়:
>> আয়ু কমে যাওয়ার ৭ কারণ
>> সন্তানদের যে আমলের অভ্যাস করানো জরুরি
>> ছেলেদের যে বিষয়গুলো মেয়েরা সবার আগে খেয়াল করে


Share:





জুমবাংলানিউজ/এসআর