বুয়েট ছাত্র

Advertisement
জুমবাংলা ডেস্ক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফর নিয়ে তথ্য বিকৃতি করে ভুল সংবাদ পরিবেশন করে বিবিসি বাংলা। এই সংবাদের ভিত্তিতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে স্ট্যাটাস দেয় বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ। ক্ষিপ্ত হয়ে আবরারকে পিটিয়ে হত্যা করা বুয়েট ছাত্রলীগের একদল নেতা-কর্মী।

বিবিসি বাংলা’র সংবাদের প্রতিক্রিয়াতে জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপু বলেন, ভারতের সঙ্গে গ্যাস রফতানির কোন চুক্তিই সই হয়নি। যৌথভাবে এলপিজি প্ল্যান্ট স্থাপনের জন্য চুক্তি হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারত সফরের যে সংবাদ বিবিসি বাংলা প্রকাশ করে তাতে বলা হয়- জ্বালানি সঙ্কটের মধ্যে বাংলাদেশ এই প্রথমবারের মতো তাদের প্রাকৃতিক গ্যাস ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে রফতানি করবে। এ বিষয়ে দিল্লীতে দুই দেশের পক্ষ থেকে যৌথ ঘোষণার কথাও সংবাদে উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি ভুল হয়েছে বুঝতে পেরে রবিবার রাতে বিবিসি বাংলা সংশোধনী দেয়। তবে এর আগেই বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়। সমালোচনার ঝড় ওঠে। আবরারও এই খবরটির ওপর ভিত্তি করে নিজের ফেসবুক পেজে একটি স্ট্যাটাস দিয়েছিল। যে স্ট্যাটাসে মংলা বন্দর ব্যবহার এবং ফেনী নদীর পানি প্রত্যাহারের সঙ্গে গ্যাস রফতানির বিষটিও উল্লেখ করেন তিনি। আবরার তার স্ট্যাটাসের শেষাংশে লেখেনে ‘কয়েক বছর আগে নিজেদের সম্পদ রক্ষার দোহাই দিয়ে ভারত কয়লা-পাথর রফতানি বন্ধ করেছে অথচ আমরা তাদের গ্যাস দেব। যেখানে গ্যাসের অভাবে নিজেদের কারখানা বন্ধ করা লাগে সেখানে নিজের সম্পদ দিয়ে বন্ধুর বাতি জ্বালাব।’

বিদ্যুত জ্বালানি খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বলেন, না বুঝে একটি সংবাদ মাধ্যম গ্যাস রফতানি নিয়ে খবর প্রকাশ করেছে। আমাদের সঙ্গে গ্যাস রফতানি সংক্রান্ত কোন চুক্তিই হয়নি। একটি ননবাইন্ডিং এমওইউ (প্রতিপালন বাধ্যতামূলক নয় এমন সমঝোতা স্মারক) সই হয়। এর ভিত্তিতে বাংলাদেশে একটি এলপিজি প্ল্যান্ট নির্মাণ করা হবে। ভারতের সরকারী কোম্পানি এবং বাংলাদেশের একটি বেসরকারী কোম্পানি প্ল্যান্টটি নির্মাণ করবে। সেখান থেকে মূলত ত্রিপুরাতে এলপিজি রফতানি করা হবে। এই এলপিজির পুরোটা আবার দেশের বাইরে থেকে আমদানি করা হবে। প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের দেশ থেকে এখন নেপাল এবং ত্রিপুরাতে এলপিজি রফতানি করছে বেসরকারী উদ্যোক্তারা। সই হওয়া এমওইউ বেসরকারী খাতের সম্প্রসারণের জন্য সুবিধাজনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, এ ধরনের সংবাদ প্রকাশের আগে আমাদের সঙ্গে যোগাযোগ করলেই বিভ্রান্তি দূর হয়। অথবা দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী যে যৌথ বিবৃতি দিয়েছেন সেখানের ভিডিও রয়েছে। সেটি দেখলেও এ ধরনের বিভ্রান্তি দূর হওয়া সম্ভব ছিল। যা না করেই সংবাদটি প্রচার করা হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

তিনি বলেন, বিএনপির সময় যখন গ্যাস রফতানির কথা বলা হয়েছিল তখনই শেখ হাসিনা বিরোধীদলীয় নেতা হিসেবে দেশের গ্যাস রফতানির বিরোধিতা করেছিলেন; তখন গ্যাস রফতানি করার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের চাপ ছিল। এখন আমাদের নিজেদের গ্যাসই ফুরিয়ে এসেছে। আমরাই গ্যাস আমদানি করে চলছি সেখানে আমরা ভারতকে কিভাবে গ্যাস দেব।

দেশে বিভিন্ন মহলে বিশেষ করে রাজনৈতিক অঙ্গন এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে এ বিষয়ে সমালোচনা হচ্ছে এর প্রতিক্রিয়াতে মন্ত্রী বলেন, রাজনীতিবিদদের সামনে এখন আর কোন ইস্যু নেই। এখন তারা সব সময়ই ইস্যুর সন্ধানে থাকে। অন্যদিকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে যারাই এ ধরনের অপপ্রচার চালাচ্ছেন তাদের তিনি প্রকৃত বিষয় জেনে সমালোচনার আহ্বান জানান।

প্রসঙ্গত এলপিজি এবং এলএনজির মধ্যে পার্থক্য বুঝতে ভুল করেছে বিবিসি। এলপিজি হচ্ছে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস। মূলত তেলখনির উপজাত থেকে এলপিজি উৎপাদন হয়। দেশে গ্যাস খনিতে যে কনডেনসেট ওঠে সেখান থেকে সামান্য এলপিজি পাওয়া যায়। কিন্তু বাকি সব এলপিজির মূল উপাদান প্রপেন এবং বিউটেন বাইরে থেকে আমদানি করা হয়। অন্যদিকে এলএনজি হচ্ছে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস; যা মূলত প্রাকৃতিক গ্যাস বা মিথেন থেকে উৎপাদন করা হয়। অধিক চাপে এই গ্যাসকে সঙ্কুচিত করে তরল আকারে জাহাজে আমদানি করা হয়। এই তরলকে আবার রিস্যাসিফিকেশন বা পুনরায় গ্যাসে রূপান্তর করে পাইপ লাইনে সরবরাহ করা হয়।

উল্লেখ্য, কয়েক বছর ধরেই বাংলাদেশে একটি এলপিজি প্ল্যান্ট নির্মাণের চেষ্টা করছিল ভারত। মূলত উত্তর-পূর্বাঞ্চলের রাজ্যগুলোর রান্নার গ্যাসের সমস্যা সমাধানের জন্য দেশটি এই উদ্যোগ নিয়েছে। চট্টগ্রামে প্ল্যান্টটি নির্মাণ করা হবে। সেখান থেকে বার্জ বা ট্রাকে এলপিজির বড় ট্রাক যাবে ভারতে। সূত্র: দৈনিক জনকন্ঠ

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Md. Mahamudul Hasan, widely known as Hasan Major, is a career journalist with over two decades of professional experience across print, broadcast and digital media. He is the founding Editor of Zoombangla.com. He has previously worked for national English daily New Age, The Independent, The Bangladesh Observer, leading Bangla daily Prothom Alo and state-owned Bangladesh Betar. Hasan Major holds both graduate and postgraduate degrees in Communication and Journalism from the University of Chittagong.