রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে উড্ডয়নের পরই যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রাজশাহীগামী একটি ফ্লাইট মাঝপথ থেকেই ঢাকায় ফিরে যেতে বাধ্য হয়েছে। শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যায় উড্ডয়নের প্রায় ৫০ নটিক্যাল মাইল অতিক্রম করার পর বিমানটিতে ত্রুটি ধরা পড়লে সেটি আর রাজশাহী না এসে ঢাকায় ফিরে গিয়ে নিরাপদে অবতরণ করে।

বিমানটিতে মোট ৬৬ জন যাত্রী ছিলেন, তাদের মধ্যে দুজন শিশু। ফ্লাইটটির নির্ধারিত উড্ডয়নের সময় ছিল বিকাল পৌনে ৬টার দিকে। তবে সেটি ৬টার পরপরই ঢাকা ছাড়ে। প্রায় এক ঘণ্টা আকাশে থাকার পর সন্ধ্যা ৭টার কিছু পরে বিমানটি ঢাকায় ফিরে অবতরণ করে।
বিমানে থাকা যাত্রীরা জানান, উড্ডয়নের কিছুক্ষণ পর থেকেই বিমানটিতে অস্বাভাবিক কাঁপুনি ও তীব্র শব্দ অনুভূত হতে থাকে। এতে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এমন পরিস্থিতিতে পাইলট নিরাপত্তার কথা বিবেচনায় নিয়ে বিমানটি ঢাকায় ফিরিয়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
বিমানের যাত্রী রাজশাহী সিটি করপোরেশনের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী খায়রুল বাকের বলেন, উড্ডয়নের সময় থেকেই বিমানটি অস্বাভাবিক শব্দ করছিল এবং কাঁপুনি হচ্ছিল। এতে অনেক যাত্রী ভীষণভাবে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। একজন যাত্রী খুব বেশি নার্ভাস হয়ে পড়েছিলেন বলেও তিনি জানান।
রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের আইইআরয়ের পরিচালক অধ্যাপক আক্তার বানু দুই মেয়েকে নিয়ে ওই ফ্লাইটে ছিলেন। তিনি বলেন, আকাশে থাকার সময় সবাই ভীতসন্ত্রস্ত হয়ে পড়েছিলেন। ঢাকায় নামার পর যাত্রীদের বসিয়ে রাখা হয়েছে এবং পরবর্তী সিদ্ধান্ত জানানো হবে বলা হয়।
আরেক যাত্রী বুয়েটের স্কলার মাসুদ রানা বলেন, বিমানে ওঠার পর তিনি ঘুমিয়ে পড়েছিলেন। হঠাৎ কাঁপুনি ও তীব্র শব্দে তার ঘুম ভেঙে যায়। পরে নামার পর বুঝতে পারেন, বিমানটি রাজশাহীতে না গিয়ে ঢাকাতেই ফিরে এসেছে।
এই ফ্লাইটের যাত্রীরা কখন এবং কীভাবে রাজশাহী যেতে পারবেন, সে বিষয়ে রাত পৌনে ৮টা পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানতে পারেনি। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কয়েকজন যাত্রী ঢাকার বিমানবন্দরে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের কাউন্টারের সামনে অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
বিষয়টি নিয়ে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের রাজশাহী স্টেশন ব্যবস্থাপক মামুন আল রশিদ বলেন, ঢাকা থেকে উড্ডয়নের পর বিমানটি প্রায় ৫০ নটিক্যাল মাইল এগিয়েছিল। এ সময় বিমানটিতে প্রেসারাইজেশন সমস্যা দেখা দেয়। অর্থাৎ একটি নির্দিষ্ট উচ্চতায় ওঠার পর কেবিনে যে চাপ থাকার কথা, তা ঠিকভাবে পাওয়া যাচ্ছিল না। নিরাপত্তার স্বার্থে বিমানটি ঢাকায় ফিরে গিয়ে নিরাপদে অবতরণ করে।
বিমানে তীব্র শব্দের বিষয়ে তিনি বলেন, এটি মূলত ইঞ্জিনের ভাইব্রেশনের কারণে হয়েছে। বর্তমানে বিমানটি ঢাকায় পরীক্ষা-নিরীক্ষার মধ্যে রয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


