বাংলাদেশে বসন্তকাল চললেও ঢাকার আকাশে গত কয়েকদিন ধরে ভিন্ন এক আবহ তৈরি হয়েছে। কখনো মেঘলা আকাশ, কখনো দমকা হাওয়া আর মাঝেমধ্যে বৃষ্টি; সব মিলিয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বর্ষার আগাম ছোঁয়া অনুভব করছেন অনেকেই। ঠিক এই সময়েই সামনে এসে দাঁড়িয়েছে ঈদুল ফিতর, ফলে আবহাওয়ার এই পরিবর্তন মানুষের পরিকল্পনায় নতুন করে চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের সাম্প্রতিক পূর্বাভাস বলছে, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আগামী কয়েকদিন থেমে থেমে বৃষ্টির প্রবণতা থাকতে পারে। ঢাকাসহ কয়েকটি বিভাগে দমকা হাওয়া ও বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথাও জানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ঈদকে কেন্দ্র করে যাদের ভ্রমণ পরিকল্পনা রয়েছে, তাদের অনেকেই আবহাওয়ার দিকে নজর রাখছেন।
ঈদের সময় ঘিরে সাধারণত সড়ক, রেল ও নৌপথে যাত্রীচাপ বেড়ে যায়। যারা কাজ বা পড়াশোনার কারণে রাজধানী কিংবা অন্য শহরে থাকেন, তাদের বড় একটি অংশ এই সময় পরিবারের কাছে ফিরতে চান। এবার সরকারও শবে কদর এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কয়েকদিনের টানা ছুটি ঘোষণা করেছে। ফলে আগেভাগেই বাড়ি ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে।
এই সময়টাতেই যদি ঝড়বৃষ্টি হয়, তাহলে কেনাকাটা, ভ্রমণ এবং ঈদের জামাত আয়োজন; সবকিছুতেই কিছুটা প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে।
আগামী কয়েকদিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস
আবহাওয়াবিদদের মতে, মার্চ মাসে বাংলাদেশে মাঝে মাঝে বজ্রসহ বৃষ্টি হওয়া অস্বাভাবিক নয়। বরং এই সময়টাকে কালবৈশাখী মৌসুমের শুরু ধরা হয়। তবে এখন পর্যন্ত দেশে বড় ধরনের কালবৈশাখী ঝড় দেখা যায়নি।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক জানিয়েছেন, চলতি সময়ে বৃষ্টির সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি দেখা যাচ্ছে ১৬ ও ১৭ মার্চের দিকে। এই সময় দেশের বিভিন্ন স্থানে স্বল্পস্থায়ী বৃষ্টি বা বজ্রবৃষ্টি হতে পারে।
তবে তিনি এটিও উল্লেখ করেন যে দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসের তুলনায় তিন দিনের আবহাওয়ার পূর্বাভাস তুলনামূলক বেশি নির্ভরযোগ্য। তাই নির্দিষ্ট কোনো এলাকায় ঠিক কখন বৃষ্টি হবে তা আগে থেকে নিশ্চিত করে বলা কঠিন।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বৃষ্টি হলেও তা দীর্ঘ সময় ধরে হওয়ার সম্ভাবনা কম। অনেক ক্ষেত্রে আধা ঘণ্টা বা এক ঘণ্টার মধ্যেই দমকা হাওয়া, বজ্রপাত ও বৃষ্টি শেষ হয়ে যেতে পারে।
বাতাসের গতি খুব বেশি হওয়ার সম্ভাবনাও আপাতত দেখা যাচ্ছে না। কোথাও কোথাও ঘণ্টায় প্রায় ৪০ থেকে ৫০ কিলোমিটার বেগে দমকা হাওয়া বইতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
এই সময়ের তাপমাত্রাও তুলনামূলক সহনীয় থাকতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ঈদের সময় দেশের তাপমাত্রা প্রায় ২৮ থেকে ৩৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকতে পারে।
আবহাওয়াবিদরা বলছেন, বর্তমানে পশ্চিমা লঘুচাপ এবং দক্ষিণ দিক থেকে আসা বাতাসের প্রভাবে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টিপাত হচ্ছে। বঙ্গোপসাগরের দিক থেকে আর্দ্র বাতাস প্রবেশ করায় এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
এই আবহাওয়া পরিস্থিতি ১৭ মার্চ পর্যন্ত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এরপর বাতাসের প্রবাহের ধরন পরিবর্তিত হলে বৃষ্টির প্রবণতা কিছুটা কমতে পারে।
ঈদের সময় বৃষ্টি পুরোপুরি বন্ধ থাকবে—এমন নিশ্চয়তা এখনই দেওয়া যাচ্ছে না। তবে আবহাওয়াবিদদের ধারণা, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই বৃষ্টি হবে সাময়িক এবং বিচ্ছিন্নভাবে।
এমন পরিস্থিতিতে যারা ঈদের ভ্রমণের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, তারা আবহাওয়ার সর্বশেষ পূর্বাভাস নিয়মিত দেখে পরিকল্পনা করলে সুবিধা পেতে পারেন। কারণ বসন্তের এই সময়টায় আকাশের রূপ বদলাতে সময় লাগে না।
বর্তমান পরিস্থিতি বলছে, ঈদের আগে আকাশে মেঘ ও মাঝে মাঝে বৃষ্টি থাকলেও তা পুরো মৌসুমি দুর্যোগের আকার নেবে; এমন ইঙ্গিত এখনো নেই। তবে কয়েকদিনের আবহাওয়ার দিকে নজর রাখাই সবচেয়ে বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত হতে পারে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।



