স্পোর্টস ডেস্ক: ব্রেন্টফোর্ডকে ২-০ গোলে পরাজিত করে প্রিমিয়ার লিগ টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরো শক্তিশালী করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। এই জয়ে দ্বিতীয় স্থানে থাকা লিভারপুলের থেকে ১২ পয়েন্টের সুস্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে গেছে  পেপ গার্দিওলার দল। এদিকে দিনের আরেক ম্যাচে সাউদাম্পটনের কাছে ৩-২ গোলের নাটকীয় পরাজয় হয়েছে টটেনহ্যামের। এর ফলে স্পার্সদের শীর্ষ চারে ওঠার স্বপ্ন আরো একবার ভঙ্গ হলো।

Advertisement
এনিয়ে লিগে টানা ১৪ ম্যাচে নিজেদের অপরাজিত রেখেছে সিটিজেনরা। রিয়াদ মাহারেজের প্রথমার্ধের পেনাল্টির পর কেভিন ডি ব্রুইনার গোলে ইতিহাদ স্টেডিয়ামে সিটির জয় নিশ্চিত হয়। এর আগের ম্যাচে সাউদাম্পটনের সাথে ১-১ গোলে ড্র করে পয়েন্ট হারিয়েছিল সিটি। কিন্তু আবারো জয়ের ধারায় ফিরে লিভারপুলের উপর চাপ আরো বাড়ালো।

গত সপ্তাহে ফুলহ্যামকে এফএ কাপের চতুর্থ রাউন্ডে ৪-১ গোলে উড়িয়ে দেয়া দলটি থেকে ছয়টি পরিবর্তন করে কাল মূল একাদশ সাজিয়েছিলেন গার্দিওলা। দল থেকে বাদ পড়েছিলেন জ্যাক গ্রীলিশ ও কাইল ওয়াকার। ম্যাচের আগেরদিন গভীর রাত পর্যন্ত ম্যানচেস্টারের ক্যাম্প থেকে বাইরে থাকার অপরাধে এই দুজন বাদ পড়েছেন বলে সূত্রমতে জানা গেছে। যদিও বিষয়টি খুব একটা আমলে নেননি গার্দিওলা। এই দুজনকে ছাড়াও সিটি শুরু থেকেই খুব একটা চাপ অনুভব করেনি। প্রথম থেকে তাদেরই প্রাধান্য ছিল। তারই ধারাবাহিকতায় ৪০ মিনিটে কাঙ্খিত গোলটিও আসে। রাহিম স্টার্লিংকে ডি বক্সের মধ্যে আটকাতে গিয়ে ফাউল করে বসে ম্যাডস রোরস্লাভ। স্পট কিক থেকে আলজেরিয়ান উইঙ্গার মাহারেজ দারুন গোলে সিটিকে এগিয়ে দেন। ৬৯ মিনিটে স্টার্লিংয়ের শট রুখে দেন ব্রেন্টফোর্ড গোলরক্ষক ডেভিড রায়া। কিন্তু ফিরতি কলে কেভিন ডি ব্রুইনা খালি জালে বল পাঠিয়ে ব্যবধান দ্বিগুন করার পাশাপাশি দলের জয় নিশ্চিত করেন।

ম্যাচ শেষে গার্দিওলা বলেছেন, ‘আজ পুরো দলের পারফরমেন্সে আমি দারুন সন্তুষ্ট। প্রতিপক্ষের ১০ জন খেলোয়াড় যখন রক্ষনাত্মক মেজাজে খেলতে থাকে সেই দলের বিপক্ষে এগিয়ে যাওয়াটা কঠিন হয়ে পড়ে। লিভারপুলের হাতে এখনো দুটি ম্যাচ রয়েছে। এরপর প্রকৃত ব্যবধানটা বোঝা যাবে। এখন প্রতিটি ম্যাচই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু মৌসুমের এই পর্যায়ে এসে ৬০ পয়েন্ট হাতে থাকাটাও কম কিছু নয়। আমরা সত্যিকার অর্থেই দুর্দান্ত খেলেছি।’

টটেনহ্যাম হটস্পার স্টেডিয়ামে ১৮ মিনিটে ইয়ান বেডনারেকের আত্মঘাতি গোলে এগিয়ে গিয়েছিল স্বাগতিকরা। পাঁচ মিনিট পর আরমানন্ডো বোয়ার সাইড-ফুটের শটে হুগো লোরিস পরাস্ত হলে সাউদাম্পটন সমতায় ফিরে। ৭০ মিনিটে দক্ষিণ কোরীয় তারকা সন হেয়াং-মিন আবারো স্পার্সদের এগিয়ে দেন।  গোলটির আগে এমারসন রয়্যালের বিপক্ষে ব্রোয়াকে ফাউলের আবেদন করেছিল সাউদাম্পটন। কিন্তু রেফারি ডেভিড কুটে ম্যাচ চালিয়ে যাবার সঙ্কেত দেন। এই সুযোগে লুকাস মৌরার পাসে আট গজ দুর থেকে সন বল জালে জড়ান। ৮০ মিনিটে জেমস ওয়ার্ড-প্রাউসের ক্রসে মোহাম্মদ এলাইয়োনুসি সফরকারীদের সমতায় ফেরান। দুই মিনিট পর ওয়ার্ড-প্রাইসের আরো একটি নিখুঁত ক্রসে চে এ্যাডামস সাউদাম্পটনকে দারুন এক জয় উপহার দেন। স্টপেজ টাইমে স্টিভেন বার্গউইনের গোলে এন্টোনিও কন্টের এবারের লিগে প্রথম ঘরের মাঠে পরাজয় এড়ানোর একটি সুযোগ আসলেও অফসাইডের কারনে গোলটি বাতিল হয়ে যায়।

ম্যাচ শেষে কন্টে বলেছেন, ‘পরিবর্তিত পরিস্থিতিতে আমাদের আরো ভালভাবে ম্যাচটি নিয়ন্ত্রন করা উচিত ছিল। এই ধরনের পরিস্থিতিতে কি করতে হয় সেটা আরো ভালভাবে আমাদের বুঝতে হবে। আমি জানি এখনো আমার অনেক কাজ করা বাকি।’

এই পরাজয়ের পরেও চতুর্থ স্থানে থাকা ওয়েস্ট হ্যামের থেকে চার পয়েন্ট পিছিয়ে সপ্তম স্থানেই রয়েছে টটেনহ্যাম।

এদিকে ৩-১ গোলে পিছিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত এ্যাস্টন ভিলার সাথে ৩-৩ গোলে ড্র করে মাঠ ছেড়েছে লিডস।  ভিলা পার্কে ড্যানিয়েল জেমস ৯ মিনিটে লিডসকে এগিয়ে দিয়েছিলেন। কিন্তু ফিলিপ কুটিনহোর ৩০ মিনিটের সমতার পর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি ভিলাকে। জানুয়ারিতে বার্সেলোনা থেকে আসার পর এটা ভিলার হয়ে কুটিনহোর দ্বিতীয় গোল। আট মিনিট পর কুটিনহোর এসিস্টে জ্যাকব রামসে দারুন ফিনিশিংয়ে ভিলাকে এগিয়ে দেন। ৪৪ মিনিটে আরো একবার কুটিনহোর সহযোগিতায় রামসে তার দ্বিতীয় গোল করলে ৩-১ ব্যবধানে এগিয়ে যায় ভিলা। প্রথমার্ধের ইনজুরি টাইমে জেমসের হেডে এক গোল পরিশোধ করে বিরতিতে যায় লিডস। ৬৩ মিনিটে দিয়েগো লোরেন্টের গোলে পরাজয় এড়ায় লিডস। দ্বিতীয় হলুদ কার্ডের কারনে ৮৭ মিনিটে মাঠ ত্যাগে বাধ্য হন ভিলার ডিফেন্ডার এজরি কোনসা। সূত্র: বাসস

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Azad is a Journalist. He is the Sub-Editor of Zoom Bangla News. He is also a good writer.