বয়ফ্রেন্ডের বিয়ের আসরে হাজির প্রেমিকা, আহাজারি-আকুতি!

আন্তর্জাতিক ডেস্ক: টানা চার বছরের প্রেমের সম্পর্ক। তবুও অন্য মেয়েকে বিয়ে, যা মানতে পারেননি প্রেমিকা। প্রেমিকের বিয়ের খবরে শুনে দৌড়ে গিয়েছিলেন বিয়ের আসরে। আকুতি করেন শুধু তার ‘বাবুর’ সঙ্গে একটু কথা বলতে। কিন্তু সে সুযোগ আর হয়নি। একপর্যায়ে বুকভরা অভিমান নিয়ে নিজে থেকেই বাড়ি ফিরে যান তরুণী।

আদতে এটি সিনেমার কোনো দৃশ্যের মতো হলেও বাস্তবে এমনই আবেগঘন দৃশ্যের দেখা মিলল ভারতের মধ্যপ্রদেশে। যাকে সবকিছু উজাড় করে দিয়েছিলেন, শেষবারের মতো তাকে ফিরিয়ে আনতে গিয়েছিলেন বিয়ের আসরে। ইতোমধ্যে প্রেমিকার ছুটে গিয়ে ওই আকুতি করার ভিডিও অনলাইনে ভাইরাল হয়েছে।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, মধ্যপ্রদেশের হোশঙ্গাবাদের কোঠি বাজারের কামাখ্যা গার্ডেনে ওই যুবকের বিয়ের আয়োজন করা হয়েছিল। নির্ধারিত সময়ে অতিথিরাও আসতে থাকেন। এরই মধ্যে ‘বাবু’, ‘বাবু’ ডাকতে ডাকতে কান্নারত অবস্থায় বাড়ির প্রধান ফটকের সামনে হাজির হন এক তরুণী। তবে, বাড়ির ফটক বন্ধ করে তাকে সেখানেই আটকে দেন লোকজন।

এরপর লোহার ফটক ধরে কাঁদতে কাঁদতে বলতে থাকেন, ‘এক বার আমার বাবুকে ডেকে দিন। একটি বারের জন্য ডেকে দিন। আমি শুধু এক বার কথা বলতে চাই।’ এসময় হাত ধরে বেশ কয়েকবার তাকে সরানোর চেষ্টা করেন অনেকে। কিন্তু তরুণী তার ‘বাবু’র সঙ্গে দেখা না করে যাবেন না বলে জানিয়ে দেন।

এমন ঘটনার খবর শুনে ঘটনাস্থলে আসে পুলিশ। ওই তরুণী জানান, ওই তরুণের সঙ্গে চার বছরের সম্পর্ক তার। তিন বছর তারা মেলামেশাও করেছেন। কিন্তু তাকে না জানিয়েই এখন অন্য কারও সঙ্গে বিয়ে করছেন তার প্রেমিক। তবে, এ বিয়েতেও তার আপত্তি থাকত না যদি বিষয়টি তাকে জানানো হতো।

তিনি বলেন, প্রেমিক অন্য কাউকে বিয়ে করছেন, বিষয়টি তাকে আগে জানায়নি। জানালে তিনি হয়তো আপত্তি করতেন না। তবে, এত দিনের সম্পর্ক সত্ত্বেও কেন তার সঙ্গে এমন আচরণ করা হলো, তিনি সেটার উত্তর জানতে চান।
হোশঙ্গাবাদ কোতোয়ালি থানার পরিদর্শক শ্রদ্ধা রাজপুত ওই তরুণীর অভিযোগ শুনে তাকে থানায় নিয়ে আসেন এবং আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু ওই তরুণী প্রেমিককে মামলায় ফাঁসাতে চান না বলে শ্রদ্ধা রাজপুতকে জানিয়ে দেন। এরপর নিজে থেকেই বাড়ি ফিরে যান।

নেটিজেনদের মতে, ওই তরুণী তার সবটুকু দিয়েই ভালোবেসেছিল। কিন্তু অভিযুক্ত যুবক কখনও তাকে ভালোবাসেনি।


জুমবাংলানিউজ/এসওআর