Views: 146

আন্তর্জাতিক শিক্ষা

ভারতের দিল্লিতে ছাত্রীর আত্মহত্যা, সমর্থনে ছাত্রছাত্রীদের বিক্ষোভ


আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ভারতে রাজধানী দিল্লির একটি অভিজাত কলেজের দ্বিতীয় বর্ষের একজন ছাত্রী আত্মঘাতী হওয়ার পর তার সমর্থনে ছাত্রছাত্রীরা পথে নেমেছেন, বিভিন্ন সংগঠন তার মৃত্যুকে একটি ‘প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকান্ড’ বলে বর্ণনা করছে। খবর: বিবিসি বাংলার।

ঐশ্বরিয়া রেড্ডি নামে নিম্নবিত্ত ঘরের মেধাবী ওই ছাত্রী সরকারি বৃত্তির অধিকারী হলেও গত মার্চ মাস থেকে সেই অর্থ তার হাতে পৌঁছয়নি – কলেজের অনলাইন ক্লাস করার জন্য ভাল মোবাইল ফোন বা ল্যাপটপ কেনার সঙ্গতিও তার পরিবারের ছিল না।

করোনাভাইরাস লকডাউন ভারতের শিক্ষাব্যবস্থায় যে ‘ডিজিটাল বৈষম্য’ তৈরি করেছে, ওই ছাত্রীকে অনেকেই তার মর্মান্তিক শিকার বলে মনে করছেন এবং এই ধরনের ঘটনায় সরকারি উদাসীনতার বিরুদ্ধেও প্রতিবাদ দানা বাঁধছে।

দিল্লির লেডি শ্রীরাম বা এলএসআর কলেজ দেশের সেরা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর একটি। আর সোমবার (৯ নভেম্বর) বিকেলে সেখানে ও কেন্দ্রীয় সরকারের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভ দেখায় বিভিন্ন বামপন্থী সংগঠন।

আর তাদের সেই প্রতিবাদের পেছনে ছিল কলেজের গণিত বিভাগের দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী, ঐশ্বরিয়া রেড্ডির মর্মান্তিক মৃত্যু।

ঐশ্বরিয়ার সহপাঠিনী গরিমা কাপুরের কথায়, লকডাউনে এদেশের মেহনতি মানুষের জীবন যেভাবে তছনছ হয়ে গেছে, ঐশ্বরিয়াও তার এক করুণ দৃষ্টান্ত। ওর বাবা-মা দুজনেই গরিব দিনমজুর, লকডাউনে তাদের রোজগারপতি বন্ধ হয়ে গেছে, মেয়ের অনলাইন পড়াশুনার খরচও তারা টানতে পারছিলেন না।

গরিমা বলেন, সংসারের ওপর বাড়তি বোঝা চাপাবে না বলেই ও নিজের জীবন শেষ করে দিয়েছে। কিন্তু আমরা মনে করি চরম সরকারি উদাসীনতাই আসলে ওকে আত্মহত্যায় বাধ্য করেছে।


তেলেঙ্গানার রঙ্গা রেড্ডি জেলার মেয়ে ঐশ্বরিয়া উচ্চমাধ্যমিক স্তরে ছিল রাজ্যের টপারদের একজন, পেয়েছিল কেন্দ্রীয় সরকারের বৃত্তিও।

দরিদ্র মোটর মেকানিক বাবা ও সেলাইয়ের কাজ-করা মা তারপরও ধারকর্জ করে মেয়েকে দিল্লি পড়তে পাঠিয়েছিলেন। কিন্তু লকডাউনের শুরুতেই হোস্টেল বন্ধ হওয়ায় তাকে বাড়িতে ফিরে আসতে হয়।

ঐশ্বরিয়ার বাবা বলছিলেন, মেয়ে যে স্কলারশিপের টাকা হাতে পাচ্ছে না সেটা আমাকে জানিয়েছিল। কলেজের নিয়ম অনুযায়ী ছাড়তে হয়েছিল হোস্টেলও। কিন্তু ঠিকমতো অনলাইন ক্লাস করার জন্য একটা পিসি বা ল্যাপটপ কিনে দেওয়ার ক্ষমতা আমার ছিল না, মেয়েও স্বভাবতই অবসাদে ভুগতে শুরু করে। ওর পড়াশুনার খরচ জোটাতে আমি আগেই বাড়ি বন্ধক রেখেছিলাম।

বামপন্থী সংগঠন এআইডিডাব্লিউএ’র নেত্রী মাইমুনা মোল্লা বলছিলেন, ঐশ্বরিয়া হয়তো কিছুটা তথাকথিত ডিজিটাল ডিভাইডের শিকার। তবে এটাও মাথায় রাখতে হবে সরকারি বৃত্তির ভরসাতেই কিন্তু গরিব পরিবারটি এত কষ্ট করে মেয়েকে দিল্লিতে পড়তে পাঠিয়েছিল। কিন্তু মাসের পর মাস কেটে গেলেও সে টাকা তার হাতে পৌঁছয়নি, আর সে কারণেই এটাকে আমরা প্রাতিষ্ঠানিক হত্যাকান্ড বলছি।

প্রত্যেক নাগরিকের যে শিক্ষার অধিকারকে রাষ্ট্র স্বীকৃতি দেয়, এই লকডাউনে তা যে চরমভাবে লঙ্ঘিত হয়েছে তাতে কোনও সন্দেহ নেই।

ভারতে অ্যাক্টিভিস্টরা একমত, উনিশ বছর বয়সী ঐশ্বরিয়া রেড্ডির মৃত্যু ভারতে সেটাই আরও একবার প্রমাণ করে দিল।

এলএসআর কলেজের ছাত্রী প্রিয়াঙ্কা শর্মা বলছিলেন, প্রথম সারির ওই কলেজেও বহু শিক্ষার্থীর ইন্টারনেট বা ডেটার সুবিধা নেই, ঠিকঠাক ল্যাপটপ বা গ্যাজেট নেই, বাড়িতে ক্লাস করার পরিবেশ নেই।

নিম্নবিত্ত পরিবারগুলোর অবস্থা যে আরও করুণ, তা বলার অপেক্ষা রাখে না। ফলে গোটা একটা বছরের পড়াশুনাই অনেকের মাটি। আর সে কারণেই ঐশ্বরিয়া রেড্ডির মৃত্যু শত শত ছাত্রছাত্রীকে আজ প্রতিবাদে পথে নামতে বাধ্য করেছে।


যাদের বাচ্চা আছে, এই এক গেইমে আপনার বাচ্চার লেখাপড়া শুরু এবং শেষ হবে খারাপ গেইমের প্রতি আসক্তিও।ডাউনলোডকরুন : https://play.google.com/store/apps/details?id=com.zoombox.kidschool



আরও পড়ুন

রিপাবলিকানদের অনুদান দেওয়া বন্ধ করছে মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলো

azad

ট্রাম্পের অভিশংসনের পদক্ষেপ শুরু করতে প্রস্তুত পেলোসি

azad

শিকাগোতে হামলা, বন্দুকধারীসহ নিহত ৪

azad

ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধ করার অধিকার কেড়ে নেয়া উচিত : পম্পেও

azad

গাড়িশূন্য নগরী গড়ছে সৌদি আরব

azad

এবার ঘরে-বাইরে চাপের মুখে ট্রাম্প

azad