জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন দল আসন্ন আকস্মিক নির্বাচনে বড় ধরনের জয় পেতে যাচ্ছে — এমনটাই ইঙ্গিত দিচ্ছে বুথফেরত ভোটারদের জরিপ বা এক্সিট পোল। আজ রোববার জাপানে চলতে থাকা নির্বাচনে তাকাইচির দল স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিশ্চিত করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ভোটার জরিপ

Advertisement

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) নেতা হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার মাত্র চার মাস পরই দেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে সানায়ে তাকাইচি জনগণের কাছ থেকে সরাসরি ও স্পষ্ট সমর্থন চাইছেন। এই সম্ভাব্য জয় তাঁর আগের দুই প্রধানমন্ত্রীর অবস্থানের সঙ্গে সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁদের সময়ে দুর্নীতির কেলেঙ্কারি ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির কারণে এলডিপি সংসদে সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারিয়েছিল।

শক্তিশালী কোনো বিরোধী শক্তি না থাকায় দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর দীর্ঘ সময় ধরেই এলডিপি নেতৃত্বাধীন জোট জাপান শাসন করে আসছে। তবে এলডিপি সংসদের দুই কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারানোয়, এবং তাদের বহু দশক পুরোনো জোটসঙ্গী কোমেইতো পার্টির সঙ্গে জোটটা ভেঙে যাওয়ার কারণে অনেকেই এই আকস্মিক নির্বাচনকে এলডিপির জন্য বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখেছিলেন।

কিন্তু তাকাইচির ব্যক্তিগত জনপ্রিয়তা দলটির জন্য বড় প্রভাবক হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাঁর সরকারের জনপ্রিয়তা সূচক বেশির ভাগ সময়ই ৭০ শতাংশের ওপরে ছিল। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকের জরিপ অনুযায়ী, এই নির্বাচনে এলডিপি ৩২৮টি আসনের মধ্যে ২৭৪টি আসন পেতে পারে। অর্থাৎ, শুধু ৫৪টি আসনে এলডিপির বাইরে কোনো দল জিততে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

৩৬ বছরের মধ্যে এই প্রথম শীতের মাঝামাঝি সময়ে জাতীয় নির্বাচন হয়েছে জাপানে। বিভিন্ন জায়গায় তুষারপাতের মধ্যেও ভোট দিতে বের হন জাপানের মানুষ। ভোটের দিনে টোকিওতেও বিরল তুষারপাত দেখা যায়।

তাকাইচির উদ্যমী নেতৃত্ব, জনতাবাদী ব্যয়ের প্রতিশ্রুতি এবং জাতীয়তাবাদী বক্তব্য অনেক ভোটারকে উজ্জীবিত করেছে। তবে ব্যবসায়ী মহলসহ সমালোচকদের সন্দেহ, কর কমানো ও ব্যয় বাড়ানোর যে প্রতিশ্রুতি তাকাইচি দিয়েছেন, তা আদৌ ধীরগতির জাপানি অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে পারবে কি না। কারণ, উন্নত দেশগুলোর মধ্যে জাপানের সরকারি ঋণের পরিমাণ এমনিতেই সবচেয়ে বেশি।

এ ছাড়া অভিবাসন বিষয়ে তাঁর কড়াকড়ি অবস্থান নিয়েও উদ্বেগ রয়েছে। বার্ধক্যগ্রস্ত এই দেশে ইতিমধ্যে শ্রমিক সংকট দেখা দিয়েছে, সেখানে এই নীতি পরিস্থিতি আরও জটিল করতে পারে বলে মনে করছেন অনেকে।

চীনের সঙ্গেও জাপানের সম্পর্ক উত্তপ্ত। গত নভেম্বরে তাকাইচি ইঙ্গিত দিয়েছিলেন, চীন যদি তাইওয়ানে হামলা চালায়, তাহলে জাপান সামরিকভাবে হস্তক্ষেপ করতে পারে।

এবার তাকাইচি ও এলডিপিকে আগের চেয়ে বেশি ঐক্যবদ্ধ বিরোধিতার মুখে পড়তে হয়েছে। এলডিপির সাবেক জোটসঙ্গী কোমেইতো এখন জাপানের কনস্টিটিউশনাল ডেমোক্রেটিক পার্টির সঙ্গে হাত মিলিয়েছে। এতে নিম্নকক্ষে সবচেয়ে বড় বিরোধী জোট গড়ে উঠেছে।

মোটরসাইকেল ও নির্ধারিত যান চলাচল বন্ধ কবে থেকে?

তাকাইচি যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা বাড়িয়েছেন। ট্রাম্প প্রকাশ্যে তাঁকে সমর্থন দিয়েছেন — যা কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের ক্ষেত্রে বিরল ঘটনা। দুজনই মনে করেন, জাপানের প্রতিরক্ষা খাতে আরও বেশি ব্যয় করা উচিত।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Md Elias is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency across digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and reader-focused reporting.