in ,

মেঘনা ও তেঁতুলিয়ায় ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ

জুমবাংলা ডেস্ক: ভোলা জেলার মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে জেলেদের জালে ধরা পড়ছে ঝাঁকে ঝাঁকে ইলিশ। গত কয়েক দিন ধরে প্রচুর রুপালী ইলিশের দেখা পাওয়ায় হসি ফুটেছে জেলেদের মুখে। আর নদীর ইলিশের চাহিদা বেশি থাকায় দামও পাচ্ছেন বেশ ভালো। এতে করে দীর্ঘ খরা কাটিয়ে বদলে গেছে জেলে পল্লীগুলোর চিত্র। সদর উপজেলাসহ বিভিন্ন মাছের ঘাট, আড়ৎ, পাইকারী ও খুচরা বাজারে ক্রেতা-বিক্রেতাদের হাক-ডাক ও দর কষাকষিতে মুখরিত হচ্ছে ইলিশের বাজার। প্রতিদিন জেলার শতাধিক মাছঘাটে ৭ থেকে ৮ কোটি টাকার ইলিশ মাছ স্থানীয় চাহিদা মিটিয়ে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পাঠানো হচ্ছে।

গত অর্থবছরে জেলায় ইলিশ উৎপাদন হয়েছে ১ লাখ ৭৫ হাজার ৩৯০ মেট্রিকটন। যা দেশের মোট ইলিশ উৎপাদনের মধ্যে ৩৩ ভাগ। আর চলতি অর্থবছর ১ লাখ ৭৭ হাজার ৩৯০ মেট্রিক টন ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা হাতে নিয়েছে স্থানীয় মৎস্য বিভাগ। ইলিশ পড়া অব্যাহত থাকলে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে যাবে বলে আশা করছে মৎস্য কর্মকর্তারা।

সদর উপজেলার মেঘনার ভোলার খাল মাছের ঘাট, কোরার হাট মাছের মোকাম, তুলাতুলি মাছ ঘাট, বিশ্বরোড মাছের ঘাট, জংশন এলাকার মাছঘাট, ইলিশার মাছ ঘাট, তেঁতুলিয়ার ভেদুরিয়া মাছঘাট, শান্তির হাটের মাছঘাট, দৌলতখান উপজেলার পাতার খাল, চরফ্যাসনের সামরাজ মাছ ঘাট, চেয়ারম্যানের খাল মাছ ঘাট, নুরাবাদের খাল, চকিদারের খালের ঘাট, শশীভ’শনের বকসি ঘাটসহ বিভিন্ন ইলিশের মোকামে ইলিশ পাওয়ার খবর পাওয়া গেছে। মোকামগুলোতে জেলেদের ব্যস্ততা চোখে পড়ার মতো।

জেলা ক্ষুদ্র মৎস্যজীবী সমিতির সভাপতি মো: নুরুল ইসলাম  জানান, এবছর মৌসুমের প্রথম দিকে নদীতে কাঙ্খিত ইলিশ মাছের দেখা না পাওয়ার হতাশা কেটে যাচ্ছে জেলেদের। যদিও মৌসুমের শেষের দিকে ইলিশের আমদানী বৃদ্ধি পেয়েছে। এটা একটি ভালো খবর। যেহেতু মাছের মূল্য বেশি তাই আশা করা যাচ্ছে জেলেরা লোকসান পুষিয়ে উঠতে পারবেন।

তিনি বলেন, জেলার ৩ লাখের উপরে সকল জেলে ইলিশ শিকারে ছুটছেন। জালে পর্যাপ্ত ইলিশ ধরা পড়ায় জেলেদের মনে উৎসাহ ও উদ্দীপনা বিরাজ করছে। সামনের দিনগুলোতে আরো বেশি ইলিশ পাওয়া যাবে বলে জানান জেলেদের এ নেতা।

অন্যদিকে মৎস্য বিভাগ বলছে, বৃষ্টির উপর অনেকটাই নির্ভর করছে ইলিশের গতিপথ। যেহেতু গত কয়েকদিন বৃষ্টিপাত বেশি হয়েছে তাই নদীতে পানি বাড়ার সাথে ইলিশের আমদানিও বাড়ছে। এছাড়া সাগরের ইলিশের চেয়ে নদীর ইলিশের চাহিদা বেশি। কারণ হিসেবে তারা বলছেন, নদীর ইলিশটা অনেক টাটকা এবং এটা বেশিদিন বরফ দেওয়া অবস্থায় থাকেনা। আর সাগরে ইলিশ শিকারে জেলেদের যেতে হয় বরফসহ ১০ থেকে ১৫ দিনের জন্য। এ ১৫দিনের পুরো সময় যেই ইলিশ ধরা পড়ে তা থাকে বরফে আচ্ছন্ন। আর নদীতে ইলিশ ধরার জন্য ১দিনের জন্য যায় তারা। তাই নদীর ইলিশের স্বাদ বেশি হয় বলে দামও বেশি। এছাড়া লোনা ও মিঠা পানির পার্থক্যতো আছেই।

সদর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো: জামাল হোসেন জানান, এবছর ইলিশের প্রাপ্তিটা একটু শেষ দিকে হয়েছে। দেরিতে হলেও প্রচুর পরিমাণে ইলিশ ধরা পরায় জেলেরা খুশি। আমরা আশা করছি এ ধারা অব্যাহত থাকবে। এর মাধ্যমে ইলিশের লক্ষ্যমাত্রা পূরণ হবার পাশাপাশি জেলেদের আর্থিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটবে।

সদর উপজেলার মেঘনা পাড়ের ভোলার খাল মাছ ঘাটের আড়ৎদার মো: নিজামউদ্দিন জানান, গত কয়েকদিন ধরে ইলিশ মাছের আমদানি বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রতিদিন নৌকা-ট্রলারে করে ঘাটে রুপালী ইলিশ আসছে। তবে দাম একটু বেশি রয়েছে।

সদরের তুলাতুলী মেঘনা পাড়ের জেলে রফিকুল ইসলাম, হাসেম আলী ও ফিরোজ মাঝি জানান, গত কয়েক দিন ধরে বেশ মাছ পাওয়া যাচ্ছে। একটি নৌকায় ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকার ইলিশ ধরা পড়ছে। খরচ বাদ দিলে প্রায় ৩০ হাজার টাকার মত থাকছে।

এদিকে মোকাম ঘুরে দেখা গেছে, ১ কেজি অথবা তারচে বড় ইলিশ প্রতি হালি (৪টি) বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৪ থেকে সাড়ে ৫ হাজার টাকা। ৮’শ থেকে ৯’শ গ্রামের হালি আড়াই হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা। ৫’শ থেকে ৭’শ গ্রামের ইলিশ ৪টি বিক্রি হচ্ছে দেড় থেকে ২ হাজার টাকা।

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা এস এম আজাহারুল ইসলাম বলেন, ইলিশের মৌসুম সাধারণত বর্ষার উপর নির্ভর করে। ইতোমধ্যে টানা বর্ষণ চলছে। আমরা বিভিন্ন স্থানে খবর পেয়েছি, তাতে বেশ ইলিশ পড়ছে। এছাড়া জলবায়ু পরিবর্তনের ফলেও ইলিশ মৌসুম অনেকটাই পরিবর্তন এসেছে। যার ফলে গত কয়েক বছর যাবত দেখা যাচ্ছে শীতের সময়ও প্রচুর ইলিশ পাওয়া যাচ্ছে। যেহেতু সামনে ইলিশের প্রজনন মৌসুম, তাই ধারনা করা হচ্ছে আগামী দিনে ব্যাপক ইলিশ পাওয়া যাবে।

এদিকে ইলিশের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় শহর ও এর আশপাশের এলাকায় প্রচুর পরিমাণ ভ্রাম্যমাণ বিক্রেতাদের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গছে। কেউ ভ্যানে করে আবার কেউ মাথায় সাঝিতে করে ইলিশ মাছ বিক্রির জন্য হাক  -ডাক দিচ্ছেন। এছাড়া অনেক স্থানে ফুটপাতে সাজিতে করে ইলিশ বিক্রি করতে দখো গেছে অস্থায়ী বিক্রেতাদের। সূত্র: বাসস