
আন্তর্জাতিক ডেস্ক : মরুময় দেশ সৌদি আরবের প্রাচীন ইতিহাসের বিপুল অংশই এখনো অনাবিষ্কৃত। বালুতে ঢাকা এই ইতিহাস উন্মোচনের চেষ্টা করছেন প্রত্নতাত্ত্বিকগণ। তাদের প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক এক পথ রয়েছে উন্মোচনের অপেক্ষায়।
যুবাইদা সড়ক নামের এক হাজার ছয় শ’ কিলোমিটারের বেশি দীর্ঘ ঐতিহাসিক এই পথ ইরাকের কুফা ও বর্তমানে সৌদি আরবের মক্কা শহরকে যুক্ত করেছে। কুফা থেকে আসা হজযাত্রীদের এই পথ ব্যবহারের কারণে এটি একইসাথে কুফি হজযাত্রীদের পথ হিসেবেও পরিচিতি পেয়েছে। প্রাক-ইসলামি যুগে ও পরবর্তীকালেও বাণিজ্য ও যোগাযোগের জন্য এই পথ ব্যবহার করা হতো।
আব্বাসি খলিফা হারুন আল-রশিদের স্ত্রী যুবাইদা বিনতে জাফরের নামে পরিচিত হয়ে ওঠা কুফা থেকে মক্কাগামী এই সড়ক ওই সময় দুই শহরের মধ্যে যোগাযোগের প্রধানতম পথ ছিল। পথচারী পর্যটক, হজযাত্রী, বণিকদের ব্যবহৃত এই পথে তাদের সুবিধার জন্য আব্বাসি খলিফারা পানির চৌবাচ্চা, কুয়া ও পথের নিশানা দেয়া মিনার তৈরি করেছিলেন।
সম্প্রতি সৌদি আরবে বিশেষ করে হাইল অঞ্চলে প্রাচীন এই পথের অনুসন্ধানে বিপুল উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। প্রত্নতাত্ত্বিকরা হারিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক এই পথের উন্মোচনের জন্য কোমর বেঁধে নেমেছেন।
সৌদি পর্যটন মন্ত্রণালয়ও ইতোমধ্যে বিদেশী বিশেষজ্ঞদের সমন্বয়ে হাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্নতাত্তিক দলকে ফাইদ ও আল-বায়াইছে অনুসন্ধান ও খননের জন্য অনুমতি দিয়েছে।
হাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের রেক্টর ড. খলিল আল-ইবরাহিম আরব নিউজকে বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পর্যটন ও প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সাথে এই অঞ্চলে অনাবিষ্কৃত প্রত্নতাত্ত্বিক নির্দশন অনুসন্ধানের জন্য বেশকিছু চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
ড. খলিল আল-ইবরাহিম বলেন, ‘হাইলে যুবাইদা সড়কের ধারের ইসলামি স্বর্ণযুগের অনেক শহর ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শনের এখনো অনুসন্ধান ও উন্মোচন করা হয়নি। এই অঞ্চলে মাটির নিচে বিপুল পরিমাণ তথ্য ও প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন লুকিয়ে আছে।’
তিনি বলেন, ‘ঐতিহ্যের শহরগুলোসহ প্রত্নতাত্ত্বিক বিভিন্ন স্থান থেকে ইতোমধ্যে মাটি খুঁড়ে ১০ হাজার বছরের পুরনো পাথরে খোদাই নকশা, সমাধি স্তুপ, কুয়া, পাথুরে মূর্তি, মাটির তৈরি বাসন-কোসন, গ্লাস, মূল্যবান পাথর ও মুদ্রা পাওয়া গেছে।’
হাইলের আঞ্চলিক ঐতিহ্য ও পর্যটন দফতরের সহায়তা নিয়ে এই অনুসন্ধান ও খননকাজ করা হয়েছে জানান ড. আল-ইবরাহিম। বর্তমানে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগ রিয়াদের বাদশাহ সউদ বিশ্ববিদ্যালয়ের একই বিভাগের সাথে একযোগে প্রাচীন ফাইদ শহরে খননকাজ করছে।
ড. আল-ইবরাহিম বলেন, সৌদি সরকার প্রত্নতত্ত্বের ওপর প্রচণ্ড গুরুত্ব দিচ্ছে। প্রাচীন নিদর্শনকে রক্ষার জন্য সরকার দেশটির হেরিটেজ ল নতুনভাবে বিন্যস্ত করার পাশাপাশি সংরক্ষণমূলক প্রকল্প হাতে নিয়েছে।
তিনি বলেন, অনুসন্ধান ও খননকাজের ফলে এই অঞ্চল থেকে ইসলামপূর্ব সামুদ জাতির খোদাই নকশা, স্থাপনা, সমাধি স্তুপ ও ব্যবহার্য যন্ত্রপাতি পাওয়া গেছে।
বর্তমানে সৌদি আরবের বিভিন্ন স্থানে প্রত্নতাত্ত্বিক অনুসন্ধান ও গবেষণার জন্য দেশটির সরকার প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণা কেন্দ্র প্রতিষ্ঠা করেছে। পাশাপাশি দেশটিতে বিদেশী বিশেষজ্ঞদের কাজের সুবিধার জন্য সহায়ক আইন প্রণয়ন করেছে সৌদি সরকার। বর্তমানে দেশটিতে বিদেশী সহায়তায় ২০টির বেশি প্রত্নতাত্ত্বিক প্রকল্প চালু রয়েছে। সূত্র : আরব নিউজ
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


