ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলের যৌথ হামলার পর মধ্যপ্রাচ্যে ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে বৈশ্বিক পণ্যবাজারে। নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে সোনার চাহিদা বাড়তে থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম ৫ হাজার ২৭৮ ডলার ছাড়িয়েছে। বিশ্লেষকরা এটিকে সোনার দামে উল্লেখযোগ্য উল্লম্ফন হিসেবে দেখছেন এবং পরিস্থিতি আরও অবনতি হলে দাম নতুন উচ্চতায় পৌঁছাতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন।

শনিবার মার্কিন ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় নিজ বাসভবনে নিহত হন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। চীনা রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম গ্লোবাল টাইমসের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, খামেনি হত্যার জেরে ইরানের সম্ভাব্য প্রতিশোধ কতটা কঠোর হবে এবং সংঘাত কতদূর বিস্তৃত হবে তার ওপরই মূলত সোনার দামের ভবিষ্যৎ গতি নির্ভর করবে।
এদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান সফলভাবে শেষ করতে চার সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ডেইলি মেইলকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, আমাদের আক্রমণ যত শক্তিশালীই হোক না কেন, ইরান একটি বড় দেশ। তাই অভিযান সম্পন্ন করতে চার সপ্তাহ বা তার কম সময় লাগতে পারে।
শেনজেনভিত্তিক ফার্স্ট সিফ্রন্ট ফান্ডের প্রধান অর্থনীতিবিদ ইয়াং ডেলং রোববার গ্লোবাল টাইমসকে জানান, সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতে বৈশ্বিক পুঁজির জন্য স্বর্ণ ‘চূড়ান্ত নিরাপদ বিনিয়োগের আশ্রয়স্থল’ হয়ে উঠতে পারে। সে ক্ষেত্রে সোনার দাম নতুন সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছানোর সম্ভাবনা রয়েছে।
সপ্তাহান্তে বৈশ্বিক বাজার বন্ধ থাকলেও অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সোনার দাম তুলনামূলক বেশি ছিল। এ কারণে বিশ্লেষকরা সোমবার বাজার খোলার সময় বড় ধরনের ‘গ্যাপ-আপ’ শুরুর পূর্বাভাস দিয়েছেন। শেয়ারবাজারে আগের দিনের বন্ধদরের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বেশি দামে লেনদেন শুরু হলে তাকে গ্যাপ-আপ বলা হয়।
ইয়াং বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান পরিস্থিতি বাজারে ঝুঁকির মাত্রা বাড়িয়েছে। সোমবার বাণিজ্য পুনরায় শুরু হলে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি মোকাবিলার প্রস্তুতি নেবেন। এ ক্ষেত্রে স্বর্ণ ও রুপার মতো নিরাপদ সম্পদে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা যেতে পারে।
হামলার আগেও সোনার দামে ঊর্ধ্বগতি ছিল। জানুয়ারিতে প্রতি আউন্স সোনার দাম প্রায় ৫ হাজার ৬০৮ ডলারে পৌঁছে সর্বকালের সর্বোচ্চ রেকর্ড গড়েছিল। দাম বাড়লেও চাহিদা কমেনি বলে জানান ইয়াং।
নিরাপদ বিনিয়োগের এই প্রবণতা গোল্ড ফিউচার বাজারেও প্রতিফলিত হচ্ছে। সিএমই গ্রুপের ওয়েবসাইট অনুযায়ী, শিকাগো মার্কেন্টাইল এক্সচেঞ্জ (সিএমই)-এ প্রতি আউন্স সোনার ফিউচার দাম বেড়ে ৫ হাজার ২৯৬ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
আরও পড়ুনঃ
ইয়াং আরও সতর্ক করে বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা আরও বেড়ে গেলে অপরিশোধিত তেল, সোনা ও রুপার দামে তীব্র অস্থিরতা দেখা দিতে পারে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক শেয়ারবাজারে নিম্নমুখী চাপ উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ার আশঙ্কাও রয়েছে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


