in

মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন নিয়েছিল ইকবাল


জুমবাংলা ডেস্ক : কুমিল্লার নানুয়া দীঘির উত্তর পাড়ে অস্থায়ী পূজামন্ডপে পবিত্র কোরআন রাখা ব্যক্তির নাম ইকবাল হোসেন। সিসি টিভি ফুটেজে তাকে কুমিল্লায় পূজামন্ডপে পবিত্র কোরআন শরিফ রেখে গদা কাঁধে নিয়ে হেঁটে যেতে দেখা যাচ্ছে। ইকবাল মসজিদ থেকে সংগ্রহ করে পবিত্র কোরআন শরীফ রেখেছিল। এ বিষয়টি সিসিটিভি ফুটেজ দেখে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থা নিশ্চিত হয়েছে। বুধবার গণমাধ্যমে মণ্ডপে কোরআন রাখার বিষয়ে ইকবাল হোসেনের নাম আসায় সংশ্লিষ্ট মহলে তোলপাড় সৃষ্টি করে। তবে কোরআনটি কোথায় থেকে আনা হয়েছিল এটা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, নতুন একটি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনায় দেখা গেছে, নানুয়াদিঘীর পাড়ের অদূরে দারোগাবাড়ি মাজারের মসজিদ থেকেই কোরআন শরীফটি সংগ্রহ করে মণ্ডপে রাখেন ইকবাল।

ঘটনাস্থলের পাশেই দারোগাবাড়ি মাজার ও জামে মসজিদ। ‘ওই মসজিদ থেকে কোরআন শরীফ নিয়ে মণ্ডপে রাখা হয়েছিল’ এমন অভিযোগ বিভিন্ন গণমাধ্যমে আসার পর পেশ ইমাম ইয়াছিন নূরী দাবি করেছিলেন, মসজিদে কোরআন শরীফ সবার জন্য উন্মুক্ত থাকে, তবে মণ্ডপে যে কোরআন পাওয়া গেছে তা নতুন, এমন কোরআন শরীফ তাদের সংগ্রহে ছিল না। এদিকে কুমিল্লার পূজামন্ডপে পবিত্র কোরআন রাখা যুবক ইকবাল হোসেনের পরিবারের দাবী বেশ কয়েক বছর আগ থেকেই সে মানসিক ভারসাম্যহীন। মাজারে মাজারে ঘুরে, সেখানে থাকে আবার গাঁজাও সেবন করে। তাকে দিয়ে যেকোন মানুষ যেকোন কাজ করাতে পারে। পূজামন্ডপে পবিত্র কোরআন শরীফ রাখার ঘটনাটি কোন ব্যক্তি বা মহল ইকবালকে দিয়ে করিয়েছে। তবে ওই ঘটনার জন্য ইকবালের সর্বোচ্চ শাস্তি দাবী করেছেন তার মা আমেনা বেগম।

প্রসঙ্গত, গত ১৩ অক্টোবর কুমিল্লা মহানগরীর নানুয়া দিঘিরপাড় পূজামন্ডপে কোরআন রাখা নিয়ে মন্দিরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় কুমিল্লার বিভিন্ন থানায় নয়টি মামলায় ৭৯১ জনকে আসামি করা হয়। এর মধ্যে কোতোয়ালি মডেল থানায় পাঁচটি, কুমিল্লা সদর দক্ষিণ মডেল থানায় দুটি, দাউদকান্দি ও দেবীদ্বার থানায় একটি করে মামলা হয়েছে। মামলায় ৯১ জনের নাম উল্লেখ এবং অজ্ঞাতপরিচয় ৭০০ জনকে আসামি করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৪৪ জনকে গ্রেফতার করেছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী। কুমিল্লার এ ঘটনাটি মুহূর্তের মধ্যে সারাদেশে ছড়িয়ে পড়ে। এ খবরে চাঁদপুর, চট্টগ্রামসহ কয়েকটি জেলায় উপাসনালয় ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। চাঁদপুরে পুলিশের সঙ্গে মিছিলকারীদের সংঘর্ষে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে।