
জুমবাংলা ডেস্ক : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিপুল ভোটে বেসরকারিভাবে বিজয় লাভ করেছেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। প্রতিশ্রুতি দিলেন নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নের। ইশতেহারে চট্টগ্রামকে পর্যটন রাজধানী হিসেবে গড়ে তোলা, হোল্ডিং ট্যাক্স এবং চলমান উন্নয়ন প্রকল্পে সমন্বয়কের ভূমিকা পালনের অঙ্গীকার করেন তিনি। এছাড়া ১০০ দিনের অগ্রাধিকার কর্মসূচিতে যানজট সমস্যা থেকে উত্তরণ, সড়কে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনা, নালা-নর্দমা, খাল-নদী দখলদার উচ্ছেদ ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার পাশাপাশি নগরীর সবচেয়ে বড় সংকট জলাবদ্ধতা নিরসনে চলমান মেগা প্রকল্পগুলো ঠিকমত বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার কথাও বললেন রেজাউল।
আজ বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে বিজয়ী মেয়রকে অভিনন্দন জানাতে নগরীর বহদ্দারহাটের বহদ্দার বাড়িতে ভীড় জমান শুভাকাঙ্খী দলীয় নেতা-কর্মীরা। এ সময় তিনি সকলের কাছে চট্টগ্রামের উন্নয়নের লক্ষ্যে নির্বাচনী ইশতেহার বাস্তবায়নে সহযোগীতা চেয়ে বক্তব্য দেন।
রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, সব মতের মানুষের মতামত নিয়ে অতীতকে ফেলে নতুনের দিকে এগোতে চাই। সবার সাথে পরামর্শ করে সবার মেধাকে কাজে লাগাব। সেই পরামর্শ যদি মানুষের উপকারের হয়, টেকসই হয়, বাস্তবায়নযোগ্য হয় তাহলে সব কাজে লাগাব।
এর আগে বেসরকারিভাবে ৭৩৫টি কেন্দ্রের মধ্যে ৭৩৩টি কেন্দ্রের ফলাফল পাওয়া গেছে। এতে নৌকার প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী পেয়েছেন ৩ লাখ ৬৯ হাজার ২৪৮ ভোট। অপরদিকে বিএনপি প্রার্থী ধানের শীষের ডা. শাহাদাত পেয়েছেন ৫২ হাজার ৪৮৯ ভোট। দুটি কেন্দ্রের ফলাফলা স্থগিত করা হয়েছে। এদিকে, আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা না হলেও কাউন্সিলর পদে কারা কারা বিজয়ী হয়েছেন তা বেসরকারিভাবে জানা গেছে। এ পর্যন্ত প্রাপ্ত ফলাফলে কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের চার বিদ্রোহী প্রার্থী জয়ী হয়েছেন। এছাড়া ফলাফলে বাকি আসনে আওয়ামী লীগ সমর্থিত প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন। তবে, নির্বাচনের আগে ৩১ নং ওয়ার্ডের কাউন্সিলর প্রার্থী তারেক সলেইমান মৃত্যুবরণ করায় এ ওয়ার্ডে নির্বাচন আগামী ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
বুধবার (২৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে নগরীর ৭৩৫টি কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ পরিবেশে ভোটগ্রহণ শুরু হয়। প্রথমবার ইভিএমে ভোট দিয়ে সন্তোষ জানান ভোটাররা। তবে, বেশিরভাগ কেন্দ্রে শান্তিপূর্ণ ভোট হলেও নির্বাচনে উত্তাপ ছড়িয়েছে কাউন্সিলর প্রার্থীরা। ৪১টি ওয়ার্ডের ৬টি স্থানে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। সবগুলো সংঘর্ষের ঘটনাই ঘটে তার সবক’টিই কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে। এসব ঘটনায় এক পথচারী নিহত হয়েছেন, আহত হয়েছেন অন্তত ৩০ জন। দু’টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণ স্থগিত করা হয়েছে। গ্রেপ্তার হয়েছেন পাথরঘাটা ওয়ার্ডের বিএনপির সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী ইসমাইল বালি। সকালেই বিভিন্ন কেন্দ্র থেকে এজেন্টদের বের করে দেয়ার অভিযোগ করেন বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা. শাহাদাত হোসেন। তিনি বলেন, শুধু আওয়ামী লীগের সাথে নয়, নির্বাচনে পুরো রাষ্ট্রযন্ত্রের বিরুদ্ধে ভোটে লড়ছেন তিনি। তবে নানা অভিযোগ করলেও শেষ পর্যন্ত ভোটের মাঠে থাকার ঘোষণা দেন বিএনপির মেয়রপ্রার্থী। পরে চট্টগ্রামবাসীকে ভোটের অধিকার থেকে আওয়ামী লীগ বঞ্চিত করেছে বলে অভিযোগ করেন শাহাদাত হোসেন।
অন্যদিকে, ভোট সুষ্ঠু হওয়ার দাবি করে জয়ের ব্যাপারে আশাবাদী ছিলেন আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী রেজাউল করিম চৌধুরী। তিনি জানিয়েছিলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতেই বিএনপি প্রার্থী মিথ্যা অভিযোগ করছেন। উল্লেখ্য, চট্টগ্রাম সিটি নির্বাচনে মেয়র পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগ, বিএনপিসহ সাতজন প্রার্থী।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


