মেয়ে-বিধবাদের তালিকা চাই, তালেবানের নতুন ফরমান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : গত কয়েক মাসে আফগানিস্তানের প্রায় ৮৫ শতাংশ চলে গেছে তালেবানের দখলে। প্রায় ২০ বছর পর মার্কিন ও ন্যাটো সেনারা আফগানিস্তান থেকে সরে যাওয়ার পর ইরান, পাকিস্তান, উজবেকিস্তান ও তাজিকিস্তানের পাশাপাশি অনেকগুলো গুরুত্বপূর্ণ জেলা এবং সীমান্ত চৌকির ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করতে শুরু করেছে তালেবানরা।

তাদের ঠেকানোর মতো পর্যাপ্ত শক্তি, লোকলস্কর না থাকায় আফগান সিকিউরিটি ফোর্স, সামরিক বাহিনী সামান্যই প্রতিরোধ করতে পেরেছে বা কার্যত রণে ভঙ্গ দিয়েছে। এর আগে উত্তরপূর্বের তাখার জেলার মহিলাদের একা ঘরের বাইরে বেরোতে নিষেধ করে তালেবান, পুরুষদের বলে, বড় দাড়ি রাখতে হবে। মেয়েদের ক্ষেত্রে যৌতুক সংক্রান্ত বিধিনিষেধও জারি করে। এবার নতুন ফতোয়া জারি করলো তারা।

যুদ্ধবিধ্বস্ত দেশের ধর্মীয় নেতা-মাতব্বরদের তারা ১৫’র ওপরের মেয়েদের ও ৪৫ এর কমবয়সী বিধবাদের একটি তালিকা পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে। সংবাদ মাধ্যমের খবর, তালিকার মেয়ে, মহিলাদের সঙ্গে তাদের ক্যাডারদের বিয়ে দিয়ে পাকিস্তানের ওয়াজিরিস্তানে নিয়ে যাবে তালেবান।

দি সান জানিয়েছে, তালেবানের কালচারাল কমিশনের নামে জারি করা চিঠিতে বলা হয়েছে, দখল করা এলাকার সব ইমাম, মোল্লাদের অবশ্যই ১৫’র বেশি বয়সে মেয়েদের, ৪৫ এর কম বিধবাদের তালিকা পাঠাতে হবে, যাদের তালেবান যোদ্ধাদের সঙ্গে বিয়ে হবে। ২০০১-এ মার্কিন নেতৃত্বাধীন বাহিনীর অভিযানে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে তালেবানি শাসনে মেয়েদের স্কুলে যাওয়া, বাড়ির বাইরে কাজে বেরোনো বা পুরুষ সঙ্গী ছাড়া বাড়ি ছেড়ে বেরোনো-সবই নিষিদ্ধ ছিল। ফতোয়া অগ্রাহ্য করলে প্রকাশ্যে তিরস্কার, তালেবানের ধর্মীয় পুলিশের হাতে মারধর জুটত।

সেই অন্ধকার জমানার পদধ্বনি শুনতে পাচ্ছেন আফগান প্রবীণরা। বলছেন, তালেবান এসে জোর করে ঘর থেকে তুলে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করে দাসীতে পরিণত করবে। তাদেরই একজন, হাজি রোজি বেগের কথায় স্পষ্ট তালেবান-বিদ্বেষ। ফিনান্সিয়াল টাইমস -কে তিনি জানান , ‘তালেবানি দখলে আমরা হতাশ। ঘরে জোরে কথা বলতে, গান শুনতে পারি না। মেয়েরা শুক্রবারের বাজারে যেতে পারে না।

ওরা এসে খোঁজ নিচ্ছে- বাড়িতে কে কে আছে। তালেবান সাব কম্যান্ডারের স্পষ্ট নির্দেশ, মেয়ের বয়স ১৮ হলে আর ঘরে রাখা যাবে না, এটা পাপ, বিয়ে দিতে হবে। আমি নিশ্চিত, কোনোদিন ওরা এসে আমার ২৩-২৪ বছর বয়সী মেয়েদের তুলে নিয়ে গিয়ে জোরজবরদস্তি বিয়ে করবে।’ এই অবস্থায় আমেরিকা, আফগানিস্তান ও আরও কয়েকটি দেশের ১৪০ জন নাগরিক সমাজ ও ধর্মীয় নেতা প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে বলেছেন, আফগানিস্তান থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের মূল্য যাতে স্কুলছাত্রীদের জীবন দিয়ে চোকাতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপুঞ্জের শান্তিরক্ষী বাহিনীকে ডাকা হোক।

আজকের জনপ্রিয়:
>> আয়ু কমে যাওয়ার ৭ কারণ
>> সন্তানদের যে আমলের অভ্যাস করানো জরুরি
>> ছেলেদের যে বিষয়গুলো মেয়েরা সবার আগে খেয়াল করে


Share:





জুমবাংলানিউজ/এসআর