Views: 171

খেলাধুলা ফুটবল

ম্যারাডোনার নামে হচ্ছে স্টেডিয়াম


স্পোর্টস ডেস্ক : ইতালির নেপলস শহরের বাসিন্দাদের কাছে এখনও ঈশ্বরতুল্য আর্জেন্টাইন কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনা। স্থানীয় ক্লাব নাপোলিকে বিখ্যাত করে তুলেছিলেন। রেলিগেশন জোন থেকে তুলে ক্লাবটিকে জিতিয়েছেন সিরিআ। এখানেই তার নামের পাশে ‘ফুটবল ঈশ্বর’ খ্যাতি জোটে। এবার ক্লাবটির মাঠ স্যান পাওলো স্টেডিয়ামকে ম্যারাডোনার নামে নামকরণের দাবি উঠেছে।

নেপলস শহরের মেয়র এরইমধ্যে স্টেডিয়ামের নাম পরিবর্তনের জন্য আনুষ্ঠানিক পদক্ষেপ নিয়েছেন।

বুধবার ৬০ বছর বয়সে আর্জেন্টিনার একটি রিসোর্টে শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তর্কসাপেক্ষে সর্বকালের সেরা ফুটবলার দিয়েগো ম্যারাডোনা। পুরো বিশ্বের মতোই শোকাচ্ছন্ন হয়ে ওঠে ইতালির নেপলস শহর। এরপরই দাবি ওঠে স্থানীয় স্টেডিয়ামের নাম ম্যারাডোনার নামে নামকরণের।

স্থানীয় মেয়র লুইগি দে বলেন, আমরা আজই এই বিষয়ে পদক্ষেপ নিয়েছি। নেপলসের স্টেডিয়ামটি ম্যারাডোনার নামে উৎসর্গ করতে চাই আমরা। কিছু প্রসেস আছে যেগুলো আমাদেরকে মানতে হবে। তবে আমরা কথা দিচ্ছি, এটা খুব দ্রুতই হবে। কারণ সবাই চায়, এটি হোক।

তিনি আরো বলেন, আমরা প্রয়োজনে কিছু ম্যাচ স্থগিত করে এটি বানিয়ে ফেলবো।

এরইমধ্যে নগর কর্মকর্তারা স্যান পাওলো স্টেডিয়াম পরিদর্শন করেছেন। এই স্টেডিয়ামে খেলেছেন ম্যারাডোনা। ক্লাবটির ইতিহাসের মাত্র ২ বার সিরিআ ট্রফি জয়ে নেতৃত্ব দিয়েছিলেন।

ক্লাব নাপোলির সভাপতি অরেলিও দে লরেন্তিস বলেন, স্যান পাওলোর পরিবর্তে মাঠের নাম ম্যারাডোনার নামে হওয়াটাই বেশি যৌক্তিক। কারণ দিয়েগো, তুমি এখনো আমাদের সঙ্গেই আছো আর থাকবে। নেপলিটানদের হৃদয়ে তুমি আজীবন থাকবে।


এরইমধ্যে সমর্থকরা জড়ো হয়েছেন স্টেডিয়ামের বাইরে। সেখানে তারা ব্যানার-ফেস্টুন নিয়ে হাজির হয়েছেন। গান গাইছেন এবং ম্যারাডোনার সম্মানে আলোক প্রজ্জ্বলন করেছেন। তারা দাবি তুলেছেন, মাঠটির নামকরণ যেন হয় ম্যারাডোনার নামে।

স্টেডিয়ামের বাইরে একজন সমর্থক বলেন, ম্যারাডোনা আমাদের বাবার মতো, ভাইয়ের মতো। আমাদের পরিবারের সদস্যের মতো। মনে হচ্ছে পরিবারের একজন সদস্য মারা গেছেন। মনে হচ্ছে নেপলের একটা অংশ ছিঁড়ে গেছে।

স্থানীয় আরেক সমর্থক আনা কারপি বলেন, আমার হৃদয় ভেঙে গেছে। কিন্তু আমি জানি, দিয়েগো সবসময়ই আমাদের হৃদয়ে থাকবে।

১৯৮৪ সালে বার্সেলোনা ছেড়ে ম্যারাডোনা যখন নাপোলিতে যোগ দেন, ক্লাবটি ছিল তখন একেবারে নিচুসারির দল। কেবল দলীয় শক্তিতেই নয়, আর্থিকভাবেও তুরিন এবং মিলানের ক্লাবগুলোর তুলনায় বেশ দুর্বল ছিল। বলা চলে, ভঙ্গুর একটা দলে যোগ দেন ম্যারাডোনা। আর বছর তিনেক পরই সেই দলটিকে দেশের শীর্ষ লিগ জেতান এই কিংবদন্তি।

সেসব সময়ের স্মৃতিচারণ করে একজন সমর্থক বলেন, আজকালকের সন্তানরা, যারা কখনো ম্যারাডোনাকে খেলতেও দেখেনি, তারাও মনে করে ম্যারাডোনা তাদের হৃদয়-মনন সবটুকু জুড়ে আছে।

ম্যারাডোনা নাপোলি ছেড়ে যাওয়ার পর থেকে, তার পরিহিত ১০ নাম্বার জার্সি তুলে রেখেছে ক্লাবটি। তার সম্মানে আজ পর্যন্ত কাউকে এই জার্সিটি পরতে দেয়নি তারা।

কেবল নেপলস শহরেই নয়, ইতালিরই অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ যেন ম্যারাডোনা। দেশটিকে নিজের সেকেন্ড হোম ভাবতেন তিনি। কিন্তু দেশটি সবসময়ই তাকে সন্তানতুল্য মনে করেছে। ইতালির সবগুলো পত্রিকার শিরোনামে ম্যারাডোনা। খুব ছোট্ট একটা শব্দে সবাই লিখেছে, “Grazie” — “Thank You.”

কখনো কখনো ক্লাবের চেয়ে বড় হয়ে ওঠেন ফুটবলার। কখনো বা দেশের চেয়েও বড়। দিয়েগো ম্যারাডোনারা হয়ে ওঠেন আরো বড় কিছু। চিরন্তন, সর্বজনীন।


যাদের বাচ্চা আছে, এই এক গেইমে আপনার বাচ্চার লেখাপড়া শুরু এবং শেষ হবে খারাপ গেইমের প্রতি আসক্তিও।ডাউনলোডকরুন : https://play.google.com/store/apps/details?id=com.zoombox.kidschool



আরও পড়ুন

১৫৭ রানেই গুটিয়ে গেল শ্রীলংকা

Saiful Islam

যেখানে রোনালদোর ধারে কাছেও নেই মেসি!

Saiful Islam

রোহিতরা খেয়েছেন গোমাংস, চটেছেন ভারতীয় ক্রিকেটপ্রেমীরা

Shamim Reza

উইন্ডিজ সিরিজে ভেট্টরিকে পাচ্ছেন না মিরাজ-তাইজুলরা

Mohammad Al Amin

গরুর মাংস খেয়ে বিপাকে রোহিতসহ ৫ ভারতীয় ক্রিকেটার!

Saiful Islam

বাতিল হয়ে যাওয়া টেস্ট সিরিজ খেলতে শ্রীলঙ্কায় পৌঁছেছে ইংল্যান্ড

Mohammad Al Amin