কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার ষোলনল ইউনিয়নের ভরাসার বাজারে সরকারি খাল দখল করে বহুতল ভবন নির্মাণের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও উপজেলা যুবলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক বিল্লাল হোসেন ও তার বোনজামাই মফিজুল ইসলাম বেগের বিরুদ্ধে। তিন তলা ভবনের ওপরের তলায় বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের নির্যাতনের জন্য ‘টর্চার সেল’ও তৈরি করা হয়েছিল।

যুবলীগ নেতা

Advertisement

জানা যায়, ২০০০ সালের দিকে আওয়ামী লীগ সরকারের সময় দলীয় অফিস করার কথা বলে জায়গাটি দখল এবং তৎকালীন তহশিলদারকে চাপ দিয়ে বিএস জরিপে মফিজুল ইসলাম বেগের নামে রেকর্ড অন্তর্ভুক্ত করা হয়। এতে প্রভাব খাটিয়েছিলেন বুড়িচং উপজেলা যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও ষোলনল ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন। তার নামে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একাধিক হত্যা মামলা রয়েছে।

স্থানীয়দের দাবি, সিএস ও আরএস জরিপে এ সরকারি খাস জমি থাকলেও আওয়ামী সরকারের প্রভাব খাটিয়ে বিএস জরিপে জায়গাটি বিল্লাল হোসেন তার বোনজামাই মফিজুল ইসলাম বেগের নামে করে নেন। সেখানে বাজারের মানুষের ব্যবহারের জন্য একটি পাবলিক টয়লেট ছিল। ২০১৮-১৯ সালে সেটি ভেঙে তিন তলা ভবন তৈরি করেন মফিজুল ইসলাম।

স্থানীয়রা জানায়, মফিজুল ইসলাম আওয়ামী লীগের রাজনীতি করলেও কোনো পদ-পদবীতে ছিলেন না। তিনি শ্যালক বিল্লাল হোসেন চেয়ারম্যানের প্রভাব খাটিয়ে ওই খাস জায়গাতে ভবন নির্মাণ করেছেন।

অভিযোগ রয়েছে, বিল্লাল হোসেন ভবনের তিন তলায় একটি টর্চার সেল তৈরি করেছিলেন। সেখানে বিএনপি ও জামায়াতের নেতাকর্মীদের নির্যাতন করা হতো।

ওই টর্চার সেলে নির্যাতনের শিকার হওয়া ষোলনল ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক টুটুল মিয়া আমার দেশকে বলেন, ২০১৯ সালের ২ জানুয়ারি বিল্লাল হোসেন ওই ভবনের তিন তলায় নিয়ে গিয়ে আমার ওপর অমানবিক অত্যাচার চালায়। আমাকে পিটিয়ে হাত-পা ভেঙে দেওয়া হয়। এখনো আমার হাত বাঁকা হয়ে আছে। পেটাতে পেটাতে বলেছিল, আর বিএনপি করবি কি না বল। বিএনপির নাম কখনো মুখে নিবি না। তার অভিযোগ, তারু মিয়া নামের আরো একজনকে একই ভবনে নিয়ে প্রচণ্ড নির্যাতন করা হয়েছিল।

ভবনটির বিষয়ে ভরাসার গ্রামের বাদল মেম্বার বলেন, আমরা ছোটবেলায় দেখেছি ভরাসার বাজারের সব মানুষ এই জায়গায় নির্মিত টয়লেট ব্যবহার করত। আরএস ও সিএস দুটোতেই এ জায়গাটি সরকারি খাস হিসেবে ছিল। তবে তৎকালীন তহশিলদার আর্থিক সুবিধার বিনিময়ে বিএস জরিপে জায়গাটি মফিজুল ইসলাম বেগের নামে করে দেয়। কয়েক বছর আগে ভরাসার গ্রামের মরহুম সিরাজুল ইসলাম এ ব্যাপারে অভিযোগ করেছিলেন। তবে বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।

স্থানীয় বাসিন্দা শামসুল হুদা আমার দেশকে বলেন, কালভার্টটির উত্তর পাশের খালটি আগে অনেক প্রশস্ত ছিল। সেখানে আগে একটি পাবলিক টয়লেট ছিল। মফিজুল ইসলাম সেই সরকারি জায়গায় কীভাবে ভবন নির্মাণ করেছে এ বিষয়ে ভূমি অফিস ভালো বলতে পারবে।

ষোলনল ইউনিয়ন ভূমি অফিসের উপ-সহকারী ভূমি কর্মকর্তা তারেকুল ইসলাম জানান, খালটি ভরাসার বাজার হয়ে ইছাপুরা হয়ে মহিষমারার দিকে গিয়েছে। ম্যাপে বাজার এলাকায় খালটি ১২ শতক আছে। খালটির প্রশস্ততা সম্পর্কে উপজেলা সার্ভেয়ার অফিসার বলতে পারবে।

এদিকে অভিযোগের ব্যাপারে জানতে চাইলে মফিজুল ইসলাম বেগ বলেন, আমি সরকার থেকে বন্দোবস্ত এনেছি। আমার নামে কাগজ আছে। এদিক দিয়ে কোনো খাল নেই। উভয় পাশেই আমার জায়গা।

খাস জমি দখল করে বোনজামাইকে বাড়ি নির্মাণে সহায়তা, দলীয় অফিস ও টর্চার সেল নির্মাণের অভিযোগের ব্যাপারে আওয়ামী লীগ নেতা ও সাবেক ষোলনল ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান বিল্লাল হোসেন বলেন, আমি বিএনপির কোনো নেতাকর্মীর উপর অত্যাচার নির্যাতন করিনি। আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দেওয়া হচ্ছে। আর যে বাড়িটির কথা বলা হয়েছে সেটি আমার বোনজামাই করেছে। কোনো অনিয়ম করলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিন, তাতে আমার কোনো আপত্তি নেই।

নামাজের সময়সূচি: ১২ মে, ২০২৬

সার্বিক বিষয়ে জানতে চাইলে বুড়িচং উপজেলা নির্বাহী অফিসার তানভীর হোসেন আমার দেশকে বলেন, জলাশয়ের ক্ষেত্রে সিএস দেখেই ভূমির মালিকানা নিশ্চিত করা হয়। বিএস এ মফিজুল ইসলামের নাম থাকলেও আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। কোনো অনিয়ম করে থাকলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Md Elias is a journalist at Zoom Bangla News, contributing to news writing and editorial support. He is involved in refining content to ensure accuracy, clarity, and consistency across digital platforms. His work reflects a commitment to responsible journalism and reader-focused reporting.