লাইফস্টাইল স্বাস্থ্য

যেভাবে মানসিক চাপে ত্বকের ক্ষতি হয়

প্রতীকী ছবি

লাইফস্টাইল ডেস্ক : দিনে দিনে বিভিন্ন ধরনের মানসিক চাপ ত্বকে সমস্যা তৈরির পাশাপাশি সংক্রমণকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে– সামান্য প্রাদুর্ভাব সোরিয়াসিস কিংবা একজিমার মতো দীর্ঘস্থায়ী রূপ নিতে পারে।

মানুষের ত্বকে এমনটা বিভিন্নভাবে দেখা দিতে পারে। সোরিয়াসিস বা রোসেসিয়া আরও তীব্রতর করে দিতে পারে এই মানসিক চাপ। এতে ব্রণের ক্ষত হতে পারে, যাতে দাহ আরও বাড়বে ও দীর্ঘস্থায়ী হবে। এছাড়া নখ নরম-ভঙ্গুর, চুলপড়া, রক্তস্ফোট কিংবা অতিরিক্ত ঘাম ঝরার কারণও হতে পারে মানসিক চাপ।

এতে শরীরে ফুসকুড়ি, সোরিয়াসিস, ত্বকের প্রদাহ, সেবোরিক ডার্মাটাইটিস দেখা দেয়া ছাড়াও তা আরও দুঃসহ পর্যায়ে চলে যেতে পারে। ত্বকের প্রতিরোধ কার্যক্রম অকেজো ও ত্বকে পানিশূন্যতা হতে পারে। ফলে প্রদাহ, অ্যালার্জি ও সংক্রামক জীবাণু ত্বকে ঢুকে নতুন সমস্যা তৈরি করবে।

মানসিক চাপে কোরটিসলের মতো হরমোন নির্গত হতে পারে। যা লোমকূপের কোষ স্থূল ও তেল নির্গমন ঘটাবে। ব্রণ হওয়ার জন্য যা খুবই উপযোগী পরিস্থিতি। এতে ত্বকের স্নায়ুকোষের গোড়া থেকে রাসায়নিক ও নিউরোপেটাইডস নির্গমন ঘটাতে পারে।

ফলে ত্বক লাল হয়ে যাবে এবং চুলকানির সংক্রমণ ঘটাবে। টি কোষগুলোর (ত্বকের সংক্রামক প্রতিরোধক) অতিরিক্ত বিস্তারের সুযোগ করে দেবে, দ্রুত ত্বক উঠে যাবে, ভাঁজ পড়ে যাবে কিংবা আশেঁর মতো হয়ে যাবে। তখন সেখানে যেসব রক্তনালী আছে, মানসিক চাপের দরুণ সেগুলো অতিরিক্ত সক্রিয় হয়ে পড়বে। যাতে ত্বক রক্তিমাভ কিংবা বিবর্ণ দেখাবে। অবশ্য নতুন চামড়া গজানোর কলাকৌশল গ্রহণ করলে সেটা ভিন্ন কথা। মানসিক চাপে ত্বকে এরপরেও যেসব প্রভাব পড়ে, তার মধ্যে রয়েছে– কোলাজিন প্রোটিন কমে যাওয়া, ত্বক পানিশূন্যতা বাড়া ও বলিচিহ্ন পড়া।

কোলাজিন কমে গেলে চামড়া নমনীয়তা হারাবে। ত্বকের তারুণ্য থাকবে না, নষ্ট হয়ে যাবে। আর পানিশূন্য হয়ে পড়লে ত্বক শুষ্ক হয়ে যাবে, উজ্জ্বলতা হারাবে। সাধারণত মানসিক চাপে থাকা রোগীরা তাদের ত্বককে অবহেলা করতে শুরু করেন। এই অঙ্গটিকে সুস্থ রাখতে ঠিকমতো পরিচর্যা করেন না। অনেক সময় ত্বকের ওপর নির্যাতনও করেন। যেমন, আঁচড়, ঘষাঘষি কিংবা টেনে তুলে ফেলতে পারেন।

এসব কারণে মানসিক চাপের সঠিক চিকিৎসার পাশাপাশি ত্বক, নখ ও চুলের সমস্যা নিরাময়ে ত্বকবিজ্ঞান সংশ্লিষ্ট চিকিৎসা ব্যবস্থারও দারস্থ হওয়া উচিত। যখন দুটি সমস্যার চিকিৎসা এক সঙ্গে চলবে, তখন দ্রুতই ত্বক সেরে উঠবে আর মানসিক সমস্যার প্রভাবও থাকবে না।

এতে রোগীর সার্বিক দুশ্চিন্তা কমবে এবং আবেগের সঙ্গে তারা যে অনুভূতি, তাতে ভালো বোধ করতে থাকবেন।

কাজেই মানসিক চাপ ও ত্বকের সমস্যা নিরাময়ে ত্বক বিশেষজ্ঞকে দেখান।

লেখক: ডা. নাদিয়া রুম্মান, প্রধান নির্বাহী (সিইও), অ্যাসথেটিক ডার্মাটোলজি অ্যান্ড লেজার কনসালটেন্ট, ড. এন অ্যাসথেটিকস।


জুমবাংলানিউজ/এসএস




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


সর্বশেষ সংবাদ