জুমবাংলা ডেস্ক : এস্ক্রো সিস্টেমে পেমেন্ট গেটওয়েতে ইভ্যালির গ্রাহকদের আটকে থাকা টাকা রিফান্ড নিয়ে নানা জটিলতা দেখা দিয়েছে। অনেক গ্রাহকরাই বিভিন্ন মার্চেন্ট অ্যাকাউন্ট থেকে পণ্য কেনার টাকা জমা দিয়েছিলেন। এতে করে তাদের পরিচয় জানার সুযোগ নেই। আবার এদিকে ইভ্যালির সার্ভার বন্ধ হয়ে যাওয়ায় ডাটাবেজ থেকে গ্রাহকদের তথ্যও উদ্ধার করতে পারছে না বর্তমান পরিচালনা বোর্ড। কোন গ্রাহক পণ্য পেয়েছেন, কে পান নি, তা নিয়েও রয়েছে ধোঁয়াশা। সার্বিক পরিস্থিতিতে গেটওয়েতে আটকে থাকা টাকা ফেরত দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে।

ইভ্যালি

Advertisement

বৃহস্পতিবার (৩১ মার্চ) রাতে এ বিষয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাস দেন ইভ্যালির বর্তমান পরিচালনা বোর্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) ও সরকারের সাবেক অতিরিক্ত সচিব মাহবুব কবির মিলন।

তিনি বলেন, ‘১ জুলাই ২০২১ তারিখ হতে এস্ক্রো নীতিমালা কার্যকর হওয়ার পর গ্রাহক মাল ক্রয়ের জন্য পেমেন্ট গেটওয়েতে টাকা জমা দেয়ার পর গ্রাহক মাল বুঝে পেলে, তবেই সে টাকা পেমেন্ট গেটওয়ে থেকে ইভ্যালির একাউন্টে জমা হবে। আর গ্রাহক মাল না পেলে ইভ্যালি একটা অর্ডার বা রিকুয়েস্টের মাধ্যমে গেটওয়েতে জানিয়ে দেবে যে, এই এই গ্রাহকের মাল ডেলিভারি দেয়া যায়নি, তাদের টাকা ফেরত দেয়া হোক। একেই বলে রিফান্ড। এই রিফান্ডের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্দেশনা হচ্ছে, ই-কমার্স বা ইভ্যালি হতে রিফান্ড রিকুয়েস্ট পেলেও পেমেন্ট গেটওয়ে যেন, গ্রাহকের তথ্য যাচাই করে নেয়। যে, গ্রাহক সত্য নাকি মিথ্যা বলে রিফান্ড নিচ্ছে। ইভ্যালির প্রাক্তন সিইও রাসেল সাহেব গ্রেফতার হবার আগে ১ জুলাই, ২০২১ হতে এস্ক্রোতে জমা হওয়া টাকার মধ্যে সর্বশেষ যে রিফান্ড অর্ডার পেমেন্ট গেটওয়েতে প্রেরণ করেছিলেন, তার সব টাকা গ্রেফতারের পরপরই পেমেন্ট গেটওয়ে ঐ গ্রাহকদের রিফান্ড করে দিয়েছিলেন।’

মাহবুব কবির মিলন আরও উল্লেখ করেন, ‘রাসেল সাহেব গ্রেফতার হওয়ার পর ব্যবসা বন্ধ হয়ে গেলে এবং এরপর সার্ভার কয়েকদিন চালু থাকলেও এস্ক্রো’র টাকা রিফান্ড দেয়ার জন্য রিফান্ড অর্ডার বা রিকুয়েস্ট তৈরি করার মত কেউ অফিসে ছিলেন না, বা বাসায় বসেও কেউ এ কাজটি করার প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি। ফলে গেটওয়েতে ইভ্যালির আর পেন্ডিং রিফান্ড অর্ডার বা রিকুয়েস্ট নেই। অর্থাৎ, ইভ্যালি অফিস হতে যাচাই বাছাই করে কার মাল ডেলিভারি হয়নি এবং কে কে রিফান্ড পাবে সেই ডাটা তৈরি করে পেমেন্ট গেটওয়েতে পাঠানো হয়নি আর, রাসেল সাহেব গ্রেফতার হবার পর। আমরা দায়িত্ব নেবার পর একই অবস্থা পেয়েছি। ছয়টি গেটওয়েতে যে টাকা পড়ে আছে, তা সম্পূর্ণভাবে ১ জুলাইয়ের পর প্রাপ্ত এস্ক্রো সার্ভিসের। অন্যকোনো বা ১ জুলাইয়ের আগের কোনো টাকা এখানে বা অন্য ব্যাংকে নেই। ছয় পেমেন্ট গেটওয়েতে আটকে থাকা এস্ক্রোর টাকা ছাড়া কোন ব্যাংকে ইভ্যালির কোন টাকা এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি।’

শীঘ্রই শাহরুখ ও নয়নতারার পরবর্তী সিনেমার শ্যুটিং

ইভ্যালির এমডি হিসেবে দায়িত্বরত সাবেক এই আমলা আরও বলেন, ‘এস্ক্রোর টাকা রিফান্ড করার প্রক্রিয়া নিয়ে আমরা সকল গেটওয়ের সাথে বৈঠক এবং অসংখ্যবার কথা বলেছি। তারা সবাই বলেছে গ্রাহকের তথ্য দৈবচয়নের ভিত্তিতে যাচাই করে অনেক গ্রাহকের সঠিক তথ্য তারা পায়নি। বড় কথা হচ্ছে এজন্য ইভ্যালি হতে ক্লিয়ারেন্স বা রিফান্ড অর্ডার চায় তারা। আমাদের কাছে গ্রাহকের কোন তথ্য বা কাগজপত্র নেই, যার ভিত্তিতে রিফান্ড অর্ডার তৈরি করা যাবে। এটা করতে হলে অবশ্যই সার্ভার আপ এবং পূর্বের লোকজন কিছু হলেও নিয়োগ করতে হবে। কারণ গ্রাহকের সব তথ্য আছে সার্ভারে। এই সার্ভার আপ করতে হলে এর অ্যাডমিন এক্সেস লাগবে। যা আছে রাসেল সাহেবের হাতে, যদিও তিনি বলেছেন ইউজার নেইম এন্ড পাসওয়ার্ড তিনি ভুলে গেছেন। তিনি আছেন জেলে। এটার জন্য একটা প্রক্রিয়ার কথা চিন্তা করা হচ্ছে, যা সময় হলে জানবেন সবাই। গ্রাহকের হাতে থাকা কাগজপত্র দিয়ে রিফান্ড দেয়া সম্ভব নয়। একারণেই গেটওয়েতে আটকে থাকা প্রায় ৩৯৭ কোটি টাকার মধ্যে মাত্র ৪৫/৪৬ কোটি টাকা রিফান্ড দিতে পেরেছে কিউকম। কারণ মাত্র এই ৪৬ কোটি টাকার সঠিক তথ্যই তাদের মালিক গ্রেফতারের আগেই রেডি করা ছিল। তাই তারা সেটা রিলিজ করতে পেরেছে। গ্রাহকের কাছে সব তথ্য থাকলেও কিউকম টাকা রিফান্ড করতে পারবে না। যতক্ষণ না পুরো ব্যবসা আবার চালু না হয়।’

তিনি বলেন, ‘তারা কিছু টাকা রিফান্ড করতে পারছে না, মার্চেন্ট বা এজেন্ট নাম্বার হতে গ্রাহক টাকা পেমেন্ট করায় গ্রাহকের হদিস পাওয়া যাচ্ছে না। গ্রাহক মাল পেয়েছে কিনা, মাল পাবার পরেও সে রিফান্ড ক্লেইম করছে কিনা, তা বর্তমানে আমাদের বা ব্যাংক কিংবা গেটওয়ের পক্ষে যাচাই করা সম্ভব নয়। তাই সার্ভার আপ করে যাচাই বাছাই না করা পর্যন্ত রিফান্ড দেয়া সম্ভব হবে না। যদিও আমাদের একাজ করতে মহামান্য হাইকোর্টের অনুমতি নিতে হবে। আবারও বলছি, ইভ্যালির একাউন্টে এস্কোর টাকা ছাড়া অন্যদের অন্যান্য পাওনা পরিশোধের কোন অর্থ এখন পর্যন্ত পাওয়া যায়নি। শুধুমাত্র ব্যবসা আবার শুরু করা গেলেই ধীরে ধীরে হয়তো তা করা সম্ভব হবে। সেটা সম্ভব কিনা, তা সময়ই বলে দেবে। এস্ক্রোতে আটকে থাকা গ্রাহকের এক টাকাও খরচ করা হয়নি।’

তবে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক শ্রেণির নিন্দুকদের উদ্দেশে খেদ প্রকাশ করে মাহবুব কবির মিলন বলেন, ‘একের পর এক, সব চেষ্টাই করে যাচ্ছি আমরা। যাতে এই লক্ষ লক্ষ মানুষ পথে বসে না যায়। বিনে পয়সায় ভলান্টারি সার্ভিস দিয়ে যাচ্ছি আমি। আমার উপর গালাগালি, ঝাঁপিয়ে পড়ে কাঁপিয়ে দেবেন। মূহূর্তের মধ্যে ছেড়ে দিয়ে চলে যাব। ইভ্যালি আমার সোনার ডিম পাড়া হাঁস নয়।’

প্রসঙ্গত, গেল বছরের ১৬ সেপ্টেম্বর এক গ্রাহকের করা মামলায় গ্রেফতার হন ইভ্যালির এমডি মোহাম্মদ রাসেল ও তার স্ত্রী ইভ্যালির চেয়ারম্যান শামীমা নাসরিন। পরে ১৮ সেপ্টেম্বর ইভ্যালি তাদের অফিস বন্ধ ঘোষণা করে। ১৬ অক্টোবর ইভ্যালি তাদের ওয়েবসাইট ও মোবাইল অ্যাপ বন্ধ করে দেয়। পরে আদালতের নির্দেশে একটি ৫ সদস্যের বোর্ড গঠন করে ইভ্যালির অবস্থা যাচাই-বাছাই ও পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়। তবে দায়িত্ব নেওয়ার বেশ কয়েকমাস পেরিয়ে গেলেও এখনো গ্রাহকদের জন্য আশাবাদী হওয়ার মতো কোনো তথ্য জানাতে পারেন নি তারা।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Shamim Reza is an experienced journalist and sub-editor at Zoom Bangla News, with over 13 years of professional experience in the field of journalism. Known for his strong writing skills and editorial insight, he contributes to producing accurate, engaging, and well-structured news content. Born and brought up in Jashore, his background and experience shape his deep understanding of social and regional perspectives in news reporting.