নিজস্ব প্রতিবেদক : ঐতিহ্যবাহী রাজশাহী সিল্ক শিল্পকে আধুনিকায়ন এবং হারানো গৌরব পুনরুদ্ধারে সরকার মাঠপর্যায়ে কাজ শুরু করেছে বলে জানিয়েছেন বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম।

শনিবার (১১ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় রাজশাহী রেশম গবেষণা ও প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট সরেজমিন পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে প্রতিমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
রেশম শিল্পের বর্তমান অবস্থা পর্যবেক্ষণ এবং এর উন্নয়নের রূপরেখা তৈরির অংশ হিসেবে তিনি এ পরিদর্শন করেন।
প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম বলেন, “রাজশাহী সিল্ক শুধু একটি শিল্প নয়, এটি দেশের ঐতিহ্য ও গৌরবের অংশ। এই শিল্পকে আধুনিক প্রযুক্তি, গবেষণা ও প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নতুনভাবে দাঁড় করাতে সরকার কাজ করছে।”
তিনি বলেন, রেশম শিল্পের পুনরুজ্জীবনে মাঠপর্যায়ে কী কী পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন, তা পরিদর্শনের মাধ্যমে সরাসরি দেখা হচ্ছে।
রেশম শিল্পের ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ১৯৭৭ সালে তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাজশাহী রেশম বোর্ড স্থাপন করেছিলেন। পরবর্তীতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াও এই বোর্ডের উন্নয়নে বিভিন্ন কর্মকাণ্ড পরিচালনা করেন।
বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় এ শিল্পকে আধুনিকীকরণ এবং গবেষণার মাধ্যমে আরও উন্নত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে বর্তমানে ৪০০ থেকে ৪৫০ মেট্রিক টন রেশমের চাহিদা রয়েছে। তবে এর প্রায় ৯০ শতাংশই বিদেশ থেকে আমদানি করতে হয়। স্থানীয় কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া কিংবা পিছিয়ে পড়ার কারণে এ নির্ভরশীলতা তৈরি হয়েছে। এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে পলু চাষ, তুঁত গাছের উন্নয়ন এবং রেশম সুতার মান বাড়াতে গবেষণার ওপর সরকার বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলে জানান তিনি।
রেশম শিল্পের সঙ্গে জড়িত ঐতিহ্যবাহী কারিগর বা ‘বোসনি’দের ভবিষ্যৎ নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশে প্রায় ১১ হাজার ৫০০ জন বোসনি রয়েছেন। বয়সের কারণে তাঁদের সংখ্যা ক্রমেই কমে যাচ্ছে।
“বোসনিদের পরবর্তী প্রজন্মকে প্রশিক্ষণের মাধ্যমে তৈরি করা না গেলে এই শিল্পের ঐতিহ্য চিরতরে হারিয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে,” বলেন তিনি।
বন্ধ কারখানাগুলো পুনরায় চালু করা, সিল্কের প্রসার বাড়ানো এবং দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করার পরিকল্পনার কথাও জানান প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, চীন ও জাপানের মতো বড় বাজারে দেশীয় সিল্ক পণ্যের সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সঙ্গে সমন্বয় করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
এর আগে পরিদর্শনকালে বাংলাদেশ রেশম উন্নয়ন বোর্ডের মহাপরিচালক মো. তৌফিক আল মাহমুদ একটি প্রেজেন্টেশনের মাধ্যমে মন্ত্রী ও সচিবের কাছে বোর্ডের সার্বিক কার্যক্রম তুলে ধরেন।
আরও পড়ুনঃ একসঙ্গে পাঁচ সন্তানের জন্ম, সুস্থ অবস্থায় বাড়ি ফিরলেন মা ও নবজাতক
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব বিলকিস জাহান রিমি, রাজশাহী জেলা পরিষদের প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা অ্যাডভোকেট মো. এরশাদ আলী (ঈশা), জেলা প্রশাসক রাজশাহী কাজী শহিদুল ইসলাম এবং রেশম বোর্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


