বিশ্ববাজারে রেকর্ড উচ্চতায় ওঠার পর বড় ধরনের পতনের মুখে পড়লেও আবারও শক্তিশালী অবস্থানে ফিরেছে স্বর্ণ। মাত্র কয়েক দিনের ব্যবধানেই আন্তর্জাতিক বাজারে এই মূল্যবান ধাতুর দাম এক লাফে ৩ শতাংশের বেশি বেড়েছে। মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) আন্তর্জাতিক স্পট মার্কেটে স্বর্ণের দাম ৩.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ৮৩৭ দশমিক ১৬ ডলারে থিতু হয়েছে। একই সময়ে মার্কিন গোল্ড ফিউচারেও বড় উত্থান দেখা গেছে, যেখানে এপ্রিলের ডেলিভারির জন্য দাম ৪.৫ শতাংশ বেড়ে আউন্সপ্রতি ৪ হাজার ৮৫৯ দশমিক ৩০ ডলারে দাঁড়িয়েছে।
স্বর্ণের এই আকস্মিক দাম বাড়ার পেছনে মূলত মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক অস্থিরতা কাজ করছে। বিশেষ করে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদে ব্যয় প্যাকেজ অনুমোদিত না হওয়ায় গত শনিবার থেকে শুরু হওয়া আংশিক সরকারি অচলাবস্থা বিনিয়োগকারীদের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। এই শাটডাউনের কারণে মার্কিন শ্রম পরিসংখ্যান ব্যুরো জানিয়েছে যে, চলতি সপ্তাহের গুরুত্বপূর্ণ কর্মসংস্থান প্রতিবেদনটি যথাসময়ে প্রকাশ করা সম্ভব হবে না। অর্থনৈতিক তথ্যের এই অনিশ্চয়তার কারণে বিনিয়োগকারীরা ঝুঁকি এড়াতে নিরাপদ বিনিয়োগ হিসেবে স্বর্ণের দিকে ঝুঁকছেন, যা দামকে উঁচুতে টেনে তুলছে।
বাজার সংশ্লিষ্টরা আরও মনে করছেন যে, ২০২৬ সালে ফেডারেল রিজার্ভ অন্তত দুবার সুদের হার কমাতে পারে—এমন প্রত্যাশাও স্বর্ণের চাহিদা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে। যদিও ডলারের শক্তিশালী অবস্থান সাধারণত স্বর্ণ কেনাকে অন্যান্য দেশের জন্য ব্যয়বহুল করে তোলে, তবে বর্তমানে সরকারি অচলাবস্থার প্রভাব সেই বাধাকে ছাড়িয়ে গেছে। এর পাশাপাশি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের সঙ্গে যে নতুন বাণিজ্য চুক্তির ঘোষণা দিয়েছেন, তা আন্তর্জাতিক ভূ-রাজনীতিতে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। এই চুক্তির ফলে ভারত রাশিয়া থেকে তেল কেনা বন্ধ করবে এবং বিনিময়ে ভারতীয় পণ্যে মার্কিন শুল্ক ৫০ শতাংশ থেকে কমে ১৮ শতাংশে নামবে। এই বড় ধরনের ভূ-রাজনৈতিক পরিবর্তনটিও বিনিয়োগকারীদের মনোযোগ কেড়েছে।
উল্লেখ্য যে, গত ২৯ জানুয়ারি স্বর্ণের দাম রেকর্ড ৫ হাজার ৫৯৪ দশমিক ৮২ ডলারে পৌঁছানোর পর ২ ফেব্রুয়ারি তা ৪ হাজার ৪৮৪ ডলারের নিচে নেমে গিয়েছিল। তবে সেই নিম্নমুখী প্রবণতা কাটিয়ে বাজার এখন আবারও ঊর্ধ্বমুখী। স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর দামও পাল্লা দিয়ে বেড়েছে। স্পট রুপার দাম ৫.৯ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৮৪.০৯ ডলারে এবং স্পট প্লাটিনাম ও প্যালাডিয়ামের দাম যথাক্রমে ৩ শতাংশ ও ২.৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। হাউস স্পিকার মাইক জনসন অবশ্য দ্রুত সরকারি অচলাবস্থা নিরসনের আশা ব্যক্ত করেছেন, যা ভবিষ্যতে বাজারের গতিপথ নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


