in

লকডাউনের ঈদেও ৬ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ মৃত্যু

ঈদুল আজহায় যাতায়াতে (১৪ জুলাই থেকে ২৮ জুলাই) ২৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত হয়েছেন। যাত্রী কল্যাণ সমিতি বলছে, ঈদযাত্রায় লকডাউন থাকা সত্ত্বেও গত ৬ বছরের মধ্যে দুর্ঘটনায় এটিই সর্বোচ্চ মৃত্যু।

শুক্রবার গণমাধ্যমে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানায় সংস্থাটি।

প্রতি বছর কোরবানির ঈদের সময় ১৫ দিনের দুর্ঘটনার একটি হিসাব দিয়ে থাকে যাত্রী কল্যাণ সমিতি। ২০১৫ সালের পর কোরবানির ঈদের ১৫ দিনে সর্বোচ্চ সংখ্যক দুর্ঘটনা ও মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে এ বছরই।

সংস্থাটি বলছে, লকডাউনের কারণে মানুষের যাতায়াত সীমিত হলেও স্বল্পসময়ের জন্য গণপরিবহন চালু করায় সড়কে গণপরিবহনের পাশাপাশি ব্যক্তিগত যান বিশেষ করে প্রাইভেটকার, মাইক্রোবাস, মোটরসাইকেল, অটোরিকশা-ব্যাটারিচালিত রিকশা, ট্রাক-পিকআপ ও কাভার্ডভ্যানে একসাথে গাদাগাদি করে যাতায়াতের কারণে বিগত ৬ বছরের তুলনায় এবারের ঈদে সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহাণি দুটোই বেড়েছে।

ঈদযাত্রা শুরুর দিন গত ১৪ জুলাই থেকে ঈদ শেষে কর্মস্থলে ফেরা ২৮ জুলাই পর্যন্ত বিগত ১৫ দিনে ২৪০টি সড়ক দুর্ঘটনায় ২৭৩ জন নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন ৪৪৭ জন। এ সময়ে রেলপথে ৯ টি ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ৫ জন আহত হয়েছে। নৌ-পথে ১৩ টি দুর্ঘটনায় ১১ জন নিহত ও ৩৬ জন আহত এবং ২১ জন নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা মিলেছে।

সড়ক, রেল ও নৌ-পথে যৌথভাবে ২৬২টি দুর্ঘটনায় ২৯৫ জন নিহত ও ৪৮৮ জন আহত হয়েছে। তবে ২৩ জুলাই থেকে কঠোর লকডাউন শুরু হওয়ার পর ২৫ জুলাই থেকে সড়কে দুর্ঘটনায় প্রাণহাণি কমতে থাকে।

বরাবরের মতো এবারও দুর্ঘটনার শীর্ষে রয়েছে মোটরসাইকেল। এবারের ঈদে ৮৭টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় ৯৩ জন নিহত, ৫৯ জন আহত হয়েছে।

বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, বিগত ঈদগুলোতে সরকারের নানা মহলের তৎপরতা থাকায় দুর্ঘটনার লাঘাম কিছুটা টেনে ধরা সক্ষম হলেও কঠোর লকডাউনের কারনে মানুষের যাতায়াত সীমিত থাকার পরেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নজরদারি না থাকায় এবারের ঈদযাত্রায় সড়কে দুর্ঘটনা ও প্রাণহানি তুলনামূলকভাবে বেড়েছে। সরকার সড়কের অবকাঠামোর উন্নয়নে যতটা মনযোগী সড়ক নিরাপত্তায় ততটা উদাসীন।

প্রতিবেদনে দুর্ঘটনার প্রতিরোধে বেশ কিছু সুপারিশ করা হয়। যার মধ্যে রয়েছে-

১. জাতীয় ও আঞ্চলিক মহাসড়কে রাতের বেলায় অবাধে চলাচলের জন্য পর্যাপ্ত আলোর ব্যবস্থা করা

২. দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ গ্রহণ

৩. যানবাহনের ত্রুটি সারানোর উদ্যোগ গ্রহণ

৪. ধীরগতির ও দ্রুতগতির যানের জন্য আলাদা লেনের ব্যবস্থা করা

৫. সড়কে চাদাবাজি বন্ধ করা, চালকদের বেতন ও কর্মঘণ্টা সুনিশ্চিত করা

৬. সড়কে রোড সাইন রোড মার্কিং স্থাপন করা

৭. সড়ক পরিবহন আইন যথাযতভাবে বাস্তবায়ন করা

৮. ট্রাফিক আইনের সঠিক প্রয়োগ করা

৯. গণপরিবহন নিয়ন্ত্রক সংস্থা বিআরটিএর অনিয়ম দুর্নীতি বন্ধ করে সক্ষমতা বৃদ্ধি করা

১০. মানসম্মত সড়ক নির্মাণ ও মেরামত সুনিশ্চিত করা, নিয়মিত রোড সেইফটি অডিট করা।

অনলাইনে খুব সহজে টাকা ইনকাম করার উপায়