লঞ্চ-বাসে স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত, আদায় করা হচ্ছে দ্বিগুণ ভাড়া

জুমবাংলা ডেস্ক : করোনা পরিস্থিতির অবনতির মুখে সরকার পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে কিছু শর্তসাপেক্ষে সবধরনের যানবাহন চলাচল উন্মুক্ত করে দিলেও নৌ ও সড়ক পথে স্বাস্থ্যবিধি একেবারেই মানা হচ্ছে না। এছাড়া লঞ্চ ও বাসসহ অন্যান্য যানবাহনে দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করা হচ্ছে।

পরিবেশ ও নাগরিক অধিকার সংরক্ষণবিষয়ক সংগঠন বেসরকারি সংগঠন গ্রিন কাব অব বাংলাদেশ (জিসিবি) এবং নৌ, সড়ক ও রেলপথ রা জাতীয় কমিটির যৌথ পর্যবেণ প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

আজ শনিবার এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ১৫ ও ১৬ জুলাই দুই দিন রাজধানী ঢাকার গাবতলী, মহাখালী, ফুলবাড়িয়া (গুলিস্তান), কমলাপুর টিটিপাড়া ও সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল, মালিবাগ ও কল্যাণপুরসহ বিভিন্ন স্থানের বাস কাউন্টার, কমলাপুর রেলস্টেশন, সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল এবং শিমুলিয়া ও পাটুরিয়া ফেরিঘাটে তারা পর্যবেক্ষণ চালিয়েছে। এতে দেখা গেছে, কমলাপুর রেলস্টেশন ছাড়া অন্য কোথাও স্বাস্থ্যবিধি মানা হচ্ছে না। ন্যুনতম শারীরিক দূরত্বও বজায় রাখা হচ্ছে না; এমনকি যাত্রীদের একটি বড় অংশ মাস্ক ব্যবহার কিংবা দীর্ঘ সময় পরপরও হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহার করছেন না। সব বাসেই আসন সংখ্যা পূর্ণ করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে। আর লঞ্চের ডেক ও ছাদে গাদাগাদি করে যাত্রী নেওয়া হচ্ছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সরকার সংক্রমণ এড়াতে যাত্রীদের শারীরিক দূরত্ব বজায় রাখার জন্য পরিবহন মালিকদের ৬০ শতাংশ ভাড়া বৃদ্ধির সুযোগ দিয়ে এসব যানবাহনে নির্ধারিত আসন সংখ্যার অর্ধেক যাত্রী বহনের কঠিন শর্ত আরোপ করে। কিন্তু বাস এবং অধিকাংশ লঞ্চে ৬০ শতাংশের স্থলে ১০০ শতাংশ বেশি ভাড়া আদায় করছে। অন্যদিকে অর্ধেক যাত্রী বহনের শর্ত লঙ্ঘন করে সকল বাসে আসন সংখ্যার সমপরিমাণ এবং লঞ্চে দ্বিগুণেরও বেশি যাত্রী বহন করছে। এছাড়া শিমুলিয়া-বাংলাবাজার ও পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌপথে ছোট লঞ্চগুলোতে এবং ফেরিতে গাদাগাদি করে যাত্রী বহন করা হচ্ছে।

এ প্রসঙ্গে গ্রিন কাব অব বাংলাদেশের (জিসিবি) সাধারণ সম্পাদক আশীষ কুমার দে বলেন, আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সর্বত্র তৎপর রয়েছে। কিন্তু দীর্ঘদিনে লকডাউনের পর সব ধরনের যানবাহন চলাচল শুরু করায় ঈদকে সামনে রেখে মানুষ বাড়ি ছুটছে। এছাড়া স্বল্প সময়ে বিপুলসংখ্যক মানুষ পরিবহনে সক্ষমতা আমাদের দেশে নেই। এসব কারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপসহ আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষে পরিস্থিতি সামাল দেওয়া অত্যন্ত কষ্টকর। এছাড়া স্বাভাবিক সময়েও ঈদের আগে ঘরমুখী মানুষের কয়েকগুণ বেশি চাপ থাকে। তবে অতিরিক্ত ভাড়া আদায় বন্ধ এবং মাস্ক ও স্যানিটাইজার ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রশাসনকে কঠোর হওয়া উচিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।


জুমবাংলানিউজ/এসআর