খেলাধুলা ফুটবল

লাল কার্ডও যখন প্রশংসার কারণ

স্পোর্টস ডেস্ক : লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়া। দলের শিরোপা নিশ্চিত মাঠে থেকে উপভোগ করতে না পারা। সব দুঃখ নিশ্চয় ভুলে যাবেন রিয়ালের ফেডেরিক ভালভার্দে। কারণ, লাল কার্ড পেয়েও জিতেছেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। নিয়েছেন শিরোপার স্বাদ। কুড়িয়েছেন নিজ দল ও প্রতিপক্ষ কোচের প্রশংসা।

সুপার কাপের ফাইনাল, মুখোমুখি মাদ্রিদের দুই নগর প্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল ও অ্যাটলেটিকো। ম্যাচের ১১৫তম মিনিট পর্যন্ত খেলার স্কোর গোলশূন্য। শেষ বাঁশি বাজার পাঁচ মিনিট আগে অ্যাটলেটিকোর ডি-বক্সের বেশ সামনে ফ্রি কিক পায় রিয়াল মাদ্রিদ। লুকা মদ্রিচের নেয়া শট প্রতিহত হলে প্রতি আক্রমণে যায় অ্যাটলেটিকো। দলটির স্প্যানিশ স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতা বল পেয়ে এক ছুটে পেছনে ফেলেন রিয়ালের ডিফেন্ডারদেরকে। সামনে শুধু গোলরক্ষক থিয়াবো কর্তোয়া। তাকে ফাঁকি দিতে পারলে নতুন ফরম্যাটের প্রথম সুপার কাপ অ্যাটলেটিকোর। প্রাণপনে চেষ্টা করে মোরাতাকে ধরতে না পেরে আঘাত করে নিশ্চিত গোল হতে রিয়ালকে বাঁচান ভালভার্দে।

রেফারি হোসে সানচেজ লাল কার্ড দেখালে কোনো প্রতিবাদ ছাড়া মাঠ ছাড়েন দক্ষিণ আমেরিকান এ ফুটবলার। পরবর্তীতে ট্রাইবেকারে ৪-১ গোলে জিতে সুপার কাপের শিরোপার স্বাদ নেয় রিয়াল। আর লাল কার্ড পাওয়া ভালভার্দে নির্বাচিত হন ম্যাচ সেরা। ম্যাচ শেষে ভালভার্দে বলেন, ‘আমি জানি এটা উচিত হয়নি। কিন্তু এছাড়া আমার হাতে আর কোনো উপায় ছিল না। খেলা শেষে আমি মোরাতার কাছে গিয়ে ক্ষমা চেয়েছি।’

নিশ্চিত লাল কার্ড পাবেন জেনেও কেন এমন ফাউল করা। এ নিয়ে ২১ বছর বয়সী ভালভার্দে বলেন, ‘আমি দলের জন্য এটি করেছি। চ্যাম্পিয়ন হওয়ার জন্যই আমরা এত কষ্ট করি। শেষ পর্যন্ত খুশি যে, আমরা শিরোপা জিততে পেরেছি। ’ খুব শীঘ্রই প্রথমবারের মতো পিতৃত্বের স্বাদ পেতে যাচ্ছেন, এর সঙ্গে শিরোপার স্বাদ। সবমিলিয়ে দারুণ সময় কাটাচ্ছেন জানিয়ে ভালভার্দে বলেন, ‘আমি এখন প্রতিটা সময় খুব উপভোগ করছি। দলের সঙ্গে শিরোপা জেতার পাশাপাশি খুব শীঘ্রই আমি বাবা হতে যাচ্ছি। দারুণ ভালো মুহূর্ত যাচ্ছে আমার। আমি এসব উপভোগ করতে চাই।’

লাল কার্ড পেয়ে ড্রেসিং রুমের পথে যাওয়ার সময় অ্যাটলেটিকোর কোচ ডিয়েগো সিমিওনে এগিয়ে এসে পিঠ চাপড়ে দেন ভালভার্দের। ম্যাচ শেষে এই উরুগুইয়ানের প্রশংসা করে আর্জেন্টাইন সিমিওনে বলেন, ‘এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত ছিল তার জন্য। আমি তাকে বলেছি, তোমার জায়গায় অন্য কেউ হলেও একই কাজ করতো। আমি মনে করি, ম্যাচের সেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার তার প্রাপ্য। কারণ, ম্যাচটি সে জিতিয়েছে। মোরাতাকে ওভাবে না আটকালে গোলটা হতে পারতো।’

রিয়াল কোচ জিনেদিন জিদানও প্রশংসায় ভাসিয়েছেন শিষ্য ফেডে ভালভার্দেকে, ‘আমি তাকে নিয়ে খুশি। সে তার কাজটা করেছে। ম্যাচের সেরা হয়েছে। এখন সতীর্থদের সঙ্গে শিরোপার আনন্দ ভাগাভাগি করার সময়। তবে সবচেয়ে দারুণ ব্যাপার হচ্ছে, সে মোরাতার কাছে ক্ষমা চেয়েছে।’

নতুন ফরম্যাটে নতুন ভেন্যুতে সুপার কাপের প্রথম শিরোপা এলো রিয়াল মাদ্রিদের হাতে। যারা লা লিগার সেরা দুইয়ে ছিল না। ওঠেনি কোপা ডেল রে’র ফাইনালেও। বার্সেলোনা দুই জায়গায় থাকা সুযোগ মিলে রিয়ালের। আর জয় এসেছে ভালভার্দের লাল কার্ডের বদান্যতায়। চলতি বছর সৌভাগ্যের শিরোপা নিয়ে শুরু করলো লস ব্লাঙ্কোসরা।


জুমবাংলানিউজ/এসআর




আপনি আরও যা পড়তে পারেন


rocket

সর্বশেষ সংবাদ