রোজা ইসলামের একটি গুরুত্বপূর্ণ ইবাদত, যা আত্মসংযমের পাশাপাশি শারীরিক ও মানসিক শুদ্ধতারও অনুশীলন। তবে যাদের লো ব্লাড প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপের সমস্যা রয়েছে, তাদের জন্য দীর্ঘ সময় না খেয়ে ও পানি ছাড়া থাকা কিছুটা কঠিন হতে পারে। তবুও সঠিক খাদ্যাভ্যাস, পর্যাপ্ত পানি পান এবং নিয়মতান্ত্রিক জীবনযাপন অনুসরণ করলে লো প্রেসার থাকলেও নিরাপদভাবে রোজা রাখা সম্ভব।

লো প্রেসার কী এবং কেন সমস্যা বাড়ে
লো প্রেসার বা নিম্ন রক্তচাপ হলে শরীরে রক্তচাপ স্বাভাবিক মাত্রার তুলনায় কম থাকে। এর ফলে মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, অতিরিক্ত ক্লান্তি কিংবা অজ্ঞান হয়ে যাওয়ার মতো উপসর্গ দেখা দিতে পারে। রোজার সময় দীর্ঘক্ষণ খাবার ও পানি গ্রহণ না করায় শরীরে পানিশূন্যতা এবং লবণের ঘাটতি তৈরি হতে পারে, যা লো প্রেসারের সমস্যা আরও বাড়িয়ে দেয়।
সেহরিতে যা খাবেন
লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণে রাখতে সেহরির খাবার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এমন খাবার নির্বাচন করা উচিত, যা দীর্ঘ সময় শক্তি জোগাবে এবং শরীরে পানি ধরে রাখতে সাহায্য করবে। ভাত বা রুটি, ডাল, ডিম, দই, সবজি ও ফল সেহরির জন্য উপযোগী খাবার।
সেহরিতে পর্যাপ্ত পানি পান করা জরুরি। পাশাপাশি অল্প পরিমাণ লবণযুক্ত খাবার রাখা যেতে পারে, কারণ সোডিয়াম শরীরে তরল ধরে রাখতে সহায়তা করে। তবে অতিরিক্ত লবণ গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকাই ভালো।
ইফতারে কিভাবে ভারসাম্য রাখবেন
ইফতারে খেজুর ও পানি দিয়ে রোজা ভাঙার পর হালকা খাবার দিয়ে শুরু করা ভালো। স্যুপ, ফল বা শরবত খাওয়ার পর ধীরে ধীরে মূল খাবার গ্রহণ করলে হঠাৎ রক্তচাপ ওঠানামার ঝুঁকি কমে।
ভাজাপোড়া ও অতিরিক্ত মিষ্টি খাবার কম খাওয়াই উত্তম, কারণ এসব খাবার দ্রুত দুর্বলতা বাড়াতে পারে এবং শরীরে অস্বস্তি তৈরি করতে পারে।
পানি ও ইলেকট্রোলাইটের গুরুত্ব
লো প্রেসার রোগীদের জন্য ইফতার থেকে সেহরি পর্যন্ত পর্যাপ্ত পানি পান অত্যন্ত জরুরি। পর্যাপ্ত পানি শরীরকে পানিশূন্যতা থেকে রক্ষা করে এবং রক্তচাপ স্বাভাবিক রাখতে সহায়তা করে।
ডাবের পানি, লেবুর শরবত বা ওরাল স্যালাইন জাতীয় পানীয় শরীরে ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য বজায় রাখতে সাহায্য করে। এতে মাথা ঘোরা ও দুর্বলতা কম অনুভূত হয়।
জীবনযাপনে যে সতর্কতা প্রয়োজন
রোজার সময় হঠাৎ দাঁড়িয়ে পড়া বা দীর্ঘ সময় রোদে অবস্থান করা এড়িয়ে চলা উচিত। এতে হঠাৎ রক্তচাপ কমে যাওয়ার ঝুঁকি থাকে।
পর্যাপ্ত বিশ্রাম নেওয়া, ধীরে ধীরে কাজ করা এবং ভারী ব্যায়াম থেকে বিরত থাকা লো প্রেসার নিয়ন্ত্রণে সহায়ক। প্রয়োজনে দুপুরে অল্প সময় বিশ্রাম বা ঘুম শরীরকে সতেজ রাখতে সাহায্য করে।
কখন রোজা ভাঙা জরুরি
রোজা অবস্থায় যদি মাথা ঘোরা, অজ্ঞান ভাব, তীব্র দুর্বলতা বা বুক ধড়ফড়ের মতো উপসর্গ দেখা দেয়, তাহলে দেরি না করে রোজা ভেঙে পানি বা খাবার গ্রহণ করা উচিত। কারণ সুস্থতা বজায় রাখা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
চিকিৎসকের পরামর্শ কেন গুরুত্বপূর্ণ
যাদের দীর্ঘদিন ধরে লো প্রেসারের সমস্যা রয়েছে বা নিয়মিত ওষুধ সেবন করতে হয়, তাদের রোজা শুরুর আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া উচিত। এতে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থার ভিত্তিতে নিরাপদভাবে রোজা পালনের পরিকল্পনা করা সহজ হয়।
সচেতনতা থাকলে রোজা নিরাপদ
দলীয় ব্যক্তি নিয়োগ জনগণের সঙ্গে সুস্পষ্ট প্রতারণার শামিল : জামায়াত
লো প্রেসার থাকলেও সচেতন জীবনযাপন, সুষম খাদ্যাভ্যাস এবং পর্যাপ্ত পানি গ্রহণের মাধ্যমে নিরাপদে রোজা রাখা সম্ভব। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো শরীরের সংকেত বোঝা এবং প্রয়োজন হলে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া।
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


