রাশিয়ার সঙ্গে শান্তি চুক্তি হলে ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনের বিষয়ে সমঝোতায় পৌঁছেছে যুক্তরাজ্য ও ফ্রান্স। প্যারিসে ইউক্রেনের মিত্র দেশগুলোর বৈঠক শেষে এ তথ্য জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার।

তিনি বলেন, শান্তি চুক্তির পর ইউক্রেনে সেনা মোতায়েনের লক্ষ্যে দুই দেশ একটি ঘোষণাপত্রে স্বাক্ষর করেছে। এর আওতায় ইউক্রেনজুড়ে সামরিক ঘাঁটি স্থাপন করা হবে, যাতে ভবিষ্যতে রাশিয়ার নতুন কোনো আগ্রাসন প্রতিহত করা যায়। ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল মাখোঁ পরে জানান, প্রয়োজনে হাজার হাজার সেনা পাঠানো হতে পারে।
প্যারিসের বৈঠকে অংশ নেওয়া মিত্র দেশগুলো ইউক্রেনের জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তার বিষয়ে একমত হয়েছে। একই সঙ্গে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি কার্যকর ও পর্যবেক্ষণে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বের প্রস্তাবেও সমর্থন দেওয়া হয়েছে। তবে ইউক্রেনের কোন কোন এলাকা নিয়ে সমঝোতা হবে, সে বিষয়টি এখনো আলোচনায় রয়েছে।
রাশিয়া আগেই সতর্ক করে বলেছে, ইউক্রেনে বিদেশি সেনা উপস্থিত থাকলে তারা বৈধ সামরিক লক্ষ্য হিসেবে বিবেচিত হবে। মস্কো এখনো প্যারিসের ঘোষণার বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরু করে রাশিয়া। বর্তমানে দেশটির প্রায় ২০ শতাংশ এলাকা রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। মঙ্গলবার প্যারিসে অনুষ্ঠিত বৈঠকে ‘কোয়ালিশন অব দ্য উইলিং’-এর রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশ নেন।
যৌথ সংবাদ সম্মেলনে কিয়ার স্টারমার বলেন, এই সিদ্ধান্ত ইউক্রেনের পাশে দীর্ঘমেয়াদে থাকার অঙ্গীকারের অংশ। এর মাধ্যমে ব্রিটিশ, ফরাসি ও অংশীদার বাহিনীর জন্য ইউক্রেনের মাটিতে কাজ করার আইনি কাঠামো তৈরি হবে, যা ইউক্রেনের আকাশ ও সমুদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে এবং ভবিষ্যতের জন্য দেশটির সশস্ত্র বাহিনী পুনর্গঠনে সহায়তা করবে।
তিনি আরও জানান, যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বে যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ কার্যক্রমে যুক্তরাজ্য অংশ নেবে। যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ আলোচক স্টিভ উইটকফ বলেন, স্থায়ী শান্তির জন্য শক্তিশালী নিরাপত্তা নিশ্চয়তা ও অর্থনৈতিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি জরুরি।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বৈঠককে ‘বড় অগ্রগতি’ হিসেবে উল্লেখ করলেও বলেন, যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ না হলে এসব উদ্যোগকে চূড়ান্ত সাফল্য বলা যাবে না। তিনি স্বীকার করেন, শান্তি প্রক্রিয়ায় রাশিয়ার সম্মতি ছাড়া বাস্তব অগ্রগতি সম্ভব নয়।
ইউক্রেনের দখলকৃত ভূখণ্ড এবং নিরাপত্তা নিশ্চয়তা নিয়ে আলোচনা এখনো সবচেয়ে জটিল ইস্যু হিসেবে রয়ে গেছে। জেলেনস্কি জানিয়েছেন, শান্তি চুক্তির প্রায় ৯০ শতাংশ প্রস্তুত, বাকি অংশের সিদ্ধান্তই ইউক্রেন ও ইউরোপের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।
সূত্র: বিবিসি
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


