in

শেষ হলো বিএনপির তিন দিনব্যাপী সাংগঠনিক বৈঠক


জুমবাংলা ডেস্ক : রাজধানীর গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে তিন দিনব্যাপী দলের সাংগঠনিক বৈঠক শেষ হয়েছে। বৈঠকে বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বিএনপির করণীয় ও সাংগঠনিক বিষয়ে মতামত গ্রহণ করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।

বৃহস্পতিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল সাড়ে তিনটায় শুরু হয় বৈঠক। এতে অংশ নেন নীতিনির্ধারণী পর্যায় থেকে শুরু করে অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের নেতারা।

বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল বলেন, বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে কি করণীয় সে বিষয়ে আমাদের আলোচনা হয়েছে। সাংগঠনিক বিষয়ে মতামত গ্রহণ করা হয়েছে। জেলা উপজেলার নেতারা ও নির্বাহী কমিটির সঙ্গে বৈঠকের পর পেশাজীবীদের সঙ্গেও বৈঠক করা হবে।

তিনি আরও বলেন, শনিবার স্থায়ী কমিটির বৈঠকের পর রোববার (১৯ সেপ্টেম্বর) সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানানো হবে।

এদিকে বুধবার (১৫ সেপ্টেম্বর) দ্বিতীয় দিনের রুদ্ধদ্বার বৈঠক হয় রাজধানীর গুলশানে দলের চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে। এ সময় নেতারা দলটির হাইকমান্ডের কাছে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, আলোচনার টেবিলে অনেক বড় বড় কথা বলেন দলের শীর্ষ নেতারা, কিন্তু আন্দোলন-সংগ্রাম-কর্মসূচিতে তাদের মাঠে পাওয়া যায় না। এমনকি আগে যেমন বিভাগীয় পর্যায়ে বড় সমাবেশ হতো কিন্তু এখন বিএনপির আন্দোলন বা কর্মসূচি প্রেসক্লাব নির্ভর হয়ে গেছে।

রুদ্ধদ্বার এ সিরিজ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক, সম্পাদক, সহ-সম্পাদক, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব ও যুগ্ম মহাসচিব পর্যায়ের নেতারা।

ঢাকায় তৃণমূলের নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ না হওয়ার কথা উল্লেখ করে নেতারা অভিযোগ করে বলেন, কারও এলাকা মোহাম্মদপুর কিন্তু তারা থাকেন মহাখালী। কেউ আবার কাটাবনে নিজ এলাকা রেখে থাকেন উত্তরা। এসব কারণে তৃণমূল নেতাদের সঙ্গে অনেক সময় যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না।

এছাড়া আলোচনায় উঠে আসে আগামী দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রস্তুতি, সংগঠন পুনর্গঠন ও আগামী আন্দোলনের কর্মকৌশল কী হবে এসব বিষয়।

এসময় নেতারা বর্তমান সরকারের অধীনে নির্বাচনে না যাওয়ার পক্ষে হাইকমান্ডের কাছে মতামত তুলে ধরেছেন বলে জানা গেছে। এমনকি দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের সময় নির্বাচনকালীন সরকার কেমন হবে এবং সেই সরকারের অধীনে বিএনপি অংশ নেবে কিনা; সেসব বিষয় উঠে আসে তাদের বক্তব্যে। একই সঙ্গে নির্বাচনকালীন নির্দলীয় সরকার এবং নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের দাবি আদায়ে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পরামর্শও দিয়েছেন তারা।

তবে সবকিছুর আগে দলীয় প্রধান বেগম জিয়ার মুক্তির বিষয়টি জোর তাগিদ দিয়েছেন। সেক্ষেত্রে আন্দোলনের বিকল্প নেই বলেও মতামত তুলে ধরেন নেতারা।