শ্বশুরের অপমানে শ্যালককে হত্যা

জুমবাংলা ডেস্ক : যশোরে চৌগাছায় পাটক্ষেত থেকে উদ্ধার হওয়া এহতেশাম মাহমুদ রাতুলকে হত্যার রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে ডিবি পুলিশ। প্রেম করে বিয়ে করায় মেনে না নিয়ে শ্বশুর অপমান করায় সেই ক্ষোভ থেকে শ্যালক রাতুলকে হত্যা করেন শিশির আহম্মেদ।

পূর্বপরিকল্পনা অনুয়ায়ী শ্যালক রাতুলকে পাটক্ষেতে ডেকে নিয়ে কোমল পানির সঙ্গে ঘুমের ওষুধ মিশিয়ে অজ্ঞান করে মুখে স্কচ টেপ মুড়িয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করেন তার দুলাভাই শিশির। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে তিনি হত্যার কথা স্বীকার করেছেন।

শুক্রবার দুপুরে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন বন্দর থানা এলাকায় অভিযান চালিয়ে শিশিরকে আটক করে পুলিশ। শিশির ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুরের হায়দার আলী মন্ডলের ছেলে। নিহত রাতুল ঝিনাইদহের মহেশপুর থানার বাজিতপুর গ্রামের মহিউদ্দিনের একমাত্র ছেলে।

শনিবার দুপুরে ডিবি কার্যালয়ে সাংবাদিক সম্মেলনে জেলা গোয়েন্দা শাখার অফিসার ইনচার্জ রূপন কুমার এসব তথ্য জানান।

তিনি বলেন, গত সোমবার বিকেলে যশোরের চৌগাছা লস্করপুরে পাটক্ষেতের মধ্যে মুখে স্কচ টেপ মোড়ানো যে মৃতদেহটি পাওয়া যায়; সেটি ঝিনাইদহ জেলার মহেশপুরের বাজিতপুর গ্রামের মহিউদ্দিনের ছেলে এহতেশাম মাহমুদ রাতুলের। সে মহেশপুর সামবাজার এমপিবি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির ছাত্র। এই হত্যাকাণ্ডের কোনো ক্লু ছিল না। হত্যার এক দিন পর রাতুলের লাশ পাওয় যায়। তার বাবা মহিউদ্দিন গত মঙ্গলবার চৌগাছা থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলা তদন্তের দায়িত্ব পান যশোরের ডিবি পুলিশের এসআই শামীম হাসান। তিনি তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার করে শুক্রবার চট্টগ্রাম থেকে হত্যার জড়িত শিশিরকে আটক করেন।

রাতুলের পিতা মহিউদ্দিন বলেন, শিশিরের সঙ্গে রাতুলের বড়বোন মাহমুদা মমতাজ মীমের সঙ্গে ফেসবুকে পরিচয় হয়। আট মাস আগে তারা ঢাকায় পালিয়ে গিয়ে বিয়ে করে। এরপর থেকেই সে যৌতুকের দাবি করতে থাকে। কিন্তু আমরা তাকে বারবার বলি, আমরা এখনও যৌথ পরিবারে বসবাস করি। তাই তুমি নিজে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার চেষ্টা করো। আমাদের কাছ থেকে কিছু পেতে হলে, কিছুটা সময় লাগবে। সে ঢাকায় সিকিউরিটি গার্ডের কাজ করতো। কিন্তু তার লোভ-লালসা ছিল খুব বেশি। আট মাস পর প্রথম বারের মতো মেয়ে মাহমুদাকে নিয়ে আমাদের বাড়িতে আসে। তার সঙ্গে কিছু কথা হয়। এক পর্যায়ে সে কৌশলে রাতুলকে বাড়ি থেকে ডেকে নিয়ে যায়। সেই থেকে তার মোবাইল বন্ধ ছিল। ফেসবুক ও অনলাইন পত্রিকার মাধ্যমে জানতে পারি, রাতুলের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শামীম হাসান বলেন, রাতুলকে হত্যায় ব্যবহূত স্কচ টেপ ও হ্যান্ডগ্লাভস শিশিরের বাড়ি থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।


জুমবাংলানিউজ/এসআর