লিভারপুর শহরের সংগীত জগতের পরিচিত ও প্রিয় মুখ সংগীতশিল্পী ক্রিস ক্যালান্ডার আর নেই। হায়ার বেবিংটনের বাসিন্দা ৫৫ বছর বয়সী এই শিল্পী নতুন বছরের প্রথম দিনে নিজ বাড়িতে মৃত্যুবরণ করেন। তার আকস্মিক মৃত্যুতে পরিবার, বন্ধু এবং লিভারপুলের সংগীত সমাজে নেমে এসেছে গভীর শোক।

লিভারপুল অ্যাকুস্টিক এবং দ্য ক্যাভার্ন পাবের ‘দ্য মানডে ক্লাব’-এর মাধ্যমে ক্রিস ক্যালান্ডার শহরের সংগীতাঙ্গনে ব্যাপক পরিচিতি লাভ করেন। তিনি ছিলেন একজন মেধাবী ও নিবেদিতপ্রাণ সংগীতশিল্পী, যাকে সহকর্মীরা বর্ণনা করেছেন ‘অত্যন্ত ভদ্র, স্নেহশীল এবং সবসময় হাসিমুখে থাকা একজন মানুষ’ হিসেবে।
ক্রিসের বোন প্রেন্টনের বাসিন্দা অ্যান শেরিডান জানান, ‘ক্রিস নতুন বছরের দিনে নিজ বাড়িতে শান্তিতে মারা গেছেন। এই খবর আমাদের পরিবার ও বন্ধুদের জন্য এক ভয়াবহ ধাক্কা।’
ভাইয়ের স্মৃতিচারণ করে অ্যান বলেন, ‘ক্রিস সংগীত আর লেখালেখি খুব ভালোবাসত। নিজ চেষ্টায় গিটার ও পিয়ানো শিখেছিল। সে ছিল বুদ্ধিমান, শান্ত স্বভাবের এবং অসাধারণ শ্রোতা। সবার জন্য তার সময় ছিল। পরিবার ও বন্ধুদের সে ভীষণ ভালোবাসত। সে ছিল একজন আদর্শ ভাই।’
তিনি আরও বলেন, ‘লিভারপুল অ্যাকুস্টিকের মানুষগুলোকে সে ভীষণ ভালোবাসত। ভ্রমণ তার খুব পছন্দ ছিল। সামনে স্কিইংয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও করছিল।’
দ্য ক্যাভার্ন পাবের সাপ্তাহিক ওপেন-মাইক আয়োজন ‘দ্য মানডে ক্লাব’-এর নিয়মিত মুখ ছিলেন ক্রিস ক্যালান্ডার। গত ১৫ বছর ধরে চলা এই আয়োজন মার্সিসাইডের নবীন ও স্বতন্ত্র সংগীতশিল্পীদের নিজস্ব গান পরিবেশনের সুযোগ করে দিচ্ছে। ক্লাবটির সঞ্চালক, এলসমিয়ার পোর্টে জন্ম নেওয়া সংগীতশিল্পী ইয়ান প্রাউজ জানান, ক্লাবটির সাফল্যের পেছনে ক্রিসের ভূমিকা ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
ইয়ান বলেন, ‘প্রথম রাতেই ক্রিস এসে নিজের লেখা গান গেয়েছিল। সেদিনই আমরা বুঝে গিয়েছিলাম—এই আয়োজনটা সফল হবে। এরপর সে বছরে কয়েকবার নিয়মিত আসত এবং কার্যত ক্লাবটির অন্যতম প্রতিষ্ঠাতার মতো হয়ে উঠেছিল।’
ক্রিসের সংগীত প্রতিভা সম্পর্কে ইয়ান বলেন, ‘সে যেকোনো ধরনের গান গাইতে পারত—ধীর কিংবা দ্রুত। তার কণ্ঠ আর গানের ধরন ছিল একেবারেই আলাদা। ক্লাবে তার মতো আর কেউ ছিল না।’
ক্রিসের মৃত্যুকে ‘সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত’ উল্লেখ করে ইয়ান জানান, তার স্মরণে একটি বিশেষ মানডে ক্লাব আয়োজন করা হয় এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শত শত মানুষ শোকবার্তা জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবাই হতভম্ব হয়ে গিয়েছিলাম। এরপর সিদ্ধান্ত নিই, তাকে সম্মান জানিয়ে একটি বিশেষ অনুষ্ঠান করব। সে ছিল সত্যিই অসাধারণ একজন মানুষ।’
ক্রিস ক্যালান্ডারের স্মরণে একটি তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রমও শুরু হয়েছে। সংগৃহীত অর্থ প্রদান করা হবে রয়্যাল লিভারপুল ফিলহারমোনিক অর্কেস্ট্রার কমিউনিটি উদ্যোগ ‘হারমনি লিভারপুল ফিলহারমোনিক’-এ, যা উত্তর লিভারপুলের শিশু ও পরিবারগুলোর জন্য বিনামূল্যে অর্কেস্ট্রাল সংগীত শিক্ষা প্রদান করে।
অস্ট্রেলিয়ায় দাবানলে ঘরবাড়ি পুড়েছে, বিদ্যুৎহীন হাজারো মানুষ
অ্যান শেরিডান জানান, এই উদ্যোগের লক্ষ্য ক্রিসের জীবনের অভিজ্ঞতার সঙ্গে গভীরভাবে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘শৈশবে ক্রিস উইরালে একটি যুব থিয়েটারের সঙ্গে যুক্ত ছিল। সেখানেই সে অভিনয় শিখেছিল এবং আজীবনের বন্ধু তৈরি করেছিল। সেই অভিজ্ঞতাই তার জীবন গড়ে দিয়েছিল।’
সূত্র: লিভারপুল ইকো
জুমবাংলা নিউজ সবার আগে পেতে Follow করুন জুমবাংলা গুগল নিউজ, জুমবাংলা টুইটার , জুমবাংলা ফেসবুক, জুমবাংলা টেলিগ্রাম এবং সাবস্ক্রাইব করুন জুমবাংলা ইউটিউব চ্যানেলে।


