Advertisement
জুমবাংলা ডেস্ক : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আগুনে পোড়া কারখানার ধ্বংসস্তূপ এ পর্যন্ত উদ্ধার হয়েছে ৫২টি মরদেহ। অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অধিকাংশ মরদেহই কারখানার দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ তলা থেকে উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। ছয়তলা কারখানা ভবনের উপরের দুই ফ্লোরে এখনও আগুন জ্বলছে। আগুন নেভানোর কাজ চলছে এখনও। ধ্বংসস্তূপে তল্লাশিও এখনও শেষ হয়নি।

রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ নুসরাত জাহান জানিয়েছেন, কারখানাটি থেকে মরদেহগুলো বের করা হচ্ছে। এখনও চূড়ান্তভাবে বলা যাচ্ছে না, ঠিক কতজন মারা গেছেন।

এ ঘটনায় নিখোঁজ শ্রমিকদের মধ্যে রয়েছে কিশোরগঞ্জের কটিয়াদী উপজেলার ১৬ বছরের কিশোরী তাসলিমা। অগ্নিকাণ্ডের দীর্ঘ সময় পরও তাসলিমার মা ফিরোজা নিখোঁজ মেয়েকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আশা ছেড়ে দিয়েছেন।

শুক্রবার (৯ জুলাই) সারাদিন কারখানার সামনে নিখোঁজ স্বজনদের সাথে ফিরোজাও তৃষ্ণার্ত চাতকের মতো আগুনে পোড়া ধ্বংসস্তূপে তাকিয়ে পার করেছেন। ফিরোজা বেগম সন্তানকে হারিয়ে পাগল প্রায়। যে কোনো উপায়ে অন্তত সন্তানের লাশটুকু ফিরে পাওয়ার আকুতি জানাচ্ছিলেন তিনি।

এ সময় ঘটনাস্থলে আসা পুলিশের এক কর্মকর্তার পা জড়িয়ে ধরে বার বার অনুরোধ করে তিনি বলেন, ‘স্যার, আমার মায়ের হাড্ডিগুলো খুইজ্জা দেন‘। তার এমন বুক ফাঁটা আর্তনাদে সূর্যও ক্ষণিকের জন্য মুখ লুকোয়।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নিখোঁজ তাসলিমার জন্ম কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে। দিনমজুর বাবার অভাবের সংসার ঘোচাতে পাঁচ বছর আগে হাসেম ফুডের কারখানাটিতে কাজ নেয় তাসলিমা। মা-মেয়ে দু‘জনই এই কারখানার শ্রমিক। মেয়ের আগে থেকেই কারখানার দোতলায় টোস্টশ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন মা ফিরোজা বেগম। গতকাল আগুন লাগার সময়েও তারা দু‘জন কারখানাটির আলাদা দুটি তলায় কাজ করছিলেন।

ফিরোজা জানায়, কারখানায় আগুন লাগার পর কারখানার দোতলা থেকে লাফিয়ে পড়েছিলেন তিনি। তখনই হুশ ফেরে তার। কারখানার চারতলায় আটকেপড়া মেয়ে তাসলিমার কথা মনে পড়ে। ছুটে যেতে চান কারখানার চারতলায়। কিন্তু কারখানার নিচের ফটক বন্ধ পেয়ে হালিমার আর কারখানার ভেতরে যাওয়া হয় না।

এদিকে নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আগুনে পোড়া কারখানার ধ্বংসস্তূপ থেকে এখন পর্যন্ত ৫২টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এরমধ্যে ৪৯ জনের মরদেহ নিয়ে আসা হয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মর্গে। সব মরদেহই পুলিশি পাহারায় আনা হয় বলে জানিয়েছেন ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স নারায়ণগঞ্জ অফিসের উপ-সহকারী পরিচালক আব্দুল্লাহ আল আরেফীন।

ফায়ার সার্ভিসের কর্মকর্তারা জানান, আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার পর ছয়তলা ভবনের চতুর্থ তলা পর্যন্ত প্রবেশ করা গেছে। সেখান থেকেই এতগুলো মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ছয়তলা কারখানা ভবনের উপরের দুই ফ্লোরে এখনও আগুন জ্বলছে। আগুন নেভানোর কাজ চলছে এখনও। ধ্বংসস্তূপে তল্লাশিও এখনও শেষ হয়নি।

এদিকে ঢাকা মেডিকেলে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা নিয়েছেন নয়জন। এর মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা গেছেন মোরসালিন (২৮) নামের একজন। আর হাসপাতাল থেকে চিকিৎসা নিয়ে ফিরে গেছেন বারেক (৪৮), নাহিদ (২৪), মঞ্জুরুল (২৮), আহাদ (৩৮), লিটন (৪৪)। এছাড়া এখনও চিকিৎসাধীন তিনজন হলেন হালিমা (১৩), মাজেদা (২৮) ও আমেনা (৪০)।

এদিকে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ভবনে আটকাপড়ে নিখোঁজ হওয়া শ্রমিকদের উদ্ধারে দেরি হওয়ায় পুলিশ ও সাংবাদিকদের ওপর দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে বিক্ষুব্ধ শ্রমিকরা। শুক্রবার বেলা ১১টার থেকে থেকে সাড়ে ১১টায় পর্যন্ত প্রায় আধা ঘণ্টা এলাকা রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। পুলিশের ওপর এলোপাতাড়ি ইট-পাটকেল নিক্ষেপসহ ধাওয়া-পাল্টার ঘটনা ঘটে। পরে অতিরিক্ত পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
সংঘর্ষ চলাকালে কারখানার প্রধান ফটকের সামনে আনসার ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে তিনটি শর্টগান লুট করে। পরে দুটি উদ্ধার হলেও একটি এখনও উদ্ধার হয়নি।

রূপগঞ্জের সজীব গ্রুপের অঙ্গপ্রতিষ্ঠান হাসেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজের সেজান জুস কারখানার অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ শামীম বেপারীকে আহ্বায়ক করে পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। অন্যরা হলেন- রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহ নুসরাত জাহান, জেলার ফায়ার সার্ভিসের উপসহকারী পরিচালক আবদুল্লাহ আল আরেফিন, পুলিশের একজন প্রতিনিধি এবং কলকারখানা অধিদপ্তরের জেলার একজন কর্মকর্তা।

Zoom Bangla News
Zoom Bangla News
inews.zoombangla.com
Follow

Follow Zoom Bangla News On Google

Open the Google follow page and tap the checkmark option to receive more updates from Zoom Bangla News in your Google news feed.

Follow Zoom Bangla News On Google

Saiful Islam is a journalist at Zoom Bangla News with seven years of experience in news writing and editorial work. He contributes to producing accurate, well-structured, and reader-focused content across digital platforms. His work reflects a strong commitment to editorial standards and responsible journalism.